ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

কুড়িগ্রামে সাংবাদিকের মা-বাবাকে মারধর, থানায় মামলা

কুড়িগ্রাম (দক্ষিণ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
আমিনুল ইসলাম : ছবি আরটিভি

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও আগামীর সময়-এর কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগের বাবা-মাকে মারধর, শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা ও নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা হলেও আসামিদের এখনো কেউই গ্রেপ্তার হয়নি। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়েছেন কুড়িগ্রামের সাংবাদিক সমাজ।

এ ঘটনায় সাংবাদিকের বাবা আহত আমিনুল ইসলাম ও মাতা শামসাদ বেগম কুড়িগ্রাম সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তবে এ ঘটনায় বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রথম মামলা করেন প্রতিবেশী ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। এর পাঁচ মিনিট পর দ্বিতীয় মামলা করেন সাংবাদিক তামজিদ হাসান তুরাগ। দুই মামলায়ই পরস্পরকে আসামি করা হয়েছে।

থানার পুলিশের ভাষ্য, দুটি মামলার অভিযোগের ধরনও একই—জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধর। তামজিদ হাসানের করা মামলায় রমজান আলী, মামুনুর রশিদ মামুন, মনোয়ারা বেগম, রফিক মিয়া ও আতিকুজ্জামান আতিককে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় আহত তামজিদের বাবা আমিনুল ইসলাম কুড়িগ্রাম সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার মা শামসাদ বেগমও চিকিৎসা নিয়েছেন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার ৪ দশমিক ১৬ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ। তামজিদের দাবি, তার বাবা আমিনুল ইসলাম ক্রয়সূত্রে জমিটি পাওয়ার পর প্রায় ৩৪ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। এ নিয়ে কুড়িগ্রাম সদর সিভিল জজ আদালতে ২৬৮/২০২৫ নম্বর দেওয়ানি মামলাও চলমান।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে তামজিদের বাবা-মা ওই জমিতে ইউক্যালিপটাসের চারা রোপণ করতে গেলে সেখানে থাকা কয়েকজন বাঁশের লাঠি ও লোহার রড নিয়ে তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে রমজান আলী লাঠি দিয়ে আমিনুল ইসলামের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তা তার ডান চোখের নিচে লাগে। পরে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মামুনুর রশিদ মামুন তার বুকের ওপর বসে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় শামসাদ বেগম এগিয়ে গিয়ে তাকে সরিয়ে দিলে আমিনুল রক্ষা পান। পরে মনোয়ারা বেগম শামসাদ বেগমের চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া এবং রমজান আলী তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

তামজিদ তুরাগ বলেন, বিবদমান জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। আমার বাবা-মা আমাদের কেনা জমিতে চারা রোপণ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।

তবে অপর মামলার বাদি মনোয়ারা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে মনোয়ারা বেগমের করা মামলায় তামজিদ তুরাগ, তার বাবা-মাসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন।

কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন আরটিভিকে বলেন, প্রায়ই একই সময় দু’টি অভিযোগ পেয়েছি। প্রথমে মনোয়ারা বেগম মামলা করেন। এর পাঁচ মিনিট পর তামজিদ তুরাগ মামলা করেন। দুটি মামলায়ই পাল্টাপাল্টি আসামি করা হয়েছে। অভিযোগের ধরনও একই ধরনের—জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধর। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষকের ছদ্মবেশে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. জাকির হোসেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
টাঙ্গাইল শহরে সাড়ে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিপ্লব নামে এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় শিশুটির কান্না ও বাধা দেওয়ার কারণে ইট দিয়ে মুখ ও নাক থেঁতলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় খ্যাপা শেয়ালের আক্রমণে নারী ও শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ‎চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী। তিনি পেকুয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন সদস্য এবং রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।  ২০১৬ ও ২০২১ সালের রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি দুইবার জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ‎ফেসবুক পোস্টে হুমায়ুন কবির লেখেন, ‘আজকে থেকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বিদায় নিলাম। রাজাখালী জামায়াতে ইসলামী ন্যায়-ইনসাফ টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করেছে। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।’ ‎  ‎জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়ে যখন অনেকে ভয়ে নিজেদের জামায়াত পরিচয় প্রকাশ করতেও অনাগ্রহী ছিলেন, তখন ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সংগঠনের হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। ওই সময়ে আমাকে সামনে রেখেই রাজাখালীতে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। আজ আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই স্বেচ্ছায় জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। ‎  ‎তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের মনোনীত রাজাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইনশাআল্লাহ। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ‎‎অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, হুমায়ুন কবিরের দল ছাড়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সংগঠনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন ও আল আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অর্থ বা প্রভাবের কোনো বিষয় নেই। ‎ ‎ তিনি বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান, জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী সার্বিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকার কথা নয়।’ আরটিভি/এসআর
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
জীবনের ৫২টি বসন্ত পেরিয়ে যখন অনেকেই শিক্ষাজীবনের ইতি টেনে দেন, তখন নতুন করে বই হাতে তুলে নিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকার শেফালী বেগম। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি, পারিবারিক দায়িত্ব ও জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। তার স্বপ্ন এখন উচ্চশিক্ষা অর্জনের।
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
আরও পড়ুন
দিনাজপুর বোর্ডে শূন্য পাসের শীর্ষে কুড়িগ্রাম
এইচএসসিতে কুড়িগ্রামের ৯ কলেজে পাস করেননি কেউ
তাহসিফ হত্যা মামলায় ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপের ৪ দিনের রিমান্ড
সোনালি ধানের দিন শেষ, কৃষককে বাঁচিয়ে দিতে পারে কালো ধান