
খুলনার পাইকগাছায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৫১টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষে এখন চলছে রং করা ও সাজসজ্জার কাজ। দেবী দুর্গাসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাস্কর ও কারিগরেরা। একই সঙ্গে মণ্ডপে প্যান্ডেল, তোরণ নির্মাণ এবং আলোকসজ্জার কাজও এগিয়ে চলছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু হওয়ায় পূজামণ্ডপগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে দিন-রাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সরেজমিনে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দেখা যায়, কোথাও প্রতিমার শরীরে রং লাগানো হচ্ছে, কোথাও অলংকার ও পোশাক দিয়ে প্রতিমা সাজানোর কাজ চলছে। আবার কোনো কোনো মণ্ডপে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি। শিল্পীদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও অসুরের প্রতিমা। প্রতিমার মুখাবয়ব ও অলংকারে রঙের কাজ শেষ করতে ব্যস্ত কারিগরেরা।
প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গোৎসবকে আনন্দমুখর করে তুলতে নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন পূজার আয়োজকেরা। মণ্ডপ সাজানো থেকে শুরু করে আলোকসজ্জা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে চলছে নানা আয়োজন। পূজার দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ও উৎসবের পরিবেশ সুন্দর রাখতে আয়োজকেরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পাইকগাছা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক প্রাণকৃষ্ণ দাস জানান, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এবার মোট ১৫১টি মণ্ডপে সর্বজনীন দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পাইকগাছা পৌরসভায় ৬টি, হরিঢালী ইউনিয়নে ১৭টি, কপিলমুনি ইউনিয়নে ১৮টি, লতা ইউনিয়নে ১২টি, দেলুটি ইউনিয়নে ১৩টি, সোলাদানা ইউনিয়নে ১২টি, লস্কর ইউনিয়নে ১৯টি, গদাইপুর ইউনিয়নে ৭টি, রাড়ুলী ইউনিয়নে ২০টি, চাঁদখালী ইউনিয়নে ১৫টি এবং গড়ইখালী ইউনিয়নে ১২টি মণ্ডপ রয়েছে।
মণ্ডপের সংখ্যা বিবেচনায় রাড়ুলী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ২০টি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া লস্কর ইউনিয়নে ১৯টি এবং কপিলমুনি ইউনিয়নে ১৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
পাইকগাছা পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবুরাম মণ্ডল বলেন, এ বছর সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের আশা করছেন তাঁরা। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্দির সিসি ক্যামেরার আওতায় নেওয়া হয়েছে। উৎসব চলাকালে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে প্রতিটা মন্দিরে ৬শ কেজি করে চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিমা সাজানো ও মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হলে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে ব্যস্ততা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আরটিভি/এমএইচজে




