
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পোস্ট অফিসের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ভবনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত ৪ বছর ধরে ভাড়া ভবনের ছোট দুটি কক্ষে চলছে কার্যক্রম। কবে নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনটির একাংশে গরু পালন করা হচ্ছে। নিচতলার একটি কক্ষে রাখা হয়েছে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী। সেখানে পড়ে থাকতে দেখা গেছে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামও। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে ও আশপাশে মানুষের মলমূত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না করায় স্থাপনাটি নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে।
মঠবাড়িয়া পোস্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, মডেল মসজিদ রোডে উপজেলা পোস্ট অফিসের পুরাতন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর ২০২২ সাল থেকে সরকারি হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে গোয়ালি পাড়া রোডে ভাড়া নেওয়া ছোট দুটি কক্ষে কোনোমতে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাদের ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৮ জন। এ অবস্থায় দীর্ঘ ৪ বছর ধরে অফিস পরিচালনা করতে গিয়ে নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে ডাক অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক শামীম আল রাজীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও প্রকল্পটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত ২০ সেপ্টেম্বর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ‘ব্যস্ততা’ আছে জানিয়ে তিনি কথা বলেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য জানতে খুদেবার্তা পাঠানো হয়। সেখানে প্রকল্পের কাজ শুরুর সময়, নির্ধারিত মেয়াদ, মোট ব্যয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কাজ বন্ধ থাকার কারণ এবং পুনরায় কাজ শুরু ও শেষ করার বিষয়ে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না—এমন ছয়টি প্রশ্ন করা হয়। তবে ওই বার্তারও কোনো জবাব মেলেনি।

পরদিন (২১ সেপ্টেম্বর) ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ তৈয়ব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তথ্য দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন এবং প্রকল্প পরিচালক শামীম আল রাজীকে বিষয়টি জানানোর কথা বলেন। এর কিছুক্ষণ পর প্রকল্প পরিচালক নিজেই ফোন করে তথ্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তথ্য দেওয়ার কথা জানান। পাশাপাশি ঢাকায় চা খাওয়ার আমন্ত্রণও জানান।
তবে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে প্রকল্পটির কাজের অগ্রগতি, ব্যয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কাজ বন্ধ থাকার কারণ এবং পুনরায় কাজ শুরুর সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে ডাক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. জালাল হোসেন বলেন, ভবনের গ্রেড বিম ও কলামের ঢালাই, ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার পর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
কী কারণে বন্ধ রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিপার্টমেন্টের কিছু জটিলতার কারণে আপাতত কাজ বন্ধ রয়েছে। সমস্যার সমাধান হলে দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হবে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা পোস্টমাস্টার উত্তম কুমার রায় (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া করা ছোট দুটি কক্ষে অফিস পরিচালনা করতে গিয়ে আমরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। প্রয়োজনীয় জায়গার অভাবে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও অফিস সরঞ্জাম সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। নতুন ভবনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে সেবার মান আরও উন্নত ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের পরিবেশও ভালো হবে।
তিনি আরও বলেন, ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নতুন ভবন না থাকায় স্পিড পোস্টের মালামাল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতাউর রাব্বি বলেন, পোস্ট অফিস একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া দুঃখজনক। সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে ভবনটি সম্পন্ন করবে বলে আশা করছি।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ বলেন, উপজেলা প্রশাসন কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি লিখিতভাবে জানালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/আইএম


