ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

বরিশালে গোপনে নারীদের আপত্তিকর ভিডিওধারণ, গণপিটুনি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
অভিযুক্ত ব্যক্তি বায়জীদ হোসেন মিঠু। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের উজিরপুরে গোপনে নারীদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) গভীর রাতে উজিরপুর শহরের উপজেলা পরিষদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রোববার (৮ নভেম্বর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম বায়জীদ হোসেন মিঠু। তিনি উজিরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বায়জীদ হোসেন মিঠু দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন বাসাবাড়ির জানালা ও বাথরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে নারীদের অজান্তে ভিডিও ধারণ করতেন। পরবর্তী সময়ে এসব গোপন ভিডিও দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট নারীদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করা ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

শনিবার রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকার একটি বাসার ভেন্টিলেটর দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণের সময় স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটকের পর অভিযুক্ত মিঠুর ব্যবহৃত মুঠোফোন তল্লাশি করে পাঁচটি আপত্তিকর ভিডিও পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত ভিডিওগুলোর মূল বিষয়বস্তু এবং এ ঘটনার সঙ্গে তার পূর্ণ সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পলাতকদের দেশে এসে মামলার বিচার ও সাজা মোকাবিলা করা উচিত: সড়কমন্ত্রী
পলাতক ও ওয়ান্টেড আসামিদের দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিচার আইনের মাধ্যমেই হচ্ছে। রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ইছামতী নদীর ওপর নির্মাণাধীন কুন্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, যাঁরা পালিয়ে গিয়েছেন, পলাতক আসামি, ওয়ান্টেড আসামি—তারা দেশে আসুন, সেটা তো আইন চায়। তাদের যে সাজা আছে, সেই সাজা মোকাবিলার জন্যও আমরা চাই, তারা দেশে এসে আদালতের মুখোমুখি হোন। তিনি আরও বলেন, ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের নানা অপকর্ম, দুর্নীতি, গণহত্যা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অনেক মামলার রায় হয়েছে, কিছু মামলার বিচার এখনো চলমান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা রায় কার্যকর করবে সরকার ও বিচার বিভাগ। এর আগে ৬৮ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ইছামতী নদীর ওপর কুন্ডেরবাজার সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মন্ত্রী। মুন্সীগঞ্জ (হাতিমারা)-কুন্ডেরবাজার-শ্রীনগর (ছনবাড়ি) জেলা মহাসড়কের ষষ্ঠ কিলোমিটারে নির্মিতব্য সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ১৫১ দশমিক ৯০ মিটার এবং প্রস্থ ১০ দশমিক ৩০ মিটার। প্রকল্পের প্রস্তাবিত মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। সেতুটি নির্মিত হলে টঙ্গিবাড়ী, সিরাজদিখানসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলোসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে যোগ দেন মন্ত্রী। এতে সভাপতিত্ব করেন টঙ্গিবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলী আসগর রিপন মল্লিক। আরটিভি/টিআর
পলাতকদের দেশে এসে মামলার বিচার ও সাজা মোকাবিলা করা উচিত: সড়কমন্ত্রী
চাচাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ভাতিজাদের বিরুদ্ধে
শেরপুর সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কুসুমহাটি কাজিরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. জিন্নাত আলী (৬৫) শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কুসুমহাটি কাজিরচর গ্রামের মৃত টন মাহমুদের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার কুসুমহাটি কাজিরচর এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে চাচা ও ভাতিজাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় নিহতের ভাতিজা জসিম, মাজহার ও নজরুলসহ ৫-৬ জন মিলে মো. জিন্নাত আলীকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন এবং ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর ও মুমূর্ষু অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে শেরপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আরটিভি/টিআর
চাচাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ভাতিজাদের বিরুদ্ধে
সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে অপহরণের শিকার ১০ জেলে
