
টানা আন্দোলন, শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতা অব্যাহত থাকলে তৈরি পোশাকশিল্পের ক্রয়াদেশ অন্য দেশে চলে যাওয়ার শঙ্কা করছেন শ্রমিক নেতারা। তাদের দাবি, আন্দোলনে ভাঙচুর ও সহিংসতা চালাতে ভাড়াটে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। চলমান মজুরি আন্দোলনে গ্রেপ্তার শ্রমিকদের মুক্তি, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আন্দোলন বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা।
তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি বৈষম্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চাকরির অনিশ্চয়তা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং অন্যায্য ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) গঠিত মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধিদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, আন্দোলনের নামে ভাঙচুর ও হামলার সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের সংশ্লিষ্টতা নেই। তাদের দাবি, এসব সহিংস কর্মকাণ্ডে বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে আনা হয়েছে।
টানা আন্দোলন ও সহিংসতা চলতে থাকলে বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ অন্য দেশে সরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন শ্রমিক নেতারা। সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, মিরপুরে আন্দোলনের সঙ্গে হোপ মার্কেটের আন্দোলনরত ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জড়িত। আর গাজীপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনও আন্দোলনে নেমেছেন।
চলমান মজুরি আন্দোলনে গ্রেপ্তার শ্রমিক ও নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং অন্যান্য ব্যবস্থা বন্ধের দাবি জানান শ্রমিক প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে জানুয়ারির মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।
শ্রমিক নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার বলেন, গ্রেপ্তার নেতাদের যেন নির্যাতন করা না হয় এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
সোমবার শ্রমিক আন্দোলন অনেকটাই কমেছে। মঙ্গলবার থেকে আন্দোলন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
আরটিভি/এমএম


