
চায়ের কাপে ধোঁয়া ওঠা উষ্ণতা আর মাটির কাপের নিজস্ব সুবাসের এর সঙ্গেই যদি জুড়ে যায় ফুচকার টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদ, তবে বিকেলের আড্ডা জমে উঠতে আর কী চাই! ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঘোড়শাল ইউনিয়নের নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের মনোরম ঝাঁপর নদীর উপর নির্মিত বড় ব্রিজের ওপর এমনই এক প্রাণবন্ত ও ব্যতিক্রমী চা আড্ডার ঠিকানা গড়ে তুলেছেন মিনা খাতুন। তিনি পেশায় একজন শিক্ষিকা হলেও, সমাজের নানা চেনা ছক ভেঙে নিজের আত্মপ্রত্যয় ও ভালোবাসা নিয়ে শুরু করেছেন ‘চা বেলা’ নামে এক ভিন্নধর্মী খাবারের দোকান।
একজন নারী হয়ে নিজের মেধা ও সাহসিকতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মিনার দোকানে প্রতিনিয়ত মানুষের উপচে পড়া ভিড় লেগেই থাকে।
মিনা খাতুনের চা বেলা’র মূল আকর্ষণ মাটির কাপে পরিবেশন করা সুস্বাদু খাঁটি দুধের চা। বিশেষ মশলার সংমিশ্রণে তৈরি এই চায়ের চমৎকার স্বাদ ও গন্ধ দূর-দূরান্তের মানুষকে টেনে আনছে। চায়ের পাশাপাশি এখানে পাওয়া যাচ্ছে মচমচে ও স্বাদরসে ভরপুর ফুচকা।
প্রতিদিন বিকেলে নারিকেলবাড়িয়া ঝাঁপর নদী সংলগ্ন বড় ব্রিজের উপর চা বেলা’র দোকান ঘিরে শুরু হয় ক্রেতাদের আনাগোনা। চেনা-অচেনা মানুষের কলকাকলি আর আড্ডায় স্থানটি হয়ে ওঠে মুখরিত। রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সেখানে চলে নানা বয়সী মানুষের ভিড়। শুধু স্থানীয়রা নন, চেনা গণ্ডি ছাড়িয়ে দূর-দূরান্ত থেকেও ভোজনরসিকরা আসছেন মাটির কাপে ধোঁয়া ওঠা চায়ের স্বাদ নিতে।
সাধারণত আমাদের সমাজে নারী উদ্যোক্তা কিংবা শিক্ষকতার পাশাপাশি এমন ভিন্নমাত্রার উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না। তবে মিনা খাতুন প্রমাণ করেছেন, সততা আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো কাজই সম্মানের ও সম্ভাবনার। একজন নারী হিসেবে সামাজিক বাধা দূরে ঠেলে স্বাবলম্বী হওয়ার এই প্রচেষ্টা এখন স্থানীয় তরুণ-তরুণী ও নারীদের কাছেও বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাফর মোল্লা নামে স্থানীয় একজন বলেন, বিকেল হলে অনেক দূর থেকে নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে ছুটে আসেন চা-ফুচকা খেতে।
উদ্যোক্তা মিনা খাতুন জানান, মানুষের ভালোবাসা ও আন্তরিকতা তাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছে। কোনো কাজে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তা সংশোধন করে ক্রেতাদের মূল্যবান পরামর্শকে সঙ্গী করেই প্রতিদিন মানসম্মত খাবার ও সেবা উপহার দিতে চান তিনি।
তিনি বলেন, দিনের বেলা শিক্ষকতা করি বিকেল ৪টার পর ব্যবসা করি। নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং নিজস্ব এক পছন্দের জায়গা তৈরির স্বপ্ন নিয়ে শুরু হওয়া এই চা বেলা এখন ঝাঁপর নদীর তীরে নারিকেলবাড়িয়া বড় ব্রিজের উপর সাধারণ মানুষের বিকেলের ক্লান্তি মেটানোর প্রিয় ঠিকানা হয়ে উঠেছে।
আরটিভি/এমএইচজে


