ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

১৩ বছরের অপ্রতিমের সঙ্গে যেভাবে বন্ধুত্ব হয় ১৯ বছরের তুহিনের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা তুহিন। ছবি: সংগৃহীত

একটি আইফোন ছিনিয়ে নিতেই কুমিল্লার ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে—শুরুতে এমনটাই ধারণা করেছিল পুলিশ। কিন্তু তদন্ত যত এগোচ্ছে, সামনে আসছে পাঁচ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে ক্ষোভ, বয়সে বড়দের সঙ্গে অপ্রতিমের ‘অসম বন্ধুত্ব’ এবং টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভনের মতো নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের ভাষ্য, অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ১৭ প্রো-ম্যাক্সটি কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আলাদা স্বার্থ ও ক্ষোভও হত্যাকাণ্ডের পেছনে কাজ করে থাকতে পারে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা নিয়ে জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নেওয়া হয়। ফোন নিতে বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের করা হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ। তুহিন ছাড়া অন্য দুজন কিশোর। তাদের বাইরে আরও এক তরুণের সম্পৃক্ততাও যাচাই করা হচ্ছে।

ঘটনার দিন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অপ্রতিমকে বাসা থেকে বের করে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মোবাইলে খুদে বার্তার। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেদিন অপ্রতিমের ফোনে বারবার বার্তা পাঠাচ্ছিল তুহিন। তাকে বাসা থেকে বের হতে বলেছিল। একপর্যায়ে বলা হয়, অপ্রতিমের কাছে থাকা দামি আইফোনটি দিয়ে তারা টিকটকের জন্য ভিডিও বানাবে এবং ছবি তুলবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তুহিনের এমন কথায় শেষ পর্যন্ত রাজি হয় অপ্রতিম। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় সে। পরিবারও আগে জানিয়েছিল, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে মায়ের ফোনটি নিয়ে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি।

পুলিশের ভাষ্য, শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিটের মধ্যে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয়। এরপর বিভিন্ন এলাকার অন্তত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরায় তাদের গতিবিধি ধরা পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, অপ্রতিম ও তুহিন পাশাপাশি হাঁটছে, কথা বলছে। তাদের আচরণ ছিল স্বাভাবিক। একটি ফুটেজে তাদের পেছনে আরও দুজনকে যেতে দেখা গেছে। অন্য একটি ফুটেজে চারজনকেই দেখা যায় একসঙ্গে।

অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, মূল সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে কাঁচা রাস্তা দিয়ে সেখানে যেতে হয়। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিম ও তুহিনকে হেঁটে পাহাড়ের দিকে যেতে দেখা গেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, পরে সেখানে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় আরও দুই কিশোর।


পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শুক্রবার বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে অপ্রতিমের কাছ থেকে ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সে বাধা দিলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। তুহিন প্রথমে বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। পরে অন্যরাও তাকে আঘাত করে। অপ্রতিমের মৃত্যু হলে তার ফোনটি নিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিয়াম নামের আরেক তরুণ ঘটনাস্থলে ছিল না বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে ঘটনার সময় তিনি আশপাশে থেকে পাহারা দেওয়ার মতো কোনও ভূমিকা পালন করেছিল কিনা, তা যাচাই করছে পুলিশ।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এলাকাটি বেশ নির্জন। এ কারণে বাইরে থেকে সহজে সেখানে কী ঘটছে, তা বোঝার সুযোগ কম।

অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি আরও কিছু ক্ষত পাওয়া যায়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এর কিছু ক্ষত মৃত্যুর পর তৈরি হয়ে থাকতে পারে। রাতে অপ্রতিমের মরদেহ নিয়ে টানাটানি করেছিল শিয়াল। এ বিষয়ে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক তথ্যও পর্যালোচনা করছে পুলিশ।

