
ডাকাতির ঘটনায় নওগাঁ-রানীনগর-আত্রাই-নাটোর আঞ্চলিক সড়কে অভিযান চালিয়ে একটি ছিনতাইকারী ও ডাকাত চক্রের অন্যতম দুই হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ধারালো হাসুয়া ও লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর টানা ৪৮ ঘণ্টার এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে চার জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে রানীনগর-আবাদপুকুর সড়কের বেলঘড়িয়া বাজার এলাকায় নবীর খানের সেডের সামনে একটি নির্জন রাস্তায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলটি প্রথমে একজন হাঁস ব্যবসায়ী, এরপর একজন ভ্যানচালক এবং পরবর্তী সময়ে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চারজন আরোহীকে রামদা ও দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। ডাকাতেরা ভুক্তভোগীদের হত্যার হুমকি দিয়ে কয়েক হাজার টাকা এবং ৬ থেকে ৭টি মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নেয়।
ছিনতাইকারীদের হামলায় ভিকটিম হাবিবুর বাশার, সুজন, এরশাদ, সোহেল ও ফয়সাল সহ কয়েকজন আহত হন। একপর্যায়ে অপরাধীরা কয়েকজন ভিকটিমের পরনের কাপড় কেটে তা দিয়ে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই রানীনগর থানা পুলিশ, নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও স্পেশাল ফোর্সের সমন্বয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে ডিবি, রানীনগর থানা ও আত্রাই থানার সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর তথ্যপ্রযুক্তি ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে রানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং নওগাঁর বিভিন্ন স্থানে টানা ৪৮ ঘণ্টার অভিযান চালানো হয়। ২০ সেপ্টেম্বর টিমটি সাফল্য অর্জন করে এবং ডাকাত দলের দুই মূল সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে বাইরুল ওরফে বেলাল (৩৮), মো. নাহিদ হোসেন (২২) —
জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আসামিরা স্বীকার করেন যে, ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ও ভোররাতে দুই দফায় চারজন মিলে রানীনগর-আবাদপুকুর রোডে এসব ছিনতাই করে। এর আগেও তারা নওগাঁ-নাটোর সড়কে একাধিকবার ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালিয়েছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত একটি মোবাইলসহ একাধিক মোবাইল ফোন এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত ১টি ধারালো হাসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত বাইরুলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ৬টি মামলা রয়েছে। ১৭ মাস জেল খাটাক পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে সে আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। আসামিদের একজন নাহিদ হোসেন আজ বিকেলে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, নওগাঁ-রানীনগর-আত্রাই-নাটোর আঞ্চলিক সড়কে যেকোনো ধরনের ছিনতাই, দস্যুতা ও ডাকাতি দমনে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করা হবে। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে অপরাধীদের কঠোর হস্তে দমন করতে নওগাঁ জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।
আরটিভি/এমএইচজে



