
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় গভীর রাতে পাটের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ মণ পাট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে পাটের মূল্য ৬৫ লাখ টাকা হয়েছে বলে দাবি করেছেন গুদাম মালিক ব্যবসায়ী গোলাম ফারুক মধু।
তার অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে গুদামে আগুন দিয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ১১ নম্বর দেয়াড়া ইউনিয়নের খোরদো বাজার পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী গোলাম ফারুক মধু খোরদো বাজারের দীর্ঘদিনের সার ব্যবসায়ী এবং ১১ নম্বর দেয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সার্চ কমিটির সদস্য।
সার ব্যবসার পাশাপাশি তিনি প্রতিবছর ধান ও পাটের মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে এসব পণ্য কিনে গুদামজাত করেন। পরে মৌসুম শেষে সেগুলো বিক্রি করেন। এবছরও তিনি প্রায় ১ হাজার ৩০০ মণ পাট কিনে গুদামে সংরক্ষণ করেছিলেন।
গোলাম ফারুক মধু জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে দুর্বৃত্তরা গুদামের পেছন দিক থেকে টিনের চালের নিচ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে তার ধারণা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং গুদামে থাকা অধিকাংশ পাট পুড়ে যায়।
কলারোয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে দুটি ইউনিট নিয়ে রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তারা। এরপর টানা তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ততক্ষণে গুদামে থাকা অধিকাংশ পাট পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে কেউ আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
খোরদো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




