
সারি সারি সোনালি ধানের মাঠের মাঝেই যেন অন্যরকম এক গল্প। দূর থেকেই চোখে পড়ে কালচে রঙের ধানের গাছ। কাছে গেলেই কৌতূহল—এ কেমন ধান! কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছাটমল্লিক বেগ বোতলার পাড় গ্রামের এক বিঘা জমিতে এমনই ব্যতিক্রমী কালো ধান চাষ করেছেন কৃষক আজমল হোসেন মনি। প্রায় দুই মাস আগে পরীক্ষামূলক ভাবে শুরু করা এ আবাদ এখন শুধু তার স্বপ্ন নয়, আশপাশের কৃষকদেরও কৌতূহলের কারণ। প্রতিদিনই নতুন ধান দেখতে জমিতে ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ।
প্রচলিত ধানের বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার তাগিদ থেকেই কালো ধান চাষে নামেন আজমল। অনলাইনে কালো ধানের ছবি ও চাষের তথ্য দেখে আগ্রহী হন তিনি। পরে সেখান থেকেই বীজ সংগ্রহ করে এক বিঘা জমিতে আবাদ করেন। তবে শুরুটা সহজ ছিল না। এলাকার অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। তবু ঝুঁকি নিয়েই চাষ শুরু করেন তিনি। এখন ফলন ও বাজার দরের দিকে তাকিয়ে তার চোখে নতুন স্বপ্ন।
কৃষক আজমল হোসেন মনি বলেন, ‘অনলাইনে কালো ধান দেখে চাষের আগ্রহ তৈরি হয়। অনেকে বলেছিল, এ ধান চাষ করে লাভ হবে না। কিন্তু নতুন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই ঝুঁকি নিয়েছি। ফলন ও দাম ভালো পেলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে চাষ করব।’
স্থানীয় বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এমন ধান আগে খুব একটা দেখা যায়নি। তাই প্রতিদিনই মানুষ দেখতে আসছে। ফলন ও দাম ভালো হলে অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন।’
ফকর উদ্দিন নামে অপর এক কৃষক বলেন, ‘আজমলের এই উদ্যোগ দেখে কৃষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফল হলে কালো ধান এ এলাকায় পরিচিত হয়ে উঠতে পারে।’
কৃষক হারুন মিয়ার ভাষ্য, ‘ফলন, খরচ আর বাজারদর-সবকিছু ভালো হলে কালো ধান কৃষকদের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে।’
রাজারহাট উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হৈমন্তী রানী বলেন, একসময় কালো ধান রাজকীয় খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে বিশ্বে এটি ‘সুপার ফুড’ হিসেবে পরিচিত। রাজারহাটে কয়েকজন কৃষক স্বল্প পরিসরে এর চাষ করছেন। কৃষি বিভাগ তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কালো ধানের ফলন বিঘায় ১৭ থেকে ১৮ মণ হতে পারে। ফলন তুলনামূলক কম হলেও মণপ্রতি আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হতে পারে। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে সোনালি ধানের চেনা মাঠে কালো ধানই হয়ে উঠতে পারে কৃষকের নতুন স্বপ্নের ফসল।
আরটিভি/আইএম


