
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার একটি সরকারি কলেজসহ ১১টি কলেজের প্রকাশিত ফলাফলে গড় পাসের হার নেমে এসেছে প্রায় ২৭ শতাংশে। অথচ ২০২৫ সালে এসব কলেজে গড় পাসের হার ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হারে এমন বড় পতনে অভিভাবক ও স্থানীয়রাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে কলেজগুলোর পাঠদান, শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে।
গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার অধিকাংশ কলেজেই অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা উত্তীর্ণদের তুলনায় অনেক বেশি। এমনকি একটি নন এমপিওভুক্ত কলেজের পাঁচজন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি।
কলেজগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এগারোটা কলেজ থেকে মোট ২ হাজার ৯১৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে ৭৮৭ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। অকৃতকার্যের সংখ্যা ২ হাজার ১৩১ জন।
ফলাফল অনুযায়ী, চরফ্যাশন সরকারি কলেজে ৯৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩৩৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৬৩০ জন। ওসমানগঞ্জ ইউনাইটেড কলেজে ১৭৬ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৪১ জন এবং ফেল করেছেন ১৩৫ জন।
জনতা বাজার শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজে ১০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১৮ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৮৯ জন। দুলারহাট আদর্শ কলেজে ১৮৩ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৪২ জন, ফেল করেছেন ১৪১ জন।
ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে ৩১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৪৩ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছেন ১৬৮ জন। রসূলপুর ডিগ্রি কলেজে ১৬৩ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৪৮ জন, ফেল করেছেন ১১৫ জন।
দুলারহাট মডেল কলেজের ফলাফলও হতাশাজনক। প্রতিষ্ঠানটির ২৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৩৮ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ২০৫ জন। বেগম রহিমা ইসলাম কলেজে ৪০৮ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৬১ জন এবং ফেল করেছেন ৩৪৭ জন।
এ ছাড়া চেয়ারম্যান বাজার আইডিয়াল কলেজে ১০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২২ জন, ফেল করেছেন ৮০ জন। দক্ষিণ আইচা কলেজে ২৫৭ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৪১ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ২১৬ জন।
অন্যদিকে নন এমপিওভুক্ত চর মানিকা জালাল আহামেদ কলেজের পাঁচজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজনও পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ পরীক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন।
বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর বলেন, এখনকার শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় অমনোযোগী। তবে কলেজে পাঠদানের বিষয়ে শিক্ষকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। সামনের দিনগুলোতে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা আরো মনোযোগী হওয়া দরকার।
চর মানিকা জালাল আহামেদ কলেজের অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলাম বলেন, ২০০১ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখনো এমপিওভুক্ত করতে না পারায় শিক্ষকরা চলে গেছে। শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও সীমিত।
চরফ্যাশন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জসিম উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট খারাপ হওয়ার পিছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। তারমধ্যে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিত। এবং তারা বাড়িতে গেলে মোবাইলে আসক্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে আমি অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করার পর নিয়মিত অভিভাবক মিটিং করেছি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মানোন্নয়ন করার জন্য। আশা করছি সামনের দিনগুলোতে শিক্ষার্থীরা আরও মনোযোগী হবে।
সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি কলেজে পাসের হার অত্যন্ত কম। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম, নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
আরটিভি/এমএইচজে


