
ভোলার লালমোহন উপজেলায় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ ঘিরে দুই শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে রায়চাদ উদয়চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন এবং তার সহযোগী মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রমাগঞ্জ ইউনিয়নের কার্তারহাট থেকে রায়চাঁদ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের এসব গাছ কাটা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে গাছ কাটার চিহ্ন রয়েছে। কোথাও গাছের গোড়া পড়ে আছে, আবার কোথাও গোড়াসহ গাছ তুলে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কাটা গাছের মধ্যে রয়েছে রেইনট্রি, মেহগনি ও চাম্বলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।
তাদের ধারণা, এসব গাছের বাজারমূল্য প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা।
স্থানীয় কয়েকজন বলেন, আমাদেরকে বলা হয়েছিল গাছ কাটার টেন্ডার নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমরা জানতাম যে অবৈধভাবে গাছ কাটা হচ্ছে। কিছু গাছ রাতের আঁধারে ঢেকে রাখা ট্রাকে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবার কিছু গাছ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
গাছ কাটার ঘটনায় সরকারি সম্পদের ক্ষতি ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় মনিরের একটি করাতকল থেকে কিছু কাঠ জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে ঘটনার পর থেকে করাতকল কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।
গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে এর আগে গাছ কাটার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে, জসিম সংবাদ সম্মেলন করে গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (বন বিভাগ) আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, কাটা গাছগুলো বন বিভাগের আওতাধীন নয়। এসব গাছের বিষয়ে তার কার্যালয়ে কোনো নথিও নেই।
উপজেলা প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে জানান, তদন্ত ছাড়া গাছ কাটার সঙ্গে কারা জড়িত, তা বলা সম্ভব নয়।
পরে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে তিনি জানান, প্রশাসনের হিসাবে সড়ক থেকে ৬৪টি গাছ কাটা হয়েছে। প্রতিটি কাটা গাছের বিপরীতে ১০টি করে নতুন গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি, অর্থাৎ দুই শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে।
এদিকে সড়কটির ঠিকাদার মো. সবুজ মুঠোফোনে জানান, কিছুদিন ধরে তার কাজ বন্ধ রয়েছে। কে বা কারা গাছ কেটেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। গাছ কাটার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।
সড়কের পাশে থাকা গাছগুলোর মালিকানা কার ছিল এবং কার অনুমতিতে সেগুলো কাটা হয়েছে? বন বিভাগ গাছগুলোর মালিকানা অস্বীকার করলেও গাছ কাটার প্রকৃত সংখ্যা ও কাঠের হিসাব নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। এ অবস্থায় গাছ কাটার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত, কাঠের হিসাব প্রকাশ এবং পরিবেশের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন গাছ রোপণ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরটিভি/এমএইচজে




