ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

ভাতিজার হামলায় চাচার মৃত্যু

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
ছবি: আরটিভি

বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার শিকার হওয়ার নয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ার হোসেন হাওলাদার (৫২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত আনোয়ার হোসেন হাওলাদার উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভবানীপুর গ্রামের মৃত আকব্বর হাওলাদারের ছেলে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে আনোয়ার হাওলাদারের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন ও ছোট ভাই মঞ্জু হাওলাদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি নিজের জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে তার ভাতিজা সোহেল হাওলাদার ও নাসিম হাওলাদার এতে বাধা দেন। এ বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি স্বজনদের।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর রাতে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আনোয়ার হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সোহেল হাওলাদার, নাসিম হাওলাদার, সমীর হাওলাদার, নয়ন খানসহ কয়েকজন তার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে আসিফ হাওলাদার ও মেয়ে নুপুর আক্তার জানান, তাদের বাবার ওপর হামলার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে মর্মাহত। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

নিহতের ভাগ্নে মো. জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার মামাকে পরিকল্পিতভাবে হামলা করে হত্যা করা হয়েছে। হামলায় আনোয়ার হাওলাদারের মাথার খুলি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চিকিৎসার প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খুলির একটি অংশ খুলে সংরক্ষণ করতে হয়েছিল। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

পরিবারের দাবি, হামলার ঘটনার পরই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ পাওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনেরা।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আনোয়ার হোসেন নামে একজনের মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে মামলা নেওয়া হবে। হামলার বিষয়ে নয় দিন আগে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নেয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের কোনো গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চাচাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ভাতিজাদের বিরুদ্ধে
শেরপুর সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কুসুমহাটি কাজিরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. জিন্নাত আলী (৬৫) শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কুসুমহাটি কাজিরচর গ্রামের মৃত টন মাহমুদের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার কুসুমহাটি কাজিরচর এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে চাচা ও ভাতিজাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় নিহতের ভাতিজা জসিম, মাজহার ও নজরুলসহ ৫-৬ জন মিলে মো. জিন্নাত আলীকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন এবং ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর ও মুমূর্ষু অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে শেরপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আরটিভি/টিআর
চাচাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ভাতিজাদের বিরুদ্ধে
সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে অপহরণের শিকার ১০ জেলে
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে মুক্তিপণের দাবিতে ১০ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। অপহৃত জেলেদের স্বজনেরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনের আমির আলী ও আলম সানার নেতৃত্বাধীন দুটি জলদস্যু বাহিনী জেলেদের অপহরণ করেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে  রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত সুন্দরবনের নোটাবেঁকী, আগুনজ্বালা, জলঢাকা, চালতেবেড়ে ও রায়মঙ্গল নদী এলাকা থেকে এসব জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃত জেলেরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের রুবেল, ইমরান ও খোরশেদ, ছোটভেটখালী গ্রামের নুরুজ্জামান, কালিঞ্চি গ্রামের সিদ্দিক গাজী ও জহুর আলী, সিংহড়তলী গ্রামের সুরাত আলী এবং কয়রা উপজেলার মোমিন মোড়ল, দিদারুল ও ইমরান। অপহৃত জেলেদের স্বজন ও অপহরণকারীদের কবল থেকে ফিরে আসা কয়েকজন জেলে জানান, প্রতিটি নৌকায় তিনজন করে জেলে ছিলেন। সেখান থেকে একজন করে জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃত জেলেদের মুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শাহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, কয়েকজন জেলেকে অপহরণের বিষয়টি তিনি বন থেকে ফিরে আসা জেলেদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। বন বিভাগের টহল দল সুন্দরবনের ভেতরে অভিযান চালাচ্ছে। তবে বিশাল বনাঞ্চলে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা বন বিভাগের একার পক্ষে কঠিন। আরটিভি/টিআর
সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে অপহরণের শিকার ১০ জেলে
দখলদারদের কবলে ফেনীর রাজাঝির দিঘি, পাড়জুড়ে ৫০০ অবৈধ দোকান
ফেনী শহরের ফুসফুসখ্যাত ঐতিহাসিক রাজাঝির দিঘির পাড় দখল করে বছরের পর বছর ধরে চলছে অবৈধ বাণিজ্য। ফলে দিঘির চারপাশে সড়ক থাকলেও যান চলাচল তো দূরের কথা, পথচারীদের পায়ে হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের বড় অংশজুড়ে জবরদখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে পাঁচ শতাধিক দোকান। এসব দোকানের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে দিঘিতে। ফলে দখল ও দূষণে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে ফেনী শহরের ‘জন্মসাক্ষী’ এ দিঘি। পুরো এলাকাই এখন ভয়াবহ দখল ও দূষণের কবলে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিপুরার মানিক্য রাজবংশের জনৈক রাজা তার অন্ধ কন্যার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে ১০ দশমিক ৩২ একর জায়গাজুড়ে এ দিঘি খনন করেন। সেখান থেকেই দিঘিটির নাম হয় রাজাঝির দিঘি বা রাজনন্দিনীর দিঘি। ফেনী শহরের প্রাণকেন্দ্র ট্রাংক রোডের পাশে এ দিঘির অবস্থান। আগে ফেনীতে কেউ বেড়াতে এলে প্রথমেই ছুটে যেতেন রাজাঝির দিঘির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এখানকার নির্মল জলরাশি আর মুক্ত বাতাসে প্রাণ খুলে শ্বাস নিতেন দর্শনার্থীরা। এ রাজাঝির দিঘিকে ঘিরেই ১৮৭৫ সালে ফেনী মহকুমার সদর দপ্তর গড়ে তোলা হয়। জেলায় উন্নীত হওয়ার পরও দিঘির পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালত, অফিসার্স ক্লাব, কোর্ট মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও বাসভবন, ফেনী মডেল থানা এবং উত্তর-পশ্চিম কোণে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছিল। উত্তর পাড়ে ছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডাকবাংলো। পরে জেলা সদর দপ্তর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও আদালত সেখানে স্থানান্তর করা হয়। এ দিঘিকে কেন্দ্র করেই ফেনী মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি সত্ত্বেও দখল ও দূষণে দিঘি এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অবৈধ দখল ও দূষণে এখন দিঘিটির প্রাণ যায় যায় অবস্থা। অন্যদিকে, পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে অবৈধ দোকানপাট গড়ে ওঠায় সেখানে মাদকসেবী ও ইভ টিজারদের আনাগোনা বেড়েছে। দোকানপাটের আড়ালে মাদকের রমরমা কারবার চলে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট। এ ছাড়া শহরের প্রাণকেন্দ্রের এ দিঘি থেকে সম্প্রতি দুটি অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দিঘির পূর্ব ও দক্ষিণ পাড়ে জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ফেনী পৌরসভা দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ করলেও অবৈধ স্থাপনাগুলো এবং কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতের কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসন বারবার ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর আগে কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর আবার পুরোনো চেহারায় ফিরে যায় দিঘির পাড়। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর, ২০১৭ সালের এপ্রিল ও ২০১৯ সালের মার্চে দিঘির পাড় অবৈধ দখলমুক্ত করেছিল ফেনী জেলা প্রশাসন ও ফেনী পৌরসভা। তখন ফেনী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ দোকান সরিয়ে নিতে মাইকিং করলেও তাতে কর্ণপাত করেননি দোকানিরা। সে সময় বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। একটি প্রভাবশালী মহল এখানকার ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানা যায়। তাদের ছত্রচ্ছায়াতেই ব্যবসায়ীরা এখানে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, এ ব্যবসা তারা নিয়ন্ত্রণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা এসব অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে দিঘির প্রাণ-প্রকৃতি ফিরিয়ে আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয়রা বলেন, সরকারি জায়গা জবরদখল করে অবৈধ দোকান নির্মাণের মাধ্যমে বছরের পর বছর অবৈধ বাণিজ্য চলছে। