
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও ভেরিফিকেশনসংক্রান্ত জটিলতায় নিয়োগপত্র পাননি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রার্থী মো. জাহিদ হাসান। দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে তার নিয়োগের জটিলতা কেটেছে। আগামী মাসের ১ তারিখে তার যোগদানের কথা রয়েছে।
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মঠবাড়িয়া উপজেলায় নির্বাচিত ৮৩ জনের মধ্যে জাহিদের মেধাক্রম ছিল ৫৪তম। তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটায়ও আবেদন করেছিলেন। তবে ভেরিফিকেশন শেষে নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন তিনি।
জাহিদের নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে তার বিষয়ে পুনরায় যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে তার নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন জাহিদ হাসান। চাকরি ফিরে পাওয়ার খবর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, কয়েকদিন খুব খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছি। চাকরি হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছিলাম। সারারাত জেগে চিন্তা করতাম, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হয়ে সমাজের বোঝা হয়ে আছি। চাকরি ফিরে পেয়ে যে আনন্দ হচ্ছে, তা বলে বোঝানো যাবে না।
তিনি আরও বলেন, সকালে জেলা শিক্ষা অফিসের বিজ্ঞপ্তিতে তালিকায় নিজের নাম দেখতে পাই। খবরটি শুনে মা-বাবা অনেক খুশি হয়েছেন, তারা কান্নাও করেছেন। আগামী মাসের ১ তারিখে আমার যোগদান, এরপর প্রশিক্ষণ হবে। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।
জাহিদের বাবা আবু জাফর হাওলাদার জানান, ছেলের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তার সময় পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। এখন চাকরি পাওয়ার খবরে তারা স্বস্তি পেয়েছেন।
দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে এখন সরকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরুর অপেক্ষায় রয়েছেন জাহিদ।
আরটিভি/এমএইচজে



