
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশের প্রধান পথজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। কয়েক মাস আগে টানা বৃষ্টিতে পাশের পুকুরের পানি উপচে বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ ডুবে যায়। পরে পানি সরে গেলেও পানির সঙ্গে ভেসে আসা বর্জ্য এখনো সরানো হয়নি। ফলে প্রতিদিন এসব ময়লা মাড়িয়েই বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীদের।
দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলেও বর্জ্য অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। তাদের আশঙ্কা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চলাচলের কারণে শিশুরা জীবাণুর সংস্পর্শে এসে অসুস্থ হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে ভারী বৃষ্টিতে বিদ্যালয়সংলগ্ন ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরের পানি উপচে পড়ে। এতে ব্রাহ্মণপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ পানিতে তলিয়ে যায়।
পুকুরে ফেলা আশপাশের বাসাবাড়ির বর্জ্য এবং পুকুরের পাড়সংলগ্ন ব্রাহ্মণপাড়া সদর বাজারের ময়লা-আবর্জনাও পানির সঙ্গে ভেসে বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে জমা হয়। পরবর্তী সময়ে পানি নেমে গেলেও বর্জ্যগুলো রয়ে যায় পথের ওপর ও আশপাশে। দীর্ঘদিনেও সেগুলো পরিষ্কার না করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা সদরে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে প্রতিদিন অসংখ্য শিশু পড়তে আসে। বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় তাদের ময়লা-আবর্জনার ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে পোশাক ও জুতা নোংরা হওয়ার পাশাপাশি জীবাণুর সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পচনশীল বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে তা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ এমন অপরিচ্ছন্ন থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিশুদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এক অভিভাবক বলেন, রাস্তার ওপর পড়ে থাকা ময়লা মাড়িয়েই ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। কেউ কেউ এ পথ এড়িয়ে কিছুটা ঘুরে বণিক বাড়ির ওপর দিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। আবার অনেকে নিরুপায় হয়ে ময়লার ওপর দিয়েই চলাচল করছে। এসব বর্জ্যে জীবাণু থাকলে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত স্কুলের প্রবেশপথ পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
আরেক অভিভাবক কামাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের মতো একটি জায়গার প্রবেশপথে দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলতে পারে না। অনেক শিক্ষার্থীকে বিকল্প পথ ধরে ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। দ্রুত ময়লা পরিষ্কার করে প্রধান প্রবেশপথটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা এবং শিশুদের নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশে যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগির এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, বিদ্যালয়সংলগ্ন পুকুরটি ব্রাহ্মণপাড়া ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের। ভারী বৃষ্টি হলেই পুকুরটি পানিতে পূর্ণ হয়ে উপচে পড়ে। এতে ব্রাহ্মণপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথ তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, সমস্যাটি সমাধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার পর বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার বিষয়টিও তাঁকে জানানো হবে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা আছে। পুকুরের পানি উপচে বারবার জলাবদ্ধতা তৈরির সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে শিগগির সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে।
তিনি বলেন, প্রথমে জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর বিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা গেলে বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে বারবার ময়লা জমার সমস্যাও দূর হবে।
আরটিভি/এসআর




