
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ধলেশ্বরী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কেয়াইন ইউনিয়নের বড় বর্তা গ্রামের অন্তত ১৫টি পরিবার। তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে একটি বসতঘর আসবাবপত্রসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি।
রোববার(২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আকস্মিক নদীভাঙনে গফুর শেখের টিনের ঘরটি আসবাবপত্রসহ নদীগর্ভে চলে যায়। চোখের সামনে বসতঘর হারিয়ে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। ঘরের বেশির ভাগ মালামালও সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি তারা।
গফুর শেখ বলেন, হঠাৎ করে নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাড়িটি নদীতে চলে যায়। ঘরের অনেক মালামাল বের করারও সুযোগ হয়নি। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে আছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে ধলেশ্বরী নদীর তীব্র স্রোতে ওই এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই নদীর পাড় ভেঙে বসতবাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে পানি। এতে যেকোনো সময় আরও কয়েকটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী নাদিম হোসেন অনিক বলেন, একদিকে নদীর তীব্র স্রোত, অন্যদিকে ওই এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০টি বাল্কহেডে বালু লোড-আনলোড করা হয়। এতে নদীর তীরে চাপ তৈরি হয়ে ভাঙন বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে দু-এক দিনের মধ্যে তাঁর বাড়িও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
ভাঙনকবলিত পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নদীর পাড় রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে একের পর এক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এসকে


