ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

অযত্নে সৌন্দর্য হারাচ্ছে চাকিরপশার বিলের পদ্মের মেলা

কুড়িগ্রাম (দক্ষিণ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
ছবি: আরটিভি

বিলজুড়ে থইথই পানি। তার বুক চিরে মাথা তুলে আছে সারি সারি পদ্ম। কোথাও গোলাপি, কোথাও সাদা। বাতাসে দুলছে ফুল আর গোলাকার পাতা। দূর থেকে মনে হয়, সবুজের মাঝে যেন কেউ ছড়িয়ে দিয়েছে রঙিন ফুলের চাদর। হারিয়ে যেতে বসা সেই চেনা সৌন্দর্য দেখতে এখন প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার বিল যেন ফিরে পেয়েছে তার পুরোনো রূপ।

একসময় রাজারহাটসহ কুড়িগ্রামের বিভিন্ন বিল-ঝিলে বর্ষা ও শরতে এমন পদ্মের সমারোহ ছিল। বিলের পানি, পদ্মফুল আর দেশি মাছ ছিল এ অঞ্চলের প্রকৃতির স্বাভাবিক দৃশ্য। কালের বিবর্তনে জলাভূমি কমেছে, অনেক বিলের তলদেশ শুকিয়ে গেছে। খরা, অনাবৃষ্টি, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার ও জলাভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করে চাষাবাদের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে পদ্মের আবাসস্থল। সেই হারানো সৌন্দর্যের স্মৃতি এখনো ধরে রেখেছে চাকিরপশার বিল।

পদ্মের শুধু সৌন্দর্যই নয়, রয়েছে অর্থনৈতিক গুরুত্বও। ফুলের পাশাপাশি পদ্মের ডাঁটা সবজি হিসেবে এবং ফলের ভেতরের বাদামি বীজ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। স্থানীয়ভাবে ওই বীজ পদ্মখোঁচা নামে পরিচিত। পদ্মফুলের চাহিদা থাকায় বিলসংলগ্ন অনেক দরিদ্র মানুষ ফুল, ডাঁটা ও ফল বিক্রি করে আয় করেন। দুর্গাপূজাতেও পদ্মফুলের রয়েছে বিশেষ ব্যবহার।

তবে এই সৌন্দর্য বেশিদিন থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে অনেকে বিল থেকে পদ্মফুল তুলে সংরক্ষণ করছেন। কেউ কেউ প্রতিদিন ফুল তুলে বাজারে বিক্রি করছেন। ফলে দ্রুত কমছে ফুটন্ত পদ্মের সংখ্যা। খরা, অনাবৃষ্টি, অতিরিক্ত কীটনাশক, বিলের তলদেশ শুকিয়ে যাওয়া ও জলাভূমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় পদ্মফুল হারিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে কমছে জলাভূমির জীববৈচিত্র্যও। চাকিরপশার বিলের পদ্ম তাই শুধু ফুল নয়—এ অঞ্চলের হারিয়ে যেতে বসা প্রকৃতির এক জীবন্ত স্মৃতি।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরা বেগম বলেন, খালি ফুল নয়, এর লতাও এখানকার মানুষ সবজি হিসেবে খায়। পদ্মের ফুল, পদ্মখোঁচা খাওয়া হয়। হিন্দুদের পূজাতেও লাগে। এটি অনেক উপকারী গাছ।

স্থানীয় বাসিন্দা মমিনুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন স্থানে এই পদ্মফুলের চাহিদা অনেক। পদ্মফুলের প্রতিটি অংশই বিক্রি হয়। ফুলগাছের ডাঁটা সবজি হিসেবে, ফুল সৌন্দর্যবর্ধনে এবং ফল খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পদ্মফুল, ফল ও ডাঁটা বিক্রি করে এই এলাকার অনেক দরিদ্র মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন।

মাহবুবুর রহমান বলেন, দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবেও ব্যবহৃত হয় পদ্মফুল। এবার আসন্ন দুর্গাপূজার কারণে স্থানীয় অনেকে বিলের পদ্মফুল তুলে ফ্রিজে সংরক্ষণ করছেন। কেউ কেউ বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ফুল তুলছেন। এ কারণে বেশিদিন এই সৌন্দর্য দেখা যাবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

স্কুলশিক্ষার্থী তাসনিম জানায়, তাঁরা বিল থেকে ফুল তুলে মালা গাঁথে। মালা, ফুল ও পদ্মখোঁচা বিক্রি করে এবং নিজেরাও খায়।

রাজারহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি সরকার অরুণ যদু বলেন, একসময় উপজেলার সব বিলেই বছরজুড়ে বর্ণিল পদ্মফুল ও দেশি মাছের সমারোহ ছিল। পদ্মফুল ও মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেক দরিদ্র মানুষ। কালের আবর্তে তা এখন হারানো অতীত মাত্র।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও পরিবেশবিদ মির্জা মো. নাসির উদ্দিন আরটিভিকে বলেন, রাজারহাটের চাকিরপশার বিলে ফুটে থাকা পদ্মফুল যে রূপ ও শোভা ধারণ করেছে, তা দেখতে এ সময়ে পর্যটনপ্রেমীরা সেখানে ছুটে যাচ্ছেন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষকের ছদ্মবেশে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. জাকির হোসেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
টাঙ্গাইল শহরে সাড়ে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিপ্লব নামে এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় শিশুটির কান্না ও বাধা দেওয়ার কারণে ইট দিয়ে মুখ ও নাক থেঁতলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নাক-মুখ থেঁতলে দিলেন বিপ্লব
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় খ্যাপা শেয়ালের আক্রমণে নারী ও শিশুসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
গোরস্তানের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো ‘খ্যাপা’ শেয়াল, নারী-শিশুসহ আহত ১০
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ‎চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী। তিনি পেকুয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন সদস্য এবং রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।  ২০১৬ ও ২০২১ সালের রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি দুইবার জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ‎ফেসবুক পোস্টে হুমায়ুন কবির লেখেন, ‘আজকে থেকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বিদায় নিলাম। রাজাখালী জামায়াতে ইসলামী ন্যায়-ইনসাফ টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করেছে। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হওয়া ব্যক্তিরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।’ ‎  ‎জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, দলীয় রাজনীতির কঠিন সময়ে যখন অনেকে ভয়ে নিজেদের জামায়াত পরিচয় প্রকাশ করতেও অনাগ্রহী ছিলেন, তখন ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সংগঠনের হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। ওই সময়ে আমাকে সামনে রেখেই রাজাখালীতে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। আজ আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই স্বেচ্ছায় জামায়াতের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছি। ‎  ‎তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের মনোনীত রাজাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইনশাআল্লাহ। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি। ‎‎অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, হুমায়ুন কবিরের দল ছাড়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সংগঠনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন ও আল আমিন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, অর্থ বা প্রভাবের কোনো বিষয় নেই। ‎ ‎ তিনি বলেন, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে যোগ্যতা, সাংগঠনিক অবস্থান, জনসম্পৃক্ততা ও নির্বাচনী সার্বিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য থাকার কথা নয়।’ আরটিভি/এসআর
‎জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
জীবনের ৫২টি বসন্ত পেরিয়ে যখন অনেকেই শিক্ষাজীবনের ইতি টেনে দেন, তখন নতুন করে বই হাতে তুলে নিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকার শেফালী বেগম। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি, পারিবারিক দায়িত্ব ও জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। তার স্বপ্ন এখন উচ্চশিক্ষা অর্জনের।
৫২ বছরে এইচএসসি পাস করে নজির গড়লেন শেফালী
আরও পড়ুন
দিনাজপুর বোর্ডে শূন্য পাসের শীর্ষে কুড়িগ্রাম
এইচএসসিতে কুড়িগ্রামের ৯ কলেজে পাস করেননি কেউ
সোনালি ধানের দিন শেষ, কৃষককে বাঁচিয়ে দিতে পারে কালো ধান
ভাওয়াইয়া চর্চায় নতুন দিগন্ত, উলিপুরে নির্মিত হচ্ছে এক কোটি টাকার ভবন