
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও আগামীর সময়-এর কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগের বাবা-মাকে মারধর, শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা ও নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা হলেও আসামিদের এখনো কেউই গ্রেপ্তার হয়নি। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়েছেন কুড়িগ্রামের সাংবাদিক সমাজ।
এ ঘটনায় সাংবাদিকের বাবা আহত আমিনুল ইসলাম ও মাতা শামসাদ বেগম কুড়িগ্রাম সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রথম মামলা করেন প্রতিবেশী ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। এর পাঁচ মিনিট পর দ্বিতীয় মামলা করেন সাংবাদিক তামজিদ হাসান তুরাগ। দুই মামলায়ই পরস্পরকে আসামি করা হয়েছে।
থানার পুলিশের ভাষ্য, দুটি মামলার অভিযোগের ধরনও একই—জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধর। তামজিদ হাসানের করা মামলায় রমজান আলী, মামুনুর রশিদ মামুন, মনোয়ারা বেগম, রফিক মিয়া ও আতিকুজ্জামান আতিককে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় আহত তামজিদের বাবা আমিনুল ইসলাম কুড়িগ্রাম সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার মা শামসাদ বেগমও চিকিৎসা নিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার ৪ দশমিক ১৬ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ। তামজিদের দাবি, তার বাবা আমিনুল ইসলাম ক্রয়সূত্রে জমিটি পাওয়ার পর প্রায় ৩৪ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। এ নিয়ে কুড়িগ্রাম সদর সিভিল জজ আদালতে ২৬৮/২০২৫ নম্বর দেওয়ানি মামলাও চলমান।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে তামজিদের বাবা-মা ওই জমিতে ইউক্যালিপটাসের চারা রোপণ করতে গেলে সেখানে থাকা কয়েকজন বাঁশের লাঠি ও লোহার রড নিয়ে তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে রমজান আলী লাঠি দিয়ে আমিনুল ইসলামের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তা তার ডান চোখের নিচে লাগে। পরে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মামুনুর রশিদ মামুন তার বুকের ওপর বসে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় শামসাদ বেগম এগিয়ে গিয়ে তাকে সরিয়ে দিলে আমিনুল রক্ষা পান। পরে মনোয়ারা বেগম শামসাদ বেগমের চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া এবং রমজান আলী তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
তামজিদ তুরাগ বলেন, বিবদমান জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। আমার বাবা-মা আমাদের কেনা জমিতে চারা রোপণ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
তবে অপর মামলার বাদি মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে মনোয়ারা বেগমের করা মামলায় তামজিদ তুরাগ, তার বাবা-মাসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন আরটিভিকে বলেন, প্রায়ই একই সময় দু’টি অভিযোগ পেয়েছি। প্রথমে মনোয়ারা বেগম মামলা করেন। এর পাঁচ মিনিট পর তামজিদ তুরাগ মামলা করেন। দুটি মামলায়ই পাল্টাপাল্টি আসামি করা হয়েছে। অভিযোগের ধরনও একই ধরনের—জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধর। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএম


