
যশোরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ডাকাত সন্দেহে পাঁচ যুবককে গণপিটুনি দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে একটি প্রাইভেটকার ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে বেশ কয়েকজন যুবক বালিয়াডাঙা গ্রামে আসেন। তাদের আচরণ দেখে ডাকাত বলে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। এ সময় বালিয়াডাঙা বিসিক এলাকা থেকে তাদের ধাওয়া করা হয়। একপর্যায়ে মান্দারতলায় প্রাইভেটকারটি ফেলে তারা বিভিন্ন দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
পরে মালোপাড়া এলাকায় পাঁচজনকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ সময় মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।
জনগণের হাতে আটকরা হলেন ঝিকরগাছা উপজেলার বাইশা চাঁদপুর গ্রামের রাসেল, একই গ্রামের নাহিদ, নিরব, সুজন ও তানজিম। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাদের সঙ্গে একজন নারীও ছিলেন। তবে তাকে আটক করা যায়নি।
এদিকে, আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আটক ব্যক্তিরা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিতে থাকেন। তাদের একজন দাবি করেন, এক আদম ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা নিতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। আরেকজন বলেন, তাদের একজনের স্ত্রীকে নিতে তারা এলাকায় এসেছিলেন, কিন্তু গ্রামবাসী তাদের ডাকাত মনে করেন। অন্য একজন জানান, তিনি কিছুই জানেন না।
আটক ব্যক্তিদের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, তারা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য হতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ডাকাতির কোনো ঘটনার আলামত পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
আরটিভি/আইএম




