
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ী এলাকায় ছেলের ছুরিকাঘাতে মা পারুল বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্বামী ও অভিযুক্ত ছেলের বাবা সরদার আলী। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে মুত্তাকীন আলম শোভন পালিয়ে গেলেও পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আরাজি পলাশবাড়ী এলাকা থেকে অভিযুক্ত শোভনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুত্তাকীন আলম শোভন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ছেলেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তার বাবা-মা বগুড়ার একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব সেন্টার) রাখার ব্যবস্থা করেন। সেখানে প্রায় দুই বছর থাকার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। তবে বাড়িতে ফেরার পর তিনি আবারও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন সময় মাদক গ্রহণ করতে থাকেন।
এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাতে ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রের লোকজন শোভনকে নিতে তাদের বাড়িতে আসেন। বিষয়টি টের পেয়ে শোভন ঘরের ভেতর থেকে ছুরি বের করেন। এরপর তিনি প্রথমে তার মাকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই পারুল বেগমের মৃত্যু হয়। এ সময় শোভনের মাকে রক্ষা করতে তার বাবা সরদার আলীকে এগিয়ে যান। এতে তিনিও হামলার শিকার হন। পর শোভন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত সরদার আলীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ছুরিকাঘাতের পর অভিযুক্ত ছেলে পালিয়ে যান। পরে অনুসন্ধান ও সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার হলোখানা এলাকার আরাজি পলাশবাড়ী থেকে মুত্তাকীন আলম শোভনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে, নিহত পারুল বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরটিভি/টিআর