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের নেতারা এ থেকে ভাগ পেলেও ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তা এ থেকে অবৈধ সুবিধা ভোগ করছেন বলে তাদের অভিযোগ। এসব কাজে ইলিয়াস নামের এক ব্যক্তি সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয়রা আরও বলেন, একজন ব্যবসায়ীকে দোকানে বিদ্যুৎ-সংযোগ নিতে জমির কাগজসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র জমা দিতে হয়। সেখানে পিডিবি কীভাবে এসব দোকানে বিদ্যুৎ-সংযোগ দিল? জেলা শহরের ফুসফুসখ্যাত এ দিঘির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিঘির পাড়ের কাপড় ব্যবসায়ী মোর্শেদ আলম বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন এ দিঘির পাড়ে ব্যবসা করেছেন। সম্প্রতি তার মৃত্যুর পর আমি দোকানটি পরিচালনা করছি। এটি দিয়েই আমাদের সংসার চলে। তাছাড়া দিঘির পাড়ের এসব দোকান ঘিরে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের সংসার চলছে। এখানে ব্যবসা করতে না পারলে এসব পরিবারের মানুষগুলোর না খেয়ে মরার দশা হবে। জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা যদি একটি হকার্স মার্কেট তৈরি করে দেয়, তাহলে আমাদের স্থায়ী পুনর্বাসন হবে। ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির উদ্দিন বলেন, রাজাঝির দিঘির পাড়ের পাঁচ শতাধিক অবৈধ দোকান পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই বসছে। এ থেকে পৌরসভা কোনো ভাড়া পায় না। আমরা লোকমুখে শুনেছি, কে বা কারা প্রতি দোকান থেকে মাসিক ৬০০ টাকা করে আদায় করে। এ বিষয়ে পৌরসভা কিছুই জানে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আহমেদ মিষ্টার বলেন, রাজাঝির দিঘির পাড়ের অবৈধ দোকানগুলো শহরের জন্য একটি বিষফোঁড়া। আমাদের বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে এবং সব ধরনের কর পরিশোধ করেও ব্যবসা করতে পারছেন না। আর তারা অবৈধ জায়গা দখল করে ব্যবসা করবেন, এটি হতে পারে না। অবিলম্বে এসব অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে দিঘির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে হবে। ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, রাজাঝির দিঘির পাড়কে কেন্দ্র করেই আজকের ফেনী শহরের গোড়াপত্তন হয়েছে। দিঘির আশপাশে ছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়। কালের পরিক্রমায় দিঘির পাড় এখন অবৈধ হকারদের দখলে চলে গেছে। নামকাওয়াস্তে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করে প্রশাসন যদি সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এসব দোকান ভাড়া দেয়, তাহলে সরকারের বিপুল রাজস্ব আদায় হবে। সন্ধ্যাকালীন বাজার বসালে জায়গাটি দখলমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি হকারদেরও পুনর্বাসন হবে। আরটিভি/টিআর
দখলদারদের কবলে ফেনীর রাজাঝির দিঘি, পাড়জুড়ে ৫০০ অবৈধ দোকান
জিয়াউর রহমানের কথা বলার ধরন ও আবেগ তারেক রহমানের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে: প্রতিমন্ত্রী নুর
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যেও সেই আবেগ ও বলার ধরন খুঁজে পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। 
জিয়াউর রহমানের কথা বলার ধরন ও আবেগ তারেক রহমানের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে: প্রতিমন্ত্রী নুর
সুনামগঞ্জে দুই দিনব্যাপী রাধারমণ উৎসব, ১১ বছর ধরে উপেক্ষিত জগন্নাথপুরের রাধারমণ স্মৃতি কমপ্লেক্স
লোক সংগীতের পুরোধা ধামাইল গানের প্রবর্তক লোককবি রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের স্মৃতি বিজড়িত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে রাধারমণ স্মৃতি কমপ্লেক্সের জায়গা নির্ধারণ করার ১১  বছর পরও স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ উপেক্ষিত হওয়ায় সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাপা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এদিকে, গত তিন বছর ধরে নানা মত বিরোধে রাধারমণের জন্মভিটা কেশবপুর গ্রামে ৩০ বছর ধরে পালিত হওয়া উৎসবও হচ্ছে না। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাধারমণ দত্তের প্রয়াণ দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন হচ্ছে। রাধারমণ অনুরাগীরা জানান, ২০১৫ সালে বৈষ্ণব পদাবলির মহারাজা লোককবি রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থের মৃত্যু শতবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাষ্ট্রীয়ভাবে তিনদিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। জন্মভূমি জগন্নাথপুর উপজেলায় এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য এমএ মান্নান অতিথি হিসেবে বক্তব্য বক্তব্যে জগন্নাথপুরে রাধারমণ কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা দেন। সভা শেষে দুই মন্ত্রী কেশবপুর বাজার সংলগ্ন ভূমিতে রাধারমণ দত্তের কমপ্লেক্সের সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে কমপ্লেক্সের জায়গার স্থান নির্ধারণ করেন। পরবর্তীতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব সহ বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা সরেজমিনে কমপ্লেক্সের জায়গা পরিদর্শন করে রাধারমন কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে থমকে আছে রাধারমণ দত্ত স্মৃতি কমপ্লেক্স। ২০১৫ সালের আগে সরকারি ভাবে উপজেলায় রাধারমণ দত্তের জন্ম কিংবা প্রয়াণ দিবস পালিত হয়নি। ১৯৯৪ সালে রাধারমণ সমাজ কল্যাণ সাংস্কৃতিক পরিষদ নামে একটি সংগঠন  গঠন করে এলাকার সাংস্কৃতিক অনুরাগীরা রাধারমণ দত্তের প্রয়াণ দিবস পালন করে আসছেন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রতি বছর জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও রাধারমণ অনুরাগীরা উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিতেন। ২০২৪ সালে সরকারের পট পরিবর্তনে কেশবপুর গ্রামে প্রয়াণ দিবস পালিত হয়নি। পরবর্তীতে কমপ্লেক্সের জায়গা নিয়ে কেশবপুর গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাধারমণ দত্তের প্রয়াণ দিবস উপজেলা সদরে পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়। গত বছর রাধারমণ সংস্কৃতি চর্চা নামে উপজেলা প্রশাসন দুই দিন উপজেলা সদরে উৎসব পালন করে। রাধারমণ সমাজ কল্যাণ সাংস্কৃতিক পরিষদের সহ-সভাপতি  আছকির আলী জানান, রাধারমন দত্তের ভিটে মাটিতে কমপক্ষে ৩০ বছর ধরে আমরা রাধারমণ দত্তের প্রয়াণ দিবস পালন করে আসছি। এখন আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে রাধারমণ দত্তের প্রয়াণ দিবস পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। রাধারমণ দত্ত আমাদের হৃদয়ে আছেন। আমরা তা়র সৃষ্টি কর্ম লালন করি। আমরা প্রশাসনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে দাবি জানিয়েছিলাম; রাধারমণ দত্তের কমপ্লেক্সের নির্ধারিত জায়গায় গত ৩০ বছরের ধারাবাহিকতায় পালিত হওয়া জায়গায় অনুষ্ঠান করতে। তিনি বলেন, প্রশাসনের অনুমতি পেলে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে রাধারমণ দত্তের প্রয়াণ দিবস উৎসব করতে চাই। রাধারমণ স্মৃতি সংঘের উপদেষ্টা আশীষ কুমার দে বলেন, রাধারমণ দত্তের শেষস্মৃতি চিহ্ন সমাধি মন্দির সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য বর্ধনে সরকারি উদ্যাগ জরুরি। প্রতি বছর সমাধি মন্দির প্রাঙ্গণে আমরা তার প্রয়াণ তিথিতে কীর্তনের আয়োজন করে থাকি। প্রতিদিন দেশ বিদেশ থেকে রাধারমণ অনুরাগীরা সমাধি মন্দির দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরেন। তাই দ্রুত রাধারমণ দত্তের শেষ স্মৃতি চিহ্ন সমাধি মন্দির সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাই। রাধারমণ স্মৃতি সংসদের সভাপতি আফরোজ আলী জানান, রাধারমণ দত্ত কমপ্লেক্সের  জায়গা নির্ধারণের ১১ বছর অতিবাহিত হলেও রাধারমণ দত্তের কমপ্লেক্সে না হওয়ায় আমরা ব্যথিত। আমরা দ্রুত কমপ্লেক্স বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাধারমণ দত্তের সমাধি মন্দির সংরক্ষণের দাবি জানাই। এব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, রাধারমণ দত্তের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা দুই দিন ব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। জাতীয়ভাবে ঢাকা ও জেলা শহরে দিবসটি পালিত হচ্ছে। কেশবপুর গ্রামে রাধারমণ দত্ত কমপ্লেক্সে নির্মানের বিষয়ে সর্বশেষ বিস্তারিত কোন তথ্য জানা নেই। প্রসঙ্গত, রাধারমণ দত্ত পুরকায়স্থ ১৮৩৩ সালে জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯১৫ সালে তিনি প্রয়াত হন। তিনি দুই হাজারের বেশি গান রচনা করে দেশের লোকসংস্কৃতির ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। আরটিভি/ এসকেডি  
সুনামগঞ্জে দুই দিনব্যাপী রাধারমণ উৎসব, ১১ বছর ধরে উপেক্ষিত জগন্নাথপুরের রাধারমণ স্মৃতি কমপ্লেক্স
আরও পড়ুন
বরিশালে গোপনে নারীদের আপত্তিকর ভিডিওধারণ, গণপিটুনি
টিকটক করায় মায়ের শাসন, রান্নাঘরে গিয়ে ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিলো মাদরাসাছাত্রী
ববিতে ১৪ শিক্ষক নিয়োগের আগেই বিজ্ঞপ্তিতে কারসাজির অভিযোগ
প্রবাসী স্বামীর টাকায় পড়াশোনা-চাকরি, সহকর্মীর সঙ্গে ‘সম্পর্কে’ জড়িয়ে কারাগারে শিক্ষিকা