ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

খাবার-আশ্রয়হীন ৭৫ বছরের বৃদ্ধার দিন কাটছে জঙ্গলে

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৪ এএম
ছবি: আরটিভি

বার্ধক্যে এসে মানুষের প্রয়োজন হয় একটু আশ্রয়, নিয়মিত খাবার আর আপনজনের যত্ন। কিন্তু ৭৫ বছর বয়সী জেলেকা বেগমের জীবনে যেন তার উল্টো চিত্র। অসুস্থ শরীর নিয়ে খোলা আকাশের নিচে জঙ্গলে পড়ে আছেন তিনি। শরীরে জড়ানো ময়লা কাপড়, মাথার নিচে প্লাস্টিকের বস্তা। আশপাশে মলমূত্র, পোকামাকড় আর পরিত্যক্ত শৌচাগার। রাতে শিয়াল-কুকুরের পাশাপাশি সাপের ভয়ও রয়েছে। এমন অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই কাটছে তার দিন-রাত।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলেকা বেগম। গত ১০ অক্টোবর রাতে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে জঙ্গলে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বড় মেয়ে ময়না বেগমের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ময়না বেগমের দাবি, তার মা নিজেই ঘর থেকে বের হয়ে যান। তাকে মারধর করা হয় না।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে ওই এলাকায় গিয়ে জেলেকা বেগমের দুরবস্থার চিত্র দেখা যায়। ঘন জঙ্গলের মধ্যে মাটিতে শুয়ে কাঁদছিলেন তিনি। আশপাশে ছিল না নিরাপদ আশ্রয় কিংবা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বৃদ্ধার পক্ষে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে খোলা জায়গায় রাত কাটানো তার জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা সহজেই অনুমেয়।

কথা বলতে গেলে অস্পষ্ট কণ্ঠে নিজের কষ্টের কথা জানান জেলেকা। তার দাবি, ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না। কয়েকদিন আগে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় গলা চেপে ধরা ও লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগও করেন তিনি। তবে বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার বক্তব্য পুরোপুরি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি।

জেলেকা বেগমের থাকার জন্য আগে একটি পুরোনো ঘর ছিল। তবে ঘরটিতে আলো ও বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন। ফলে ঘরটির বসবাসের উপযোগিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একদিকে জরাজীর্ণ ঘর, অন্যদিকে জঙ্গলে খোলা আকাশের নিচে থাকা—কোনো অবস্থাতেই বৃদ্ধার নিরাপদ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা নেই।

জেলেকার তিন মেয়ে, কোনো ছেলে নেই। বড় মেয়ে ময়না বেগম (৪৮) স্বামী মস্ত বেপারী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে একই গ্রামে থাকেন। মেজ মেয়ে মনি আক্তার (৩৫) সৌদি আরবে এবং ছোট মেয়ে সিমা আক্তার (৩০) বর্তমানে দেশে রয়েছেন। জেলেকা মূলত বড় মেয়ের বাড়িতে থাকতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনার সুবিধার্থে তার দুই মেয়ে বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়ে বড় মেয়ের বাড়িতে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করান। সেখানে মায়ের থাকার ব্যবস্থা করার উদ্দেশ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই ঘরে তার বসবাস নিয়ে অভিযোগ দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম বলেন, জেলেকা যেভাবে জঙ্গলে পড়ে আছেন, তাতে রাতে শিয়াল-কুকুরের আক্রমণ কিংবা সাপের কামড়ের আশঙ্কা রয়েছে। একজন বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের এভাবে একা পড়ে থাকা খুবই কষ্টের।

আরেক প্রতিবেশী তোফাজ্জেল অভিযোগ করেন, জেলেকা বেগমকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হয় না। কখনও শুধু লবণ দিয়ে ভাত খেতে দেওয়া হয়, এমনকি পানিও ঠিকমতো দেওয়া হয় না বলে দাবি তার। খাবারের পাত্রে কুকুর-বিড়ালও খায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেয়ে ময়না বেগম। তার ভাষ্য, মা নিজেই ঘর থেকে বের হয়ে যান এবং ঘরে থাকতে চান না। তিনি বলেন, মাকে মারধর করা হয় না। সাধ্য অনুযায়ী থাকার ঘর পরিষ্কার রাখা এবং সপ্তাহে এক-দুই দিন গোসল করানোর ব্যবস্থাও করা হতো।

জেলেকার ১৫ বছর বয়সী নাতি মাসুম বলেন, তাদের পরিবার আর্থিক সংকটে রয়েছে। নিজেদের সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। তারপরও তারা দীর্ঘদিন ধরে নানির দেখাশোনা করছেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার ও কাপড় দিচ্ছেন। তার অভিযোগ, নানির অন্য দুই মেয়ে খোঁজখবর নেন না এবং তার ভরণপোষণের খরচও দেন না।

বিষয়টি সম্পর্কে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি জেনেছেন। বৃদ্ধার নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, জেলেকা বেগমের জন্য দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়, পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া এবং নির্যাতনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডেঙ্গু সচেতনতায় লিফলেট ও মশার কয়েল বিতরণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সচেতনতামূলক লিফলেট ও মশার কয়েল বিতরণ করা হয়েছে। 
ডেঙ্গু সচেতনতায় লিফলেট ও মশার কয়েল বিতরণ
৯ বছরের শিশুকে পেয়ে ‘নিজেকে থামাতে পারলেন না’ বৃদ্ধ
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ৫৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
৯ বছরের শিশুকে পেয়ে ‘নিজেকে থামাতে পারলেন না’ বৃদ্ধ
সাংবাদিক আলিফ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যায় জড়িত সন্দেহে অপূর্ব (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সাংবাদিক আলিফ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১
তালাক বন্ধ করেছে ফ্যামিলি কার্ড: চিফ হুইপ
ফ্যামিলি কার্ডের কারণে তালাক বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। সরকারের এ ধরনের ভালো কাজগুলো বারবার একটু মনে করিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এ আহ্বান জানান। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘উনি (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন মায়েদের। মায়েদের শক্তিশালী করেছেন। মায়েদের নামে হবে (ফ্যামিলি কার্ড)। মায়েরাই এই সুফল ভোগ করবেন। মায়েদের দুইটা সন্তানসহ তালাক দিবা, সেই সুযোগ আর নাই। এই তালাক বন্ধ করেছে এই ফ্যামিলি কার্ড।’ চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘এখন জামাইয়ের (স্বামী) ভাত খাইতে হইলে ওই মহিলার কাছে আসতে হবে। সেই কাজটা করেছেন তারেক রহমান সাহেব। ভালো না মন্দ কাজ? যদি ভালো হয় আপনারা বড় করে লেখেন। ভালো কাজগুলো বারবার মনে করায়ে দিয়েন।’ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, ভারতের আদানির কোম্পানির সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, সেই টাকা দিয়ে দেশে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করা যেত। বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি চক্র জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা—বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এ নীতিতেই বর্তমানে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। এ সময় তিনি দাবি করেন, গত দুই বছরে দেশে কোনো প্রতিমা বা মূর্তি ভাঙার রেকর্ড নেই। জেলা আইনশৃঙ্খলা–বিষয়ক সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ, জেলা প্রশাসক তাসলিমা আক্তার, পুলিশ সুপার কুদরত খুদা, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ। আরটিভি/এসআর
তালাক বন্ধ করেছে ফ্যামিলি কার্ড: চিফ হুইপ
দুর্গোৎসবে সরকারি সহযোগিতা বেড়েছে: প্রিন্স
নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোতে সরকারি আর্থিক সহায়তা ও সহযোগিতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
দুর্গোৎসবে সরকারি সহযোগিতা বেড়েছে: প্রিন্স
আরও পড়ুন
ডেঙ্গু সচেতনতায় লিফলেট ও মশার কয়েল বিতরণ
স্বজনদের মামলায় বাড়িছাড়া, ৫ মাস পর ফিরে ‘মাথায় হাত’
পূজার ছুটিতে বাড়ি ফেরা হলো না পুলিশ কনস্টেবল হিটলারের
ফরিদপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু