ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ৩৩ লাখ টাকার সেতুতে উঠতে হয় মই দিয়ে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুতে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি জনসাধারণের কোনো উপকারে আসছে না। বাধ্য হয়ে সেতুর এক পাশে বাঁশের মই বসিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা।

এতে শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামে দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সীমানা-সংলগ্ন খালের ওপর সেতুটি নির্মিত হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আরিফ এন্টারপ্রাইজ’। তবে সেতু নির্মিত হলেও এক পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় প্রকৌশলীদের নকশা ও নিয়মশৃঙ্খলা উপেক্ষা করে খাল ও রাস্তার পাশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কাটা হয়েছে। এতে খালের পাড় ভেঙে স্থানীয় মোহাম্মদ গাজীর বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ধসে পড়েছে পাকা রাস্তার একাংশ। বর্তমানে সেটি খালের মধ্যে বিলীন হওয়ার পথে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসমাপ্ত থাকায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর এক পাশের সংযোগ সড়কের প্রায় কোনো অস্তিত্বই নেই। মাটি ধসে সেখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খালের পাশে বসবাসরত একটি পরিবারের ঘরও ধসে পড়েছে। সেতুতে ওঠানামার একমাত্র ভরসা হিসেবে স্থানীয়রা বাঁশের মই ব্যবহার করছেন।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির গাজী আবুল হোসেন বলেন, ৭ নম্বর মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন ও রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ঠিকাদারের অপরিকল্পিত কাজের কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তার অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় খাল ও রাস্তার পাশ থেকে বিপুল মাটি কেটে বিক্রি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে মাটি ভরাট না করায় বর্ষায় রাস্তার অংশ ধসে পড়ে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি বলে জানান তিনি। তিনি দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং মুন্সিগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পাইলিং করে সংস্কারের দাবি জানান।

ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল আমাদের সুবিধার জন্য। কিন্তু ঠিকাদারের অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে আমার বসতভিটা ভাঙনের মুখে পড়েছে এবং ঘরের একটি অংশ ভেঙে গেছে। এরপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রেখেছে। সেতুর মূল কাঠামো নির্মিত হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাতে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার বড় আশঙ্কা রয়েছে।

মীরগাং জামে মসজিদের সেক্রেটারি রুহুল আমিন বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতি ও তদারকির অভাবের কারণে সরকারের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি মানুষের কোনো কাজে আসছে না। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘর পুনর্নির্মাণে সহায়তা এবং দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।

রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করছেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিরাজ হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সেতুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির মৃত্যুর গুজবে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে গ্রামের দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির মৃত্যুর গুজবে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট
৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবসে মনপুরায় বর্ণাঢ্য আয়োজন
করব সমবায়, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভোলার মনপুরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে।
৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবসে মনপুরায় বর্ণাঢ্য আয়োজন
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৯
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরের দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। 
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৯
হিমাগারে আলুর কেজি ১১ টাকা, তবুও নেই ক্রেতা
হিমাগারে পড়ে আছে হাজার হাজার টন আলু। অথচ ক্রেতা নেই। বাধ্য হয়ে প্রতি কেজি ১১ থেকে ১২ টাকায় আলু বিক্রি করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু হিমাগারে সংরক্ষণ করতেই কেজিপ্রতি খরচ হয়েছে ৯ টাকার বেশি।  উৎপাদন ও সংরক্ষণ মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২০ টাকারও বেশি। ফলে কম দামে আলু বিক্রি করেও লোকসান কমাতে পারছেন না তারা। এ অবস্থায় কুড়িগ্রামের ছয়টি হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু অবিক্রীত পড়ে থাকার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।   কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি মৌসুমে আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় শুরু থেকেই বাজারে চাপ ছিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে খালি বস্তার সংকট ও বাড়তি দাম এবং হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধি। দাম বাড়বে—এমন আশায় অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী আলু বিক্রি না করে হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু বাজারে দাম বাড়ার পরিবর্তে ক্রমেই কমতে থাকে। এখন ঋণ, বস্তা ও হিমাগার ভাড়ার দায় মেটাতে গিয়ে অনেককে উল্টো নিজের পকেট থেকে টাকা দিতে হচ্ছে।   হিমাগারে আলু সংরক্ষণকারী কৃষক আব্দুল্লাহ বলেন, ভালো দামের আশায় আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। এখন যে দাম, তাতে আলু বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠছে না। হিমাগার ভাড়া, বস্তা ও অন্যান্য খরচ যোগ করে আরও বড় লোকসান গুনতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলী বলেন, এ অঞ্চলে আলুর উৎপাদন বেশি। কিন্তু একসঙ্গে এত আলু বাজারে আসায় দাম পড়ে গেছে। এখন হিমাগার থেকে আলু বের করার জন্য কৃষকদের চাপ বাড়ছে, অথচ পাইকারের দেখা মিলছে কম। রোকন মিয়া বলেন, ১১-১২ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করে কৃষকের কোনো লাভ নেই। অনেকে ঋণ করে আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ করেছেন। দ্রুত দাম না বাড়লে তাঁদের লোকসানের বোঝা আরও বাড়বে। বাবর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফ আল মাসুদ জানান, চলতি বছর তাঁদের হিমাগারে ১১ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয় হাজার মেট্রিক টন বিক্রি হয়েছে। এখনো পাঁচ হাজার মেট্রিক টন আলু অবিক্রীত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন বীজ আলু। বাকি আলু আগামী দুই মাসের মধ্যে বিক্রি করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আলু চাষের জন্য অনুকূল হওয়ায় এখানে উৎপাদন বেশি হয়। উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম। এ কারণে কৃষকরা ব্যাপকভাবে আলু চাষ করেন। একই সময়ে বেশি আলু উৎপাদিত হওয়ায় তখন দাম কমে যায়।  তিনি বলেন, বর্তমানে হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষিত রয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজারদর বাড়ানো সম্ভব হলে কৃষকদের ভোগান্তি কমবে এবং হিমাগারে থাকা আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না। আরটিভি/এসআর
হিমাগারে আলুর কেজি ১১ টাকা, তবুও নেই ক্রেতা
বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
আরও পড়ুন
ভোরে হাঁটতে বের হয়ে আর ঘরে ফেরা হলো না রহিমার
ছোটভাইয়ের প্রেমে ‘নজর’ বড় ভাইয়ের, এক কাঠি সরেস ভাবিও
গুদামে আগুন লেগে পুড়ল ১৩০০ মণ পাট, ক্ষতি প্রায় ৬৫ লাখ টাকা
দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর