ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

‘উপায়’-এর নতুন সিইও হলেন শ্যামল বরন দাশ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
শ্যামল বরন দাশ। ছবি: সংগৃহীত

দেশের জনপ্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ‘উপায়’-এর নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগ দিয়েছেন শ্যামল বরন দাশ। ডিজিটাল ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে কাজ করার ক্ষেত্রে তার ২৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে আধুনিক আর্থিক সেবা মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে এমএফএস, ডিজিটাল ব্যাংকিং, রিটেইল ও এসএমই সলিউশন, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং কার্ড সার্ভিসের মতো খাতে তিনি সফলভাবে কাজ করেছেন।

‘উপায়’-এ যোগদানের আগে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ‘নগদ’-এর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেঘনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান ডিজিটাল কর্মকর্তা এবং ব্র্যাক আইটি সার্ভিসেস লিমিটেডের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি এবং দক্ষ কর্মীদল গঠনে তাঁর উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে।

আরও পড়ুন

শিক্ষাজীবনে শ্যামল বরন দাশ ভারতের বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং যুক্তরাজ্যের রয়্যাল হলোওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড, এমআইটি, কর্নেল ও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের মতো বিশ্বের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান থেকে পেশাগত ডিগ্রি ও সনদ নিয়েছেন।

ইউসিবি ফিনটেক কোম্পানি লিমিটেডের (‘উপায়’) পরিচালনা পর্ষদ তাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। পর্ষদের আশা, শ্যামল বরন দাশের দক্ষ নেতৃত্বে ‘উপায়’ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং আগামী দিনে গ্রাহকদের আরও আধুনিক ও উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা
বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকটের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক ১ হাজার ৭৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী, কর্মসূচিটি দুই পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলবে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)-র একজন কর্মকর্তা বাসস’কে জানান, দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমানো এবং গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ক্রমবর্ধমান ব্যবধান কমাতে কাজ করছেন তারা। পরিকল্পনা কমিশনের আরেক কর্মকর্তা জানান, মোট ১৫০টির মধ্যে ১০৪টি নতুন কূপ খনন করা হবে। বাকি ৪৬টি কূপে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চালানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৭৭টি কূপকে প্রকল্প বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি প্রকল্পের আওতায় ৭৭টি কূপ এবং সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত চারটি ওয়ার্কওভার কূপ রয়েছে। কর্মকর্তা বলেন, ‘এ পর্যন্ত অনুমোদিত ৫১টি কূপের মধ্যে ৩২টির কাজ শেষ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ১১টি কূপের কাজ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে এবং বাকি আটটির কাজ এখনো শুরু হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ১০টি প্রকল্পের আওতায় আরও ২৬টি কূপের অনুমোদন চাওয়া হবে। অবশিষ্ট ৭৩টি কূপকে পর্যায়ক্রমে প্রকল্প বা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের আওতায় আনা হবে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বাসসকে বলেন, গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশের নিজস্ব উৎস থেকে সরবরাহ জোরদার করতে সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তিনি বলেন, ‘নতুন কূপগুলো থেকে পাওয়া গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করবে। এতে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমবে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আরও গ্যাসকূপ খননে সরকার কাজ করছে।’ পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া ৩২টি কূপ থেকে দৈনিক অতিরিক্ত ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে দৈনিক ১৩৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের মাধ্যমে ১১টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক অতিরিক্ত ৫৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে দৈনিক ৪১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে থাকা ১১টি কূপের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর আওতায় রয়েছে সুন্দরলপুর সাউথ-১, ভোলা নর্থ-৩, ভোলা নর্থ-৪, শাহবাজপুর নর্থ ইস্ট-১, শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)-এর আওতায় রয়েছে তিতাস-২৯, বাখরাবাদ-৭ ও তিতাস-৩১ ডিপ। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)-এর আওতায় রয়েছে রশিদপুর-১৩। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ১০টি প্রকল্পের মধ্যে তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ খনন প্রকল্প রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত টার্নকি ঠিকাদারের সাহায্যে কূপ দুটি খনন করা হবে। গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি অনুমোদিত লোডের ভিত্তিতে বাংলাদেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৫ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে এ চাহিদা দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে, দৈনিক গ্যাস সরবরাহের গড় পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিটের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে সরবরাহ করা আমদানিকৃত পুনর্গ্যাসীকৃত এলএনজি থেকে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়, যা মোট সরবরাহের ৪১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো দৈনিক ৮৯০ মিলিয়ন ঘনফুট বা মোট সরবরাহের ৩৩ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করে। আর দেশীয় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর অবদান দৈনিক ৭২৬ মিলিয়ন ঘনফুট বা ২৬ শতাংশ। দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিজিএফসিএল দৈনিক ৪৮০ মিলিয়ন ঘনফুট, এসজিএফএল ১৩৮ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাপেক্স ১০৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে শেভরন দৈনিক ৮৬১ মিলিয়ন ঘনফুট এবং ক্রিসএনার্জি বাংলাদেশ ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করে। এ পর্যন্ত দেশে ২৬২টি গ্যাসকূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ১১৯টি কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। এসব কূপের মধ্যে দেশীয় কোম্পানিগুলোর পরিচালনায় রয়েছে ৭৬টি এবং আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর পরিচালনায় রয়েছে ৪৩টি। কোম্পানিভিত্তিক কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা প্রথম পর্যায়ে বাপেক্সের লক্ষ্যমাত্রা ২১টি কূপ খনন, যার মধ্যে নয়টির কাজ শেষ হয়েছে। বিজিএফসিএল-এর ১৩টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সাতটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসজিএফএল-এর লক্ষ্যমাত্রা ১৬টি কূপ, যার মধ্যে ১৩টির কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট ১০০টি কূপের কাজ করা হবে। এর মধ্যে ৬৯টি নতুন কূপ খনন এবং ৩১টি কূপে ওয়ার্কওভার কার্যক্রম চালানো হবে। এ পর্যায়ে বাপেক্স ৬৮টি কূপের কাজ করবে। এর মধ্যে ৫২টি নতুন কূপ খনন এবং ১৬টি কূপে ওয়ার্কওভার করা হবে। বিজিএফসিএল ২১টি কূপের কাজ করবে, যার মধ্যে নয়টি নতুন কূপ খনন ও ১২টি ওয়ার্কওভার রয়েছে। এসজিএফএল ১১টি কূপের কাজ করবে। এর মধ্যে আটটি নতুন কূপ খনন এবং তিনটি ওয়ার্কওভার করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫২টি নতুন কূপ খননের জন্য বাপেক্স ১৪টি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে এবং সাতটি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় এখনো কোনো কূপ খনন সম্পন্ন হয়নি। বিজিএফসিএল নয়টি নতুন কূপ খননের জন্য চারটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে; কোনোটি এখনো অনুমোদন পায়নি। এসজিএফএল আটটি নতুন কূপ খননের জন্য পাঁচটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও কোনো প্রকল্প এখনো অনুমোদন পায়নি। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির পর্যালোচনা পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) কয়েকটি কূপ খনন ও জরিপ প্রকল্প নিয়ে সভা করেছে। বাপেক্সের তিনটি কূপ খনন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সেমুতাং-৭ মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কূপ; বেগমগঞ্জ-৭ মূল্যায়ন কূপ; এবং চরলক্ষ্যা-১ অনুসন্ধান কূপ। বাপেক্সের নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পের  ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১০ কোটি টাকা। বাপেক্সের আরেকটি প্রকল্পে তিনটি কূপ খননের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুন্দলপুর-৫ মূল্যায়ন ও অনুসন্ধান কূপ এবং সুবর্ণচর-১ ও নোয়াখালী-১ অনুসন্ধান কূপ। কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪০৬ কোটি টাকা। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের তিনটি কূপ খনন প্রকল্পে রয়েছে বিয়ানীবাজার-৩ মূল্যায়ন ও অনুসন্ধান কূপ; এবং কৈলাসটিলা-১০ ও বাতিছিয়া-১ অনুসন্ধান কূপ। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৮৩১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বাপেক্সের জকিগঞ্জে দুটি কূপ খনন প্রকল্পে রয়েছে জকিগঞ্জ-২ মূল্যায়ন কূপ এবং জকিগঞ্জ-৩ অনুসন্ধান কূপ। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া বাপেক্স ১৯৭ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে চরফ্যাশন এলাকায় ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করবে। সরকারের আশা করছে, পর্যায়ক্রমে কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রমের পাশাপাশি অনুসন্ধান ও ভূকম্পন জরিপ জোরদার করা হলে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আরটিভি/এসআর  
২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা
প্রাণিসম্পদ পণ্য রপ্তানি ছয় মাসে বেড়েছে ২১৭ শতাংশ
এ বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে দেশের গবাদিপশু পণ্যের রপ্তানি ২১৭ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৬৪ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর আগের ছয় মাসে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩২.৯৯ লাখ মার্কিন ডলার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাংস ও ডিমের উৎপাদন জাতীয় চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে মাথাপিছু সরবরাহের পরিমাণ এখন ন্যূনতম পুষ্টি চাহিদার চেয়েও বেশি। দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৯০.৭০ লাখ টন মাংস এবং ২ হাজার ৫০৯.৪১ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। এর বিপরীতে বছরে আনুমানিক ৭৮.১৪ লাখ টন মাংস এবং ১ হাজার ৮৫৫.৩৬ কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে দুধের উৎপাদন এখনো চাহিদার তুলনায় কম। উৎপাদন বাড়ার কারণে বর্তমানে প্রতিদিন মাংস পাওয়া যাচ্ছে মাথাপিছু ১৩৯.২৯ গ্রাম, যা ন্যূনতম ১২০ গ্রামের চাহিদার চেয়ে বেশি। বর্তমানে বাৎসরিক মাথাপিছু মাংসের প্রাপ্যতা ৫০.৮৪ কেজি, যেখানে ন্যূনতম চাহিদা ৪৩.৮ কেজি। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, বাৎসরিক মাথাপিছু মাংস খরচের পরিমাণ মাত্র ১৪ কেজি। একইভাবে, বাৎসরিক মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা ১৪০টি ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে চাহিদা প্রায় ১০৪টি। ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত এই এক দশকে মাংস ও ডিমের উৎপাদন যথাক্রমে ২৬.৭৮ শতাংশ এবং ৬৮.০৪ শতাংশ বেড়েছে। মাংস উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশই আসে ব্রয়লার মুরগি থেকে, যা এখন জাতীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম। অন্যদিকে ডিমের উৎপাদনও জাতীয় চাহিদা পূরণের পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত এক দশকে দুধের উৎপাদন ৬৯.৭১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৫৭.৫৩ লাখ টনে পৌঁছালেও, তা এখনো বছরে ১৬২.৭৯ লাখ টনের বার্ষিক চাহিদার চেয়ে কম। প্রতিদিন মাথাপিছু দুধের প্রাপ্যতা প্রায় ২৪১ মিলিমিটার, যেখানে আনুমানিক চাহিদা ২৫০ মিলিমিটার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাংসের উৎপাদন পূর্ববর্তী অর্থবছরের ৮৯.৫৪ লাখ টন থেকে ১.১৬ লাখ টন বেড়ে ৯০.৭০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। ডিমের উৎপাদনও ২.৮৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪৪০.৬৫ কোটি থেকে ২ হাজার ৫০৯.৪১ কোটি পিসে পৌঁছেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বাসস-এর সঙ্গে আলাপকালে এই উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে সরকারের নীতিগত সহায়তা, উদ্যোক্তা তৈরি এবং গরু ও পোল্ট্রির জাত উন্নয়নকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থার সব পর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিক-মুক্ত উৎপাদন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাও এই খাতের অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে। রপ্তানি পরিস্থিতির বিষয়ে শাহজামান জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গবাদিপশু পণ্য রপ্তানি করে ১৫৪.৪৭ লাখ মার্কিন ডলার বা ১৯৩.০৮ কোটি টাকা আয় হয়েছে। যেখানে পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ ছিল ৮২.০৬ লাখ মার্কিন ডলার বা ১০২.৫৭ কোটি টাকা। তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পণ্যের গুণগত মান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) প্রয়োজনীয়তা পূরণ, হিমাগার সুবিধার উন্নয়ন এবং রপ্তানি মূল্য প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে সংস্থাটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধারা চলমান রাখতে নতুন নতুন রপ্তানি বাজার খোঁজার কাজও চলছে। এই খাতের উৎপাদনের সম্ভাবনা সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, দেশের গবাদিপশু উৎপাদন বর্তমান স্তরের চেয়ে অন্তত তিন গুণ বাড়ানো প্রয়োজন।      তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বছরে গড়ে ১৪০টির মতো ডিম খায়, অথচ উন্নত দেশগুলোতে এই সংখ্যা প্রায় ৪০০। বাংলাদেশে মুরগির মাংস খাওয়ার হারও উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম গবাদিপশু পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, প্রধানত অদক্ষ উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশে মাংস, দুধ ও ডিমের দাম প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে বেশি। তিনি তৃণমূল উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে এবং কর্পোরেট গোষ্ঠী যাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ বা দাম কারসাজি করতে না পারে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পশুপালন, দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খামারিদের মধ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতির বিস্তৃত বিতরণের তাগিদ দেন। এর মধ্যে রয়েছে মিল্কিং মেশিন, ঘাস কাটার যন্ত্র, ট্রাক্টর, খড় কাটার যন্ত্র, মিল্ক ক্যান, ক্রিম সেপারেটর ও পাস্তুরাইজেশন প্ল্যান্ট। ড. আলম বলেন, কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যান্ত্রিকীকরণ এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। প্রতিটি খামারকে আধুনিক উৎপাদন ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। বিএলআরআই-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. শহিদুল হক কৃষি খাতের মতো গবাদিপশু খামারিদেরও প্রণোদনা দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি পশু শনাক্তকরণ ও তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু, প্রাণিসম্পদ নীতি ও আইন আরও শক্তিশালী করা এবং প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় বিমা সুবিধার ওপর গুরুত্ব দেন।  গবেষণা এবং বিদেশ থেকে উপযুক্ত জাতসহ উচ্চফলনশীল ও সংকর জাত আনার মাধ্যমে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের পরামর্শ দেন তিনি। ড. হক বলেন, খামারি ও ভোক্তা উভয় পক্ষ যাতে ন্যায্যমূল্য পায়, সেজন্য সরকারের একটি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমানো উচিত। বিপণন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং খামারিদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে একটি প্রাণিসম্পদ বিপণন বিভাগ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বছরে প্রায় এক শতাংশ হারে কৃষিজমি অকৃষি খাতে চলে যাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে গবাদিপশু উৎপাদন সম্প্রসারণের এখনো যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামীণ পরিবারগুলো ব্রয়লার, লেয়ার, গরু, ছাগল ও ভেড়া পালন করে এই খাতের প্রসারে অবদান রাখতে পারে। যা মাংস, দুধ ও ডিমের রপ্তানি সম্ভাবনা নতুন খামার গড়ে তুলতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহিত করবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ছিল ১.৮১ শতাংশ এবং কৃষি জিডিপিতে এর অবদান ছিল ১৬.৫৬ শতাংশ। দেশের প্রায় ৪৩.৬৪ শতাংশ পরিবার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের সঙ্গে যুক্ত। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ প্রত্যক্ষভাবে এবং প্রায় ৫০ শতাংশ পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য সম্মিলিতভাবে ৪৩,৩৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জিডিপির ০.৬৩ শতাংশ। আরটিভি/এসআর  
প্রাণিসম্পদ পণ্য রপ্তানি ছয় মাসে বেড়েছে ২১৭ শতাংশ
তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানিতে সুবাতাস, পাঁচ খাতে প্রবৃদ্ধি ১২-২৭ শতাংশ
দেশের রপ্তানি খাতে বহুমুখীকরণের সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি রাসায়নিক পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, বিশেষায়িত বস্ত্র, চামড়া এবং প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এসব খাতের প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০৯ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি বিকাশমান পাঁচটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত। খাতভিত্তিক হিসাবে রাসায়নিক পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ২৭ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্যে ২৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ, বিশেষায়িত বস্ত্রে ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং প্রকৌশল পণ্যে ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রপ্তানির এই চিত্র তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমিয়ে নতুন নতুন শিল্প খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সঙ্গে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য উৎপাদন, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে। রাসায়নিক ও ওষুধশিল্পে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রাসায়নিক পণ্য খাত। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দেশের ওষুধশিল্প। চার মাসে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১০ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদেশের বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় এ খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ হাসান আরিফ বাসসকে বলেন, রাসায়নিক পণ্য, বিশেষ করে ওষুধশিল্পের এই অগ্রগতি দেশে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিফলন। রপ্তানি বহুমুখীকরণে এ খাত ক্রমেই সম্ভাবনাময় চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। পাটপণ্যে বৈশ্বিক বাজারের নতুন সুযোগ পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। বিশ্ববাজারে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ও সহজে পচনশীল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ফলে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের জন্য নতুন বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা এ শিল্পের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, বিশ্বজুড়ে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় বাংলাদেশের পাটশিল্পের সামনে বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জুট গুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেজিইএ) ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পাটপণ্যের চাহিদা ও রপ্তানির সুযোগ বাড়ায় এ খাতের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আফ্রিকার দেশগুলোসহ নতুন নতুন বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে। কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ উদ্যোগ স্থানীয় শিল্পের জন্য কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। এতে দেশে পাটের মূল্য সংযোজন বাড়বে এবং তৈরি পাটপণ্য রপ্তানিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। ড. কামরুজ্জামান বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে উচ্চমূল্যের পাটপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাটশিল্পের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষায়িত বস্ত্রে বাড়ছে সম্ভাবনা বিশেষায়িত বস্ত্র খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ খাতের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। প্রচলিত পোশাকের বাইরে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত কাপড়, প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্র, স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত বিশেষ উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য এ খাতের অন্তর্ভুক্ত। এসব পণ্যে তুলনামূলক বেশি মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, উৎপাদন সক্ষমতা উন্নত করা এবং উচ্চমূল্য সংযোজনের মাধ্যমে বিশেষায়িত বস্ত্র খাত রপ্তানি বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চামড়াজাত পণ্যে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতও রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা বজায় রেখেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার উদ্যোগ, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব এবং বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে এ খাতের রপ্তানি আয় বাড়ছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, স্থানীয় কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্পের সুযোগ থাকায় চামড়া খাত বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অপ্রচলিত রপ্তানি খাত। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, পণ্যের মান উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিলে আন্তর্জাতিক বাজারের উচ্চমূল্যের অংশে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। প্রকৌশল পণ্যে বাড়ছে রপ্তানি আয় প্রকৌশল পণ্য খাতেও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জুলাই-অক্টোবর সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ২৪ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি। এ খাতের আওতায় রয়েছে সাইকেল, যন্ত্রপাতির যন্ত্রাংশ, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ এবং হালকা প্রকৌশল পণ্য। প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্য সংযোজনের সুযোগ থাকায় প্রকৌশল পণ্যকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে প্রকৌশল পণ্য বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠতে পারে। রপ্তানি বহুমুখীকরণে অগ্রগতির ইঙ্গিত ইপিবির তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে উদীয়মান পাঁচটি রপ্তানি খাতের প্রতিটিতেই সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে রাসায়নিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রায় পাঁচ গুণ এবং পাট ও পাটজাত পণ্যে চার গুণের বেশি। অন্যদিকে বিশেষায়িত বস্ত্র, চামড়া ও প্রকৌশল পণ্যেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি এখনো তৈরি পোশাক খাত থেকে এলেও অন্যান্য খাতের এই অগ্রগতি রপ্তানি আয়ের উৎস সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, সর্বশেষ রপ্তানি পরিসংখ্যান দেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে নীতিগত সহায়তা, নতুন বাজার অনুসন্ধান, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন জরুরি। তৈরি পোশাকশিল্পের পাশাপাশি নতুন নতুন রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বহুমুখী শিল্পভিত্তি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। আরটিভি/এসআর  
তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানিতে সুবাতাস, পাঁচ খাতে প্রবৃদ্ধি ১২-২৭ শতাংশ
বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকার ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক
উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি ‘উদ্যোগ’-এর আওতায় বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে পরিশোধ করতে হবে ১০ লাখ টাকা, আর ১০ লাখ মিলবে অনুদান হিসেবে। ১ নভেম্বর থেকে দেশের ৫৬টি জেলায় আবেদন গ্রহণও শুরু হয়েছে। এর আগে অক্টোবর মাসে আবেদন নেয়া হয়েছিল বাকি ৮ জেলা থেকে। তবে এবার এই ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং ও অন্যান্য মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির সব কার্যক্রম স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই ঋণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান কিংবা ঋণ পাইয়ে দেয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অর্থ প্রদান করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘উদ্যোগ’ নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফেসবুকসহ অন্য কোনো অফিসিয়াল পেইজ বা চ্যানেল নেই। এ নামে কোনো ভুয়া পেইজ বা অ্যাকাউন্ট খুলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার কিংবা প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছে। এ ধরনের প্রতারণা নিয়ে সতর্ক থেকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আরটিভি/এসআর  
বিনা জামানতে ২০ লাখ টাকার ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক
আপনার যা লাগছে, সব মুক্ত অ্যাপে থাকছে
বাংলালিংকের মাইবিএল অ্যাপ এখন ‘মুক্ত’!
আপনার যা লাগছে, সব মুক্ত অ্যাপে থাকছে
আরও পড়ুন
উপায়ে চাকরির সুযোগ, নেই বয়সসীমা 
ওষুধ নয়, প্রাকৃতিক ভাবেই বাড়ান পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা
বর্ষার জ্বর-সর্দিতে আরাম দেবে ঘরোয়া ৩ পানীয়
শরীরে পানিশূন্যতা? অবহেলা নয়, চিনে নিন লক্ষণ ও বাঁচার উপায়