ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

দুর্গন্ধের উৎস থেকে মিলল নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত

যশোরের কেশবপুরের পাঁজিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে ২ নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, ব্রাহ্মণডাঙ্গা বাসিন্দা ইদ্রিস আলী রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রচন্ড দুর্গন্ধ পান। এরপর উৎস সন্ধানে গিয়ে ধানক্ষেতের পাশে ছোট্ট একটি গর্তের মধ্যে এক নারী ও এক পুরুষের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

ওসি আরও জানান, গভীর রাত হওয়ায় এবং পচন ধরায় মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৮ মামলার আসামিকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখলো দুর্বৃত্তরা
খুলনায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শহীদুল (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শহীদুলের নামে মাদক ও হত্যাসহ ৮টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৮ মামলার আসামিকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখলো দুর্বৃত্তরা
বাইশরশি জমিদারবাড়ি সংরক্ষণের উদ্যোগ
দীর্ঘদিনের অবহেলা, অযত্ন ও দখল-বেদখলে ধ্বংসের মুখে পড়া ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহাসিক বাইশরশি জমিদারবাড়ি সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। বাড়িটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ভূমির তফসিল চেয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তরের এ উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলায় ইতিমধ্যে স্থাপনাটির অনেক নিদর্শন হারিয়ে গেছে। অবশিষ্ট অংশ রক্ষা এবং বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা। জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সদরপুর উপজেলার বাইশরশি এলাকায় অবস্থিত এ জমিদারবাড়ি। এর কাছেই রয়েছে আটরশির বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরিফ। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আটরশিতে আসা মানুষের পাশাপাশি ইতিহাস ও পুরোনো স্থাপনা দেখতে আগ্রহী দর্শনার্থীরাও ঘুরে যান বাইশরশি জমিদারবাড়িতে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, সপ্তদশ শতকের শুরুতে সাহা পরিবারের হাত ধরে এ জমিদারির গোড়াপত্তন হয়। লবণ ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে তারা পর্যায়ক্রমে ২২টি পরগনার জমিদারি ক্রয় করেন। অষ্টাদশ শতক থেকে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগ পর্যন্ত বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে প্রভাবশালী জমিদার হিসেবে পরিচিত ছিল পরিবারটি। একসময় প্রায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা জমিদারবাড়িতে ছিল মনোরম বাগান, পুকুর, পূজামণ্ডপ এবং কারুকার্যখচিত ছোট-বড় ১৪টি দালানকোঠা। এসব স্থাপনার নির্মাণশৈলীতে তৎকালীন সময়ের স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের ছাপ রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের অযত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক স্থাপনা ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ৩০ একর জমি অবশিষ্ট থাকলেও এর বড় একটি অংশ বেদখলে রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর জমিদার পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় চলে যান। পরবর্তী সময়ে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে বাড়িটি ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। স্বাধীনতার পর পরিবারের শেষ উত্তরাধিকারী সুকুমার রায় বাহাদুরের মৃত্যুর পর থেকে ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটির নিয়মিত দেখভালও বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা। বর্তমানে জমিদারবাড়ির বিভিন্ন অংশে উপজেলা ভূমি অফিস, একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ফায়ার সার্ভিস এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। তবে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ ও সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকায় জমিদারবাড়ির মূল্যবান পুরোনো দরজা-জানালা, লোহার কারুকাজসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন চুরি হয়ে যাচ্ছে। রাতে এলাকাটি নির্জন হয়ে পড়ায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এমনকি দিনের বেলাতেও ছিনতাইসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হাই বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই এই জমিদারবাড়ি দেখে আসছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক স্থাপনা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন যেটুকু আছে, সেটুকুও যদি সংরক্ষণ করা না হয়, তাহলে একসময় শুধু নামটুকুই থাকবে। সম্প্রতি জমিদারবাড়ি দেখতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, পুরোনো ভবনগুলো দেখে ভালো লেগেছে। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক জায়গায় সংরক্ষণ বা পর্যটকদের জন্য তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। সরকার উদ্যোগ নিলে এখানে আরও অনেক মানুষ ঘুরতে আসবেন। আরেক দর্শনার্থী বলেন, এখানে ইতিহাসের কোনো তথ্যফলক নেই। কোন ভবন কখন তৈরি হয়েছে কিংবা জমিদার পরিবারের ইতিহাস কী, তা জানারও সুযোগ নেই। জায়গাটি সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এদিকে জমিদারবাড়িটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, বাইশরশি জমিদারবাড়ি সংরক্ষণযোগ্য স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা ওই চিঠিতে আইন অনুযায়ী স্থাপনাটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণার জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমির তফসিল ও স্থানীয় প্রশাসনের মতামত প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। এ জন্য ভূমির তফসিল সংগ্রহ করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে পাঠাতে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে জমিদারবাড়ির সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ করে বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করতে হবে। এরপর প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থাপত্য বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পুরোনো ভবনগুলোর অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, পরিচ্ছন্নতা, তথ্যফলক, দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। স্থানীয়দের মতে, বাইশরশি জমিদারবাড়ি শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা নয়; এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করে বাড়িটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণার পাশাপাশি পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেরও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন বলেন, বাইশরশি জমিদারবাড়ি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে এ বাড়ির আশপাশের জমি যাঁরা দখল করেছেন, সেই দখলসংক্রান্ত বিষয়গুলো যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তী সময়ে জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারীরা একে একে এ বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরিবারের সর্বশেষ প্রজন্মের একজন সদস্য আত্মহত্যাও করেছিলেন। এরপর থেকেই বাড়িটি ধীরে ধীরে দখল ও বেদখলের শিকার হতে থাকে। সরকারও বাড়িটির কিছু অংশ ব্যবহার করছে। একসময় বিশাল এই জমিদারবাড়ি এখন প্রায় ভগ্নদশা ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, এ জমিদারবাড়ি শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সদরপুরের এ জমিদারদের বিশাল জমিদারি ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত ছিল। প্রজাদের কল্যাণে তারা অনেক জনহিতকর কাজ করেছেন। এ অঞ্চলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল নির্মাণেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, একসময় এ জমিদারবাড়ির আয়তন ছিল ৫০ একরেরও বেশি। বর্তমানে দখল হয়ে যাওয়া জমিগুলো কীভাবে উদ্ধার করা যায় এবং বাড়িটিকে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়, সে বিষয়ে আমি কাজ করছি। ভবিষ্যতেও এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখব। আরটিভি/টিআর
বাইশরশি জমিদার বাড়ি সংরক্ষণের উদ্যোগ
বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মাসুমা পেলেন এ গ্রেড
বাবার মরদেহ তখনও বাড়িতে। চারদিকে স্বজনদের কান্না আর শোকের মাতম। এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতিতেও বাবার স্বপ্ন পূরণের আশায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন যশোরের বেনাপোলের মেধাবী শিক্ষার্থী আফিয়া মাসুমা। বুকভরা কষ্ট আর চোখের জল নিয়ে একের পর এক পরীক্ষা শেষ করে অবশেষে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ গ্রেড অর্জন করেছে সে।
বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মাসুমা পেলেন এ গ্রেড
অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে পুকুরে জামায়াতের লংমার্চের বাস, নিহত ১
খুলনায় ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি শেষে সাতক্ষীরায় ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন আব্দুল খালেক মোড়ল (৭০) নামে এক পথচারী নিহত ও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে পুকুরে জামায়াতের লংমার্চের বাস, নিহত ১
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষকের ছদ্মবেশে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করেছেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. জাকির হোসেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কৃষকের ছদ্মবেশে দুই ‘মাটিখেকো’ ধরলেন ভূমি কর্মকর্তা 
আরও পড়ুন
বাড়িতে বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মাসুমা পেলেন এ গ্রেড
মৃত্যুর আগে মায়ের সঙ্গে শেষ কী কথা হয়েছিল তাহসিফের
তাহসিফ মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলল দীপের কাছ থেকে
বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতির বিষয়ে যা জানিয়েছিলেন তাহসিফ