ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

অবশ্যই ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার ফাইনাল

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৫৯ এএম
ছবি- সংগৃহীত

‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের ২২তম আসরের মাঠের লড়াই জমে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার বিশ্বকাপে এখন শিরোপার লড়াইয়ে টিকে রয়েছে আট দল। মরুর বুকে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে টিকে থাকা দলগুলোর খুঁটিনাটি দিক নিয়ে আরটিভির সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক।

প্রশ্ন : কেমন আছেন?

শফিকুল ইসলাম মানিক : আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে হট ফেভারিটদের একের পর বিদায়ের কারণ কি? এবার কি নতুন কেউ চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে ?

মানিক : পুরোনো যারা হট ফেভারিট, তারা কিন্তু এখনও আউট হয়নি। আউট হয়েছে জার্মানি, বেলজিয়াম। তো এদের থেকে (কোয়ার্টারে কোয়ালিফাই) কাউকে না কাউকে বিদায় নিতে হতো। আমার চোখে প্রথম যে ছয়টা দল কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছে, তারাই কিন্তু বিশ্বকাপের ফাইনালের দাবিদার। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে মরক্কো এখানে নতুন একটি দল। নতুন এক ড্রাইমেনশন, তারা নতুন কিছু সৃষ্টি করতে যাচ্ছে এবং সেটা করেছেও। গ্রুপ পর্বে করেছে, এখন শেষ ষোলোতে এসেও তাই করল। মরক্কো এখন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করার পথে আছে। আমি বলব না করেছে, কিন্তু পথে আছে। এর ভিতরে জাপান-কোরিয়া শেষ ষোলোয় এসেছিল, এরা এশিয়ার একটা গৌরব। মরক্কো ছাড়া নতুন আর কারও পথ তো উন্মোচিত নয়। আর যদি আমরা ইউরোপের পরাশক্তি হিসেবে দেখি, তাহলে সেটা পর্তুগাল। কারণ, পর্তুগাল বিশ্বকাপের পরাশক্তি না, ইউরোপের পরাশক্তি। তাদের কিছু সম্ভাবনা হয়তো দেখতে পাচ্ছি। তাই নতুন আমরা বলতে পারি মরক্কোকে, আর বিশ্বআসরে পর্তুগালকে। পর্তুগাল অনেক আগে একবার সেমিফাইনাল খেলেছিল, এরপর আর কিছু করতে পারেনি।

প্রশ্ন : আর্জেন্টিনার বর্তমান দলের সম্ভাবনা কেমন?

মানিক : প্রথম ম্যাচ ছাড়া বাকি ম্যাচগুলো ভালো খেলেছে। প্রথম ম্যাচও ভালো খেলেছে। প্রথম ম্যাচে তারা গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তাদের ফুটবলারদের বন্ডিং খুব শক্ত। দেশের প্রতি তাদের ডেডিকেশন, তারা কিন্তু এখনও ফিল করছে। একটা ক্ষুধার্ত মনোভাব আছে তাদের মধ্যে। জয়ের ক্ষুধা, এইটুকু আমি দেখতে পাই। এটা না থাকলে কিন্তু একটা ভালো দল যত ভালোই খেলুক, যেমন স্পেন যথেষ্ট ভালো খেলেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে ক্ষুধার্ত মনোভাব ছিল না। যে কারণে তারা হেরেছে। আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের ক্ষুধার্ত মনোভাবও আছে। যার কারণে তারা অনেক দূর সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং মেসি হলো তাদের আইকন। সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, আর্জেন্টিনার এবারের দলটি পরিপূর্ণ, তাদের কমিটমেন্ট ও ডেডিকেশনের জন্য। একটা পরিপূর্ণ দল মাঠের ভিতরে শক্তিশালী দল।

প্রশ্