
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দীর্ঘদিন ধরে হয়নি সংস্কার না হওয়ায় একটি সেতুর মাঝের অংশে ফাটল ধরেছে। দেবে গেছে একটি পিলারও। ভাঙা সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন ১৬ গ্রামের হাজারো মানুষ। যেকোনো সময় সেতুটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের হরিনাবাজার, ভবানীপুর ও বাজারখোলা গ্রামের মধ্যবর্তী খালের ওপর ১৯৯০ সালে সেতুটি নির্মাণ করে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ। প্রায় পাঁচ বছর আগে সেতুটির মাঝের অংশের একটি পিলার দেবে গিয়ে ফাটল দেখা দেয়। এরপর আর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। এখন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে পাঁচগাছিয়া ও পাশের আরেকটি ইউনিয়নের ১৬ গ্রামের মানুষ চলাচল করছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা। এর ওপর দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। অনেকে হেঁটেও সেতুটি পার হচ্ছেন। পার হওয়ার সময় অনেকের মধ্যেই আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক নূরে আলম জানান, প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে সেতুটি পার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা সিফাত বলেন, এই সেতুতে উঠলে মনে হয় এই বুঝি প্রাণটা গেল। এটা সেতু নয় পুলসিরাত।
পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের মতো তারাও ঝুঁকি নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছেন।
বাজারখোলা গ্রামের বাসিন্দা হারুনুর রশিদ জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এটি পুনর্নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সেতুটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনাধীন।
আরটিভি/এমএইচজে