তদন্তে আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে আরেকটি বিরোধের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের মোবাইলের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে কাজ করতো গ্রেপ্তার হওয়া এক কিশোর। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ওই কিশোরকে পাঁচ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল অপ্রতিম। সম্প্রতি সে ওই টাকা ফেরত চাইছিল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ নিয়ে অপ্রতিমের ওপর বিরক্ত ছিল ওই কিশোর। অপ্রতিম বেঁচে না থাকলে টাকা ফেরত দিতে হবে না—এমন চিন্তাও তার মধ্যে ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন।

তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দেওয়া সময়রেখা অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তখনও জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তারা জানতেন না যে অপ্রতিম মারা গেছে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়ার খবর তাদের কাছে পৌঁছায়।

তদন্তকারীরা বলছেন, শুরুতে তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছিল। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শনিবার রাত ৮টার দিকে ঘটনায় নিজে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। তখনও অন্যদের নাম বলতে চাইছিল না তুহিন। অন্যদের নাম প্রকাশ না করতে সে ‘ওয়াদাবদ্ধ’ ছিল বলেও জানা গেছে।

কিন্তু তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার মুঠোফোনে বারবার ফোন আসছিল। কল করছিল অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ওই কিশোর। বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য, আটকের সময়ও তার গায়ে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা টি-শার্ট ছিল। ওই কিশোরকে আটকের খবর পাওয়ার পর তুহিন আরেক কিশোরের নাম জানায়। এরপর তাকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোর মুঠোফোন ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা রাখতো। ঘটনার দিন নিজের মুঠোফোন সঙ্গে নেয়নি সে। পরিবর্তে পরিবারের অন্য একজনের ফোন নিয়ে বের হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, পরে মুঠোফোনের অবস্থান যাচাই করা হলে যাতে ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি ধরা না পড়ে, সে জন্যই এমনটি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এর পক্ষে প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য আলামত আরও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর থেকেই লাপাত্তা ওই কিশোরের বাবাকে। তার অনুপস্থিতির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনও যোগসূত্র আছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ।

যেভাবে ১৯ বছরের তুহিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ১৩ বছরের অপ্রতিমের

অপ্রতিম ছিল বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে শান্ত, মিশুক ও পড়াশোনায় ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে বর্ণনা করেছে। স্কুলে কোনও ঝামেলায় তাকে জড়াতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী জাহান।

অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, তুহিন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় বয়সে কম কয়েকজনকে নিয়ে চলাফেরা করতো এবং একটি দল তৈরি করেছিল। একসময় অপ্রতিমকেও সেই দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন।

তবে রোববার সংবাদ সম্মেলনে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও পুলিশ রেকর্ড নেই।

সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‌‘অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অনেকটা কিশোর অপরাধীর মতো। তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে অপ্রতিমের সম্পর্ক, ওঠাবসা ও বন্ধুত্ব ছিল। তাদের বয়স নিহত শিশুটির চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বেশি।’

পুলিশের কাছে অবশ্য অপ্রতিম ও ওই ব্যক্তিদের একসঙ্গে চলাফেরা, ছবি তোলা এবং টিকটক ভিডিও তৈরির তথ্য রয়েছে। এই বয়স ও সামাজিক অবস্থানের ব্যবধানের সম্পর্ককেই তদন্তকারীরা ‘অসম বন্ধুত্ব’ হিসেবে দেখছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অপ্রতিমের সঙ্গে যাদের ওঠাবসা ছিল, তারা তার সহপাঠী নন; বয়সেও বড়। তদন্তে তাদের একসঙ্গে তোলা ছবি ও ভিডিও এবং টিকটকের জন্য তৈরি বিভিন্ন ভিডিওর তথ্যও পাওয়া গেছে।

অপ্রতিমের গৃহশিক্ষক মো. আল আমিন বলেন, ‘অপ্রতিম সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করলেও সে অনেক ম্যাচিউরড ছিল। তাছাড়া দীর্ঘদিন কোটবাড়ি এলাকায় থাকায় এবং তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় তাকে সবাই সহজে রিসিভ করতো। সেও বড় ও ছোট—দুই বয়সের মানুষের সঙ্গেই মিশতো। তবে সিনিয়রদের সঙ্গে তার মেলামেশা বেশি ছিল।’

তুহিনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তুহিনের সঙ্গে সম্পর্ক কত দিনের, সেটি আমি জানি না। তবে আমি যতটুকু জেনেছি, তুহিন মোটরসাইকেল দিয়ে অপ্রতিমকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যেতো। ছেলে মানুষ ছিল, তাই বিষয়টি খুব ভালোভাবে রিসিভ করেছে হয়তো। এভাবেই হয়তো তাদের সম্পর্ক বেশি গভীর হয়ে গেছে।’

অপ্রতিমের মামা কাজী মাহবুবুর রহমান জানান, অপ্রতিমরা আগে গন্ধমতি এলাকার আরেকটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। সেখানে রাফিন নামে অপ্রতিমের এক প্রতিবেশী বন্ধু ছিল। রাফিনের বয়স ১৫-১৬ বছর। রাফিনের বন্ধু তুহিন। তুহিনের বয়স ১৯ বছর। রাফিনের সঙ্গে ছোটবেলা থেকে বেড়ে ওঠে অপ্রতিম। সেই সুবাদে রাফিনের বন্ধু তুহিনের সঙ্গেও তার পরিচয় হয়। তবে তুহিনের মোটরসাইকেল থাকায় তারা প্রায়ই ঘুরতে যেতেন। সে কারণে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের সম্পর্ক অন্যদের তুলনায় বেশি গভীর ছিল।

তিনি বলেন, ‘অপ্রতিম নিখোঁজের পর আমরা যখন তাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তখন তুহিনকে কল দিই। সে আমাদের বাসায় দেখা করেনি। সে আমাদের সঙ্গে পাশের রামপুরা এলাকায় এসে দেখা করে। ওই সময় তার সঙ্গে সিয়াম নামের একজন ছিল, যাকে পরে পুলিশ আটক করেছে। তখন সে আমাদের জানায়, অপ্রতিমের সঙ্গে তার বের হওয়ার কথা থাকলেও সে বের হয়নি। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে তাকে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা যাওয়ায় আমরা নিশ্চিত হই, বিষয়টি লুকাচ্ছে তারা। এরই মধ্যে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার হয়। ততক্ষণে তুহিন পুলিশ হেফাজতে চলে যায়।’

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আইফোন, পাঁচ হাজার টাকা, তুহিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং ঘটনার সময় আরও কয়েকজনের উপস্থিতির বিষয় সামনে এসেছে। এসব তথ্যের পাশাপাশি ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্য ধরা
কুমিল্লায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোরদের একটি ভিডিওর সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্য ধরা
বন্ধ হতে বসেছিল পড়ালেখা, পুরো উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেলেন সেই আরাফাত
দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় অসুস্থ বাবাকে হারান মো. আরাফাত খান। এরপর পাঁচ সদস্যের পরিবারে নেমে আসে আর্থিক সংকট। এতে বন্ধ হতে বসেছিল পড়ালেখাও। এমন কঠিন সময়ে পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন বড় বোন মোসা. রুবি আক্তার। পোশাক কারখানায় কঠোর পরিশ্রম করে একদিকে পরিবারের খরচ চালিয়েছেন, অন্যদিকে ছোট ভাইয়ের পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন। বোনের সেই ত্যাগ আর নিজের অধ্যবসায়ের ফল পেয়েছেন আরাফাত। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ৮৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র তিনিই জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। আরাফাতের এই সাফল্যে আনন্দিত পরিবারের সদস্যরা। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আখতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও। তবে নিজের এই অর্জনের কৃতিত্ব বড় বোনকেই দিতে চান তিনি। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাজিতা চতুর্থ খণ্ড গ্রামের মৃত মো. ইসমাইল খানের ছেলে আরাফাত। বাবাকে হারানোর পর একসময় পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। পরিবারের আর্থিক অনিশ্চয়তা আর ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা তার স্বপ্নগুলোকে থমকে দিয়েছিল। কিন্তু বড় বোনের সাহস ও সহযোগিতা তাকে আবারও পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনে। আরাফাত বলেন, বাবাকে হারানোর পর তার জীবন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। মুহূর্তেই সব স্বপ্ন মাটিতে মিশে যায়। ভেবেছিলেন, তার আর লেখাপড়া হবে না। কিন্তু তখনই পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছেন তার বড় বোন মোসা. রুবি আক্তার। তার বড় বোনের আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম কখনো ভুলে যাওয়ার মতো নয়। বোনের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, পোশাক শ্রমিকের কঠিন কাজ করেও তার বড় বোন যেভাবে আগলে রেখেছেন, সেই ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারবেন না। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আরাফাত জানান, তার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। তবে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এ অবস্থায় নিজের স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী। এদিকে ছোট ভাইয়ের সাফল্যে আনন্দিত হলেও নিজের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন বড় বোন রুবি আক্তার। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের পাঁচ সদস্যের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয় তাকে। সংসারের খরচ জোগাতে যোগ দেন পোশাক কারখানায়। কঠোর পরিশ্রমের মধ্যেও ভাইয়ের পড়ালেখা বন্ধ হতে দেননি তিনি। রুবি আক্তার বলেন, বাবার মৃত্যুর পর এই সংসারের হাল তাকেই ধরতে হয়েছে। পরিবারের পাঁচ সদস্যের খরচ জোগাতে হচ্ছে। তাই পোশাক কারখানার মতো কঠিন কাজে যোগ দিয়ে চেষ্টা করেছেন সবার মুখে হাসি ফোটাতে। আরাফাত মেধাবী। তার জন্য তেমন কিছুই করতে পারেননি তিনি। প্রবল ইচ্ছাশক্তিই আরাফাতকে সাফল্য এনে দিয়েছে। বড় বোনের ত্যাগ আর নিজের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত এই ফলাফলে এখন আনন্দে ভাসছে আরাফাতের পরিবার। মির্জাগঞ্জ উপজেলার একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া এই শিক্ষার্থীর সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যেতে চান তিনি। আরটিভি/টিআর
বন্ধ হতে বসেছিল পড়ালেখা, পুরো উপজেলায় একমাত্র জিপিএ-৫ পেলেন সেই আরাফাত
গাজীপুরে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে চলমান শ্রম অসন্তোষের মধ্যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শ্রম অসন্তোষ নিরসন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় আপাতত পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে প্লাটুন সংখ্যা বাড়তে পারে। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তারা দায়িত্ব পালন করবেন বলেন জানান তিনি। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন পোশাক শ্রমিকরা। এর মধ্যে শনিবার শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আরিফ জানান, বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে রোববার নতুন বোর্ড গঠন করা হবে। আরটিভি/টিআর
গাজীপুরে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
মাঝনদীতে জন্ম নিলো ফুটফুটে কন্যাশিশু
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে চলন্ত নৌকার পাটাতনে এক কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে। বর্তমানে প্রসূতি মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন।
মাঝনদীতে জন্ম নিলো ফুটফুটে কন্যাশিশু
এইচএসসিতে যশোর বোর্ডের ফলাফলে এগিয়ে মেয়েরা
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। তবে বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে। এ বছর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।
এইচএসসিতে যশোর বোর্ডের ফলাফলে এগিয়ে মেয়েরা
আরও পড়ুন
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: ফাহাদ দাবিতে প্রকাশিত ছবি নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কোনো আইনজীবী
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: দোষীদের শাস্তির দাবিতে কুবি শিক্ষক সমিতির শোক র‌্যালি
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা বললেন রাশেদ খান