
শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপন, স্থলভিত্তিক এলএনজি সংরক্ষণাগার নির্মাণ এবং উপকূলীয় গ্যাস অনুসন্ধান দ্রুত জোরদারের দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিজিএমইএ সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এসব দাবি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে। তবে এ প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে আগস্টে গত বছরের তুলনামূলক কম রপ্তানির কারণে। গত তিন বছরের তুলনায় ব্যবসা খুব বেশি বাড়েনি, অথচ উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা, শিপমেন্ট ও লজিস্টিকসের অনিশ্চয়তা এবং প্রধান বাজারগুলোতে মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও পণ্যের চাহিদা কমেছে। এরসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সংকট পোশাক শিল্পের উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ডাইং, ওয়াশিং ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত ব্যাহত হচ্ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর শিল্পে গ্যাস সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়েছে। এ জন্য তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তবে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আরও দুটি এফএসআরইউ স্থাপন, ল্যান্ডভিত্তিক এলএনজি স্টোরেজ টার্মিনাল নির্মাণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে গ্যাস সংযোগ ও রেশনিংয়ে অগ্রাধিকার এবং ১০০ থেকে ৫০০ পিএসআই বয়লারসম্পন্ন কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে কম সুদের ‘গ্রিন লোন’ নিশ্চিত এবং উপকূলীয় গ্যাস অনুসন্ধান দ্রুত জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি নিয়েও বক্তব্য দেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা অনুযায়ী এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছাতে জাতিসংঘে সরকারের চিঠি দেওয়ার উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান। পাশাপাশি কোম্পানি ও কাস্টমস আইন আধুনিকায়ন, দ্রুত এফটিএ ও ইপিএ সম্পাদন এবং এলডিসি-উত্তর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অন্তত পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ নীতি সহায়তা ও শুল্ক-কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানান।
ব্যবসার ব্যয় ও লিড টাইম কমাতে কাস্টমস বন্ড অডিটে পেশাদার অডিট ফার্মকে যুক্ত করা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থায়ী ও নিরাপদ আমদানি কার্গো শেড নির্মাণ এবং বিএনসিসি সময়োপযোগীভাবে সংস্কারের দাবিও জানানো হয়।
এ ছাড়া শ্রমিকদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি জায়গা বরাদ্দের আহ্বান জানানো হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে প্রায় ১০০ শয্যার মিরপুর হাসপাতাল চালুর কাজ চলছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
পোশাক রপ্তানি বাড়ানো ও উদ্যোক্তাদের তারল্য সংকট কমাতে নগদ সহায়তার বিপরীতে প্রযোজ্য ৫ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার অথবা এটিকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচনারও দাবি জানায় বিজিএমইএ।
আরটিভি/এসকে




