ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

অপ্রতিম হত্যা: নিখোঁজ থেকে মরদেহ উদ্ধার, এখন পর্যন্ত যা যা ঘটল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
অপ্রতিম। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ কুমিল্লা। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থেকেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

যেভাবে নিখোঁজ অপ্রতিম

শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি সে। রাত পর্যন্ত ছেলের সন্ধান না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। একই সঙ্গে ছেলে নিখোঁজের খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম।

পরে ‘মুন অ্যালার্ট’-এর মাধ্যমে অপ্রতিমের ছবি ও নিখোঁজের তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরাও অপ্রতিমের সন্ধান চেয়ে ব্যাপকভাবে পোস্ট দিতে থাকেন।

শেষবার ফোনের অবস্থান

অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ফোনটির অবস্থান কুমিল্লার গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা যায়। এরপর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে সাইফুল ইসলাম তুহিন নামে এক তরুণকে দেখা যায়।

জঙ্গল থেকে উদ্ধার মরদেহ

শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গলে বাঁশ কাটতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন একটি শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন।

পরে কাছে গিয়ে তারা শিশুটির মাথার দিকে রক্ত দেখতে পান। ভয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে স্থানীয় মামুন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের সন্তান নিখোঁজ থাকার খবর জানতে পারেন জিলানী। এরপর তিনি মামুনকে সঙ্গে নিয়ে আবার ঘটনাস্থলে যান এবং পড়ে থাকা শিশুটিই অপ্রতিম বলে শনাক্ত করেন। বেলা একটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সিসিটিভি ফুটেজে তুহিন, এরপর একে একে আটক

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রথমে সাইফুল ইসলাম তুহিনকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার করা হয়।

পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই কিশোর এবং মো. সিয়াম নামে এক কলেজছাত্রকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), কামরুল হাসান (১৫), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৬) ও মো. সিয়াম (১৯)।

পুলিশ জানিয়েছে, তুহিন ও অপর দুই কিশোরের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। সিয়ামের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

পুলিশের ভাষ্যে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা

রোববার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে শালবন এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন স্থানে তিনজন অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে সঙ্গে থাকা দুই কিশোর বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তুহিন অপ্রতিমের আইফোনটি নিয়ে যায় বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে এবং আইফোনটি তুহিনের দেখানো মতে তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরিবারের প্রশ্ন আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে?

অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম বলেন, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমাকে জবাব দেন, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে?

এ সময় এমপি মনিরুল হক চৌধুরীও আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এর কোনো জবাব আমার কাছে নেই মা।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, একজন শিশুকে রক্ষা করতে না পারায় তিনি লজ্জিত ও দুঃখিত। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার কথাও জানান তিনি।

জানাজা ও দাফন

রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সহপাঠী ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন।

পরে কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টার দিকে গন্ধমতিতে বাসার পাশের কবরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়।

দ্বিতীয় জানাজার আগে ছেলে হারানোর বেদনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, অপ্রতিম দুই বছর বয়স থেকে এই এলাকায় বড় হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তাই তাদের কাছেই ছেলেকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

দাফনের পর তিনি বলেন, এখন তার একটাই দাবি সন্তান হত্যার উপযুক্ত বিচার।

তিনি বলেন, সামান্য একটা আইফোনের জন্য আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে এ কথা আমার মন কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না।

বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ

অপ্রতিম হত্যার বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে রোববার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজা শেষে মিছিল নিয়ে কোটবাড়ি বিশ্বরোডের নন্দনপুর এলাকায় যান তারা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কের উভয়মুখী লেনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

তারা হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান এবং ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। পরে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। এ সময় মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এ ছাড়া অপ্রতিম হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সংহতি জানান।

দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস

রোববার সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে হত্যাকাণ্ডের পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত উদ্ধারের জন্য পুলিশের প্রশংসা করতে হবে। অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশও জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এখন পরিবারের দাবি, তদন্ত দ্রুত শেষ করে হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।


আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাজেকে অবরোধ শিথিলের দিনে আরেক সংগঠনের অবরোধ
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সাজেক সড়কে তৃতীয় দফায় টানা ১০ দিনের অবরোধ শেষে রোববার (১ নভেম্বর) ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করে। 
সাজেকে অবরোধ শিথিলের দিনে আরেক সংগঠনের অবরোধ
কোটি টাকার মডেল মসজিদে নামাজ পড়েন না সাতজনও
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি অবস্থানগত কারণে প্রত্যাশিত জনসেবা দিতে পারছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 
কোটি টাকার মডেল মসজিদে নামাজ পড়েন না সাতজনও
শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
টাঙ্গাইলে সাড়ে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। 
শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িতের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্য ধরা
কুমিল্লায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোরদের একটি ভিডিওর সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্য ধরা
বন্ধ হতে বসেছিল পড়ালেখা, পুরো উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেলেন সেই আরাফাত
দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় অসুস্থ বাবাকে হারান মো. আরাফাত খান। এরপর পাঁচ সদস্যের পরিবারে নেমে আসে আর্থিক সংকট। এতে বন্ধ হতে বসেছিল পড়ালেখাও। এমন কঠিন সময়ে পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন বড় বোন মোসা. রুবি আক্তার। পোশাক কারখানায় কঠোর পরিশ্রম করে একদিকে পরিবারের খরচ চালিয়েছেন, অন্যদিকে ছোট ভাইয়ের পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন। বোনের সেই ত্যাগ আর নিজের অধ্যবসায়ের ফল পেয়েছেন আরাফাত। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ৮৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র তিনিই জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। আরাফাতের এই সাফল্যে আনন্দিত পরিবারের সদস্যরা। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আখতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও। তবে নিজের এই অর্জনের কৃতিত্ব বড় বোনকেই দিতে চান তিনি। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাজিতা চতুর্থ খণ্ড গ্রামের মৃত মো. ইসমাইল খানের ছেলে আরাফাত। বাবাকে হারানোর পর একসময় পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। পরিবারের আর্থিক অনিশ্চয়তা আর ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা তার স্বপ্নগুলোকে থমকে দিয়েছিল। কিন্তু বড় বোনের সাহস ও সহযোগিতা তাকে আবারও পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনে। আরাফাত বলেন, বাবাকে হারানোর পর তার জীবন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। মুহূর্তেই সব স্বপ্ন মাটিতে মিশে যায়। ভেবেছিলেন, তার আর লেখাপড়া হবে না। কিন্তু তখনই পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছেন তার বড় বোন মোসা. রুবি আক্তার। তার বড় বোনের আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম কখনো ভুলে যাওয়ার মতো নয়। বোনের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, পোশাক শ্রমিকের কঠিন কাজ করেও তার বড় বোন যেভাবে আগলে রেখেছেন, সেই ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারবেন না। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আরাফাত জানান, তার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। তবে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এ অবস্থায় নিজের স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী। এদিকে ছোট ভাইয়ের সাফল্যে আনন্দিত হলেও নিজের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন বড় বোন রুবি আক্তার। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের পাঁচ সদস্যের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয় তাকে। সংসারের খরচ জোগাতে যোগ দেন পোশাক কারখানায়। কঠোর পরিশ্রমের মধ্যেও ভাইয়ের পড়ালেখা বন্ধ হতে দেননি তিনি। রুবি আক্তার বলেন, বাবার মৃত্যুর পর এই সংসারের হাল তাকেই ধরতে হয়েছে। পরিবারের পাঁচ সদস্যের খরচ জোগাতে হচ্ছে। তাই পোশাক কারখানার মতো কঠিন কাজে যোগ দিয়ে চেষ্টা করেছেন সবার মুখে হাসি ফোটাতে। আরাফাত মেধাবী। তার জন্য তেমন কিছুই করতে পারেননি তিনি। প্রবল ইচ্ছাশক্তিই আরাফাতকে সাফল্য এনে দিয়েছে। বড় বোনের ত্যাগ আর নিজের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত এই ফলাফলে এখন আনন্দে ভাসছে আরাফাতের পরিবার। মির্জাগঞ্জ উপজেলার একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া এই শিক্ষার্থীর সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যেতে চান তিনি। আরটিভি/টিআর
বন্ধ হতে বসেছিল পড়ালেখা, পুরো উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেলেন সেই আরাফাত
আরও পড়ুন
অপ্রতিম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল, সর্বোচ্চ শাস্তি চায় পরিবার
অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে কুবিতে মানববন্ধন
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: ফাহাদ দাবিতে প্রকাশিত ছবি নিয়ে যা জানা যাচ্ছে