
নওগাঁর মান্দায় সরকারি অর্থায়নে পাকা রাস্তা নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে। উপজেলার মান্দা ইউনিয়নের কোচড়া বাদলঘাটা হিন্দুপাড়া পাকা রাস্তা থেকে দক্ষিণ কোচড়া বাদলঘাটা পর্যন্ত ১ হাজার ৭৩০ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
এদিকে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মোছা. পারুল দাবি করেছেন, কাজ করতে গিয়ে তিনি ইতোমধ্যে ২৪ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে আনা নিম্নমানের ইটগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়ক নির্মাণকাজে সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত ইটের খোয়া ও বালু ব্যবহারের কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। এক নম্বর ইটের পরিবর্তে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী। রাস্তার সাব-বেস ও বেস টাইপের কাজেও বালু ও খোয়া সঠিক অনুপাতে মেশানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
কোচড়া বাদলঘাটা গ্রামের শামসুল আলম মোল্লা বলেন, ঠিকাদার রাস্তা করে চলে যাবেন, কিন্তু আমরাই এই রাস্তা ব্যবহার করব। নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে সরকারের অর্থ অপচয় হবে।
একই গ্রামের মহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। সরকার প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু কাজের মান দেখে মনে হচ্ছে, পাকা হওয়ার পরও রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
গ্রামের কান্তি কুমার সরকার বলেন, সরকারি কাজে ভালো মানের উপকরণ ব্যবহার করার কথা। কিন্তু এখানে এক নম্বর ইটের পরিবর্তে দুই ও তিন নম্বর ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এ নিয়ে দুই গ্রামের মানুষেরই আপত্তি রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোছা. পারুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাজ করতে গিয়ে তিনি ইতোমধ্যে ২৪ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন। সাময়িকভাবে আনা নিম্নমানের ইটগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইটভাটার মালিকদের কারসাজির কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আমি আগে যে ভাটা থেকে ইট নিয়েছিলাম, সেখান থেকে ইট নেওয়া বন্ধ করায় অন্য ভাটার মালিক ও স্থানীয় কিছু লোক উসকানি দিয়ে এ সমস্যা তৈরি করছে।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলীর লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আরটিভি/টিআর


