ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

১৩ মাসের শিশুকে দুই লাখে বিক্রি, দাদা-দাদিসহ গ্রেপ্তার ৫

ময়মনসিংহ, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
ছবি: আরটিভি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে পাচারের অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও স্বজনদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোররাতে ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে শিশুটির দাদা, দাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, শিশুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে। পরে এ ঘটনায় ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজহাটি (সুতি ভরট) এলাকার বাসিন্দা শিশুটির দাদা উজ্জল মিয়া (৫০), তার স্ত্রী আয়শা খাতুন (৪৫), শিশুটির ফুফু শরিফা খাতুন (৩৫) এবং ঢাকার দোহার উপজেলার হরিচণ্ডী এলাকার আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তার স্ত্রী শিখা (৩৫)।

সকালে এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

মামলায় উল্লখ্য করা হয়, শিশুটির মা রোজিনা বেগমের (২১) সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে মো. নাঈম মিয়ার (২৫) বিয়ে হয়। তাদের ছেলে মোজাহিদের বয়স এখন ১৩ মাস। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে রোজিনাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শিশুটিকে রেখে দেওয়া হয় বাবার বাড়িতে। রোজিনা পরে গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত একটার দিকে তার স্বামী ও স্বজনরা শিশুটিকে অজ্ঞাত কয়েকজনের কাছে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রোজিনা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শিশুর বিষয়ে জানতে চান। এ সময় তাকে গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) শিশুটির মা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। জিডির পর পুলিশ তদন্তে শিশুটির অবস্থান ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, যে দম্পতির কাছ থেকে শিশুটি উদ্ধার হয়েছে তাদের কোনো সন্তান নেই। শিশুটিকে লালন পালনের জন্য তারা নিয়েছিল। কিন্তু প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না।

তিনি আরও বলেন, শিশুটি নিরাপদে আমাদের কাছে রাখা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আসামিদের বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সৌদিআরবের ৩০ কেজির পার্সেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে হয়ে গেলে ১৯ কেজি!
সৌদিআরব থেকে পাঠানো ২৯.৯০ কেজি মালামাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসে হয়ে গেলে ১৯.৭০ কেজি। সরকারী ডাক বিভাগে আসা এই পার্সেলের প্রাপক ওজনে কম দেখে সেটি গ্রহনে আপত্তি করলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার।
সৌদিআরবের ৩০ কেজির পার্সেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে হয়ে গেলে ১৯ কেজি!
হত্যার হুমকি পেলেন যুবদল নেতা, চিঠিতে লেখা ‘জয় বাংলা’  
যুবদলের ওই নেতার বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে রেখে যাওয়া হয়েছে কাফনের কাপড়, আগরবাতি ও গোলাপজল। সেইসঙ্গে রেখে যাওয়া হয়েছে এক চিঠি, যাতে লেখা— ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। 
হত্যার হুমকি পেলেন যুবদল নেতা, চিঠিতে লেখা ‘জয় বাংলা’  
মেয়ের জন্মদিনের কেক কিনতে যান বাবা, অতঃপর...
চাঁদপুরে মেয়ের জন্মদিনের কেক কিনতে গিয়ে বাসের চাপায় বাবা আল আমিন (৪০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। 
মেয়ের জন্মদিনের কেক কিনতে যান বাবা, অতঃপর...
মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল তাজমিনের সঙ্গে, ধরা পড়ল সিসিটিভি ফুটেজে
কুমিল্লার লালমাইয়ে ফসলি জমি থেকে গলায় গামছা পেঁচানো জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সামনে এসেছে। ফুটেজে দেখা গেছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর হোটেলের পশ্চিম পাশে কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যায় সে। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলে। এ সময় দোকানিকে তাকে কিছু একটা দেখাতে বা কোনো দিক নির্দেশ করতে দেখা যায়। এতে আরও দেখা গেছে, দোকানের সামনে কিছু একটা দেখানোর পর তাজমিন সেখান থেকে সরে অন্য পাশে যায়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে এলাকা ছাড়ার পর তাজমীন কোন পথে গিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তার চলাচলের পথ এবং সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এদিকে ঘটনা স্থলের কিছুটা দূরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। তবে জব্দ করা অটোরিকশাটির সঙ্গে তাজমীনের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। তারা কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। সেই বাসা থেকে ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে যায় তাজমিন। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হলো তার মরদেহ। তাজমিন কুমিল্লা শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ঘটনা স্থলে দেখা গেছে, লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নির্জন পাকা সড়ক। সড়কের দুপাশ জুড়ে বিস্তৃত সবুজ মাঠ। সড়কটির মধ্যবর্তী স্থানের দুপাশে অন্তত ৪ থেকে ৫টি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখা গেছে। ক্ষেতের মধ্যে থাকা মাথা তোলা ধানগাছ এলোমেলো হয়ে আছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে তাজমিন জীবন বাঁচাতে হত্যাকারীদের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। সড়কের একপাশে ধানক্ষেতে পড়েছিল সিএনজি চালিত অটোরিকশা। পরে সেটিকে স্থানীয়রা টেনে সড়কের ওপর তোলেন। স্থানীয় জগতপুর গ্রামের বাসিন্দা তমাল বনিক জানান, সকালে কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার পাকা সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমিতে গিয়ে আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় গামছা পেঁচানো এবং মুখ মাটিতে চেপে রাখা ছিল। নিহতের বাবা আবদুল আলীম জানান, ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তাজমিন। এরপর বিভিন্ন সময় ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা জানায়। বুধবার রাত পৌনে ২টার দিকে তাজমিন তাকে মেসেজের পাশাপাশি লাইভ লোকেশন পাঠায় এবং সেখানে এসে তাকে নিয়ে যেতে বলে। তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসেজ দেখতে পান। লাইভ লোকেশনে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেখতে পান তিনি। সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস জানান, ৪ অক্টোবর কুমিল্লা শহরে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় জান্নাতুল তাজমিন। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে আবার ভোররাতে কক্সবাজার যায়। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সহকারী পুলিশ সুপার আরও জানান, উদ্ধার করা সিএনজির ভেতর থেকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও জামা পাওয়া গেছে। নিহতের বাবা জামা দেখে সেটি জান্নাতের বলে শনাক্ত করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাত ছিল। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের বয়স আনুমানিক ১৫ বছর। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, আমরা ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছি। তথ্য প্রযুক্তির সহয়তায় ঘাতকদের আটক করতে অভিযান পরিচালনা করছি। শিগগিরই ঘাতকদের আটক করা হবে। আরটিভি/টিআর
মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল তাজমিনের সঙ্গে, ধরা পড়ল সিসিটিভি ফুটেজে
কিশোর গ্যাংবিরোধী পুলিশের অভিযানে আটক ২৫২
কুমিল্লা জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৫২ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কিশোর গ্যাংবিরোধী পুলিশের অভিযানে আটক ২৫২
আরও পড়ুন
মুখে কাপড় বেঁধে নারী শ্রমিককে দলবদ্ধ ধর্ষণ, অতঃপর...
তিন ঘণ্টার ‘ট্রাক জার্নিতেই’ কাঁচা পেঁপে পেকে হলুদ!
রামেবি উপাচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে রামেকে মানববন্ধন
মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: রাষ্ট্রপতি