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। অপহৃত জেলেদের স্বজনেরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনের আমির আলী ও আলম সানার নেতৃত্বাধীন দুটি জলদস্যু বাহিনী জেলেদের অপহরণ করেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে  রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত সুন্দরবনের নোটাবেঁকী, আগুনজ্বালা, জলঢাকা, চালতেবেড়ে ও রায়মঙ্গল নদী এলাকা থেকে এসব জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃত জেলেরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের রুবেল, ইমরান ও খোরশেদ, ছোটভেটখালী গ্রামের নুরুজ্জামান, কালিঞ্চি গ্রামের সিদ্দিক গাজী ও জহুর আলী, সিংহড়তলী গ্রামের সুরাত আলী এবং কয়রা উপজেলার মোমিন মোড়ল, দিদারুল ও ইমরান। অপহৃত জেলেদের স্বজন ও অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরে আসা কয়েকজন জেলে জানান, প্রতিটি নৌকায় তিনজন করে জেলে ছিলেন। সেখান থেকে একজন করে জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃত জেলেদের মুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শাহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, কয়েকজন জেলেকে অপহরণের বিষয়টি তিনি বন থেকে ফিরে আসা জেলেদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। বন বিভাগের টহল দল সুন্দরবনের ভেতরে অভিযান চালাচ্ছে। তবে বিশাল বনাঞ্চলে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা বন বিভাগের একার পক্ষে কঠিন। আরটিভি/টিআর
সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে অপহরণের শিকার ১০ জেলে
ভাতিজার হামলায় চাচার মৃত্যু
বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার শিকার হওয়ার নয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ার হোসেন হাওলাদার (৫২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
ভাতিজার হামলায় চাচার মৃত্যু
দখলদারদের কবলে ফেনীর রাজাঝির দিঘি, পাড়জুড়ে ৫০০ অবৈধ দোকান
ফেনী শহরের ফুসফুসখ্যাত ঐতিহাসিক রাজাঝির দিঘির পাড় দখল করে বছরের পর বছর ধরে চলছে অবৈধ বাণিজ্য। ফলে দিঘির চারপাশে সড়ক থাকলেও যান চলাচল তো দূরের কথা, পথচারীদের পায়ে হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের বড় অংশজুড়ে জবরদখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে পাঁচ শতাধিক দোকান। এসব দোকানের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে দিঘিতে। ফলে দখল ও দূষণে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে ফেনী শহরের ‘জন্মসাক্ষী’ এ দিঘি। পুরো এলাকাই এখন ভয়াবহ দখল ও দূষণের কবলে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিপুরার মানিক্য রাজবংশের জনৈক রাজা তার অন্ধ কন্যার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে ১০ দশমিক ৩২ একর জায়গাজুড়ে এ দিঘি খনন করেন। সেখান থেকেই দিঘিটির নাম হয় রাজাঝির দিঘি বা রাজনন্দিনীর দিঘি। ফেনী শহরের প্রাণকেন্দ্র ট্রাংক রোডের পাশে এ দিঘির অবস্থান। আগে ফেনীতে কেউ বেড়াতে এলে প্রথমেই ছুটে যেতেন রাজাঝির দিঘির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এখানকার নির্মল জলরাশি আর মুক্ত বাতাসে প্রাণ খুলে শ্বাস নিতেন দর্শনার্থীরা। এ রাজাঝির দিঘিকে ঘিরেই ১৮৭৫ সালে ফেনী মহকুমার সদর দপ্তর গড়ে তোলা হয়। জেলায় উন্নীত হওয়ার পরও দিঘির পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালত, অফিসার্স ক্লাব, কোর্ট মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও বাসভবন, ফেনী মডেল থানা এবং উত্তর-পশ্চিম কোণে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছিল। উত্তর পাড়ে ছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডাকবাংলো। পরে জেলা সদর দপ্তর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আদালত সেখানে স্থানান্তর করা হয়। এ দিঘিকে কেন্দ্র করেই ফেনী মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি সত্ত্বেও দখল ও দূষণে দিঘি এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অবৈধ দখল ও দূষণে এখন দিঘিটির প্রাণ যায় যায় অবস্থা। অন্যদিকে, পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে অবৈধ দোকানপাট গড়ে ওঠায় সেখানে মাদকসেবী ও ইভ টিজারদের আনাগোনা বেড়েছে। দোকানপাটের আড়ালে মাদকের রমরমা কারবার চলে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট। এ ছাড়া শহরের প্রাণকেন্দ্রের এ দিঘি থেকে সম্প্রতি দুটি অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দিঘির পূর্ব ও দক্ষিণ পাড়ে জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ফেনী পৌরসভা দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করলেও অবৈধ স্থাপনাগুলো এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতের কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসন বারবার ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর আগে কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর আবার পুরোনো চেহারায় ফিরে যায় দিঘির পাড়। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর, ২০১৭ সালের এপ্রিল ও ২০১৯ সালের মার্চে দিঘির পাড় অবৈধ দখলমুক্ত করেছিল ফেনী জেলা প্রশাসন ও ফেনী পৌরসভা। তখন ফেনী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ দোকান সরিয়ে নিতে মাইকিং করলেও তাতে কর্ণপাত করেননি দোকানিরা। সে সময় বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। একটি প্রভাবশালী মহল এখানকার ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানা যায়। তাদের ছত্রচ্ছায়াতেই ব্যবসায়ীরা এখানে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, এ ব্যবসা তারা নিয়ন্ত্রণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা এসব অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে দিঘির প্রাণ-প্রকৃতি ফিরিয়ে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয়রা বলেন, সরকারি জায়গা জবরদখল করে অবৈধ দোকান নির্মাণের মাধ্যমে বছরের পর বছর অবৈধ বাণিজ্য চলছে। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের নেতারা এ থেকে ভাগ পেলেও ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তা এ থেকে অবৈধ সুবিধা ভোগ করছেন বলে তাদের অভিযোগ। এসব কাজে ইলিয়াস নামের এক ব্যক্তি সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয়রা আরও বলেন, একজন ব্যবসায়ীকে দোকানে বিদ্যুৎ-সংযোগ নিতে জমির কাগজসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র জমা দিতে হয়। সেখানে পিডিবি কীভাবে এসব দোকানে বিদ্যুৎ-সংযোগ দিল? জেলা শহরের ফুসফুসখ্যাত এ দিঘির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিঘির পাড়ের কাপড় ব্যবসায়ী মোর্শেদ আলম বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন এ দিঘির পাড়ে ব্যবসা করেছেন। সম্প্রতি তার মৃত্যুর পর আমি দোকানটি পরিচালনা করছি। এটি দিয়েই আমাদের সংসার চলে। তাছাড়া দিঘির পাড়ের এসব দোকান ঘিরে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের সংসার চলছে। এখানে ব্যবসা করতে না পারলে এসব পরিবারের মানুষগুলোর না খেয়ে মরার দশা হবে। জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা যদি একটি হকার্স মার্কেট তৈরি করে দেয়, তাহলে আমাদের স্থায়ী পুনর্বাসন হবে। ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির উদ্দিন বলেন, রাজাঝির দিঘির পাড়ের পাঁচ শতাধিক অবৈধ দোকান পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই বসছে। এ থেকে পৌরসভা কোনো ভাড়া পায় না। আমরা লোকমুখে শুনেছি, কে বা কারা প্রতি দোকান থেকে মাসিক ৬০০ টাকা করে আদায় করে। এ বিষয়ে পৌরসভা কিছুই জানে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আহমেদ মিষ্টার বলেন, রাজাঝির দিঘির পাড়ের অবৈধ দোকানগুলো শহরের জন্য একটি বিষফোঁড়া। আমাদের বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে এবং সব ধরনের কর পরিশোধ করেও ব্যবসা করতে পারছেন না। আর তারা অবৈধ জায়গা দখল করে ব্যবসা করবেন, এটি হতে পারে না। অবিলম্বে এসব অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে দিঘির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে হবে। ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, রাজাঝির দিঘির পাড়কে কেন্দ্র করেই আজকের ফেনী শহরের গোড়াপত্তন হয়েছে। দিঘির আশপাশে ছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়। কালের পরিক্রমায় দিঘির পাড় এখন অবৈধ হকারদের দখলে চলে গেছে। নামকাওয়াস্তে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করে প্রশাসন যদি সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এসব দোকান ভাড়া দেয়, তাহলে সরকারের বিপুল রাজস্ব আদায় হবে। সন্ধ্যাকালীন বাজার বসালে জায়গাটি দখলমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি হকারদেরও পুনর্বাসন হবে। আরটিভি/টিআর
দখলদারদের কবলে ফেনীর রাজাঝির দিঘি, পাড়জুড়ে ৫০০ অবৈধ দোকান
আরও পড়ুন
ভাতিজার হামলায় চাচার মৃত্যু
টিকটক করায় মায়ের শাসন, রান্নাঘরে গিয়ে ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিলো মাদরাসাছাত্রী
ববিতে ১৪ শিক্ষক নিয়োগের আগেই বিজ্ঞপ্তিতে কারসাজির অভিযোগ
প্রবাসী স্বামীর টাকায় পড়াশোনা-চাকরি, সহকর্মীর সঙ্গে ‘সম্পর্কে’ জড়িয়ে কারাগারে শিক্ষিকা