
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা বাজারে গরুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মো. আওয়াল মিয়াকে (৫০) হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে তিনি আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী মোর্শেদা রওশন লাভলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে শামীম পহলান (৩৪), শাহীন পহলান (৪৩), ইয়াকুব হাওলাদার (২৬) ও মনির পহলানকে (৩২) আসামি করা হয়েছে।
মোর্শেদা রওশন লাভলী অভিযোগ করেন, তার স্বামী সাপলেজা বাজারে গরুর ব্যবসা করেন। অভিযুক্তদের কয়েকজনও একই বাজারে গরুর ব্যবসা করেন। ব্যবসা নিয়ে তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। এর জেরে তার স্বামীকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে সাপলেজা মাছ ও গরুর বাজারের ট্রালশেডের কাছে আওয়াল মিয়ার সঙ্গে অভিযুক্তদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে তার মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অভিযোগে আওয়ালের পকেটে থাকা ১৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শামীম পহলান। তিনি বলেন, আওয়ালের সঙ্গে আগে থেকেই একটি বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। ওই দিন বাজারের টোলঘরে দুজনের মধ্যে উত্তেজিত হয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের শান্ত করে দেন। কোনো মারধর বা হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে সাপলেজা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এর আগে টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। মারামারির পর আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য মঠবাড়িয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং সঠিক বিচার হওয়া উচিত।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, সাপলেজায় কথা-কাটাকাটির জেরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
আরটিভি/টিআর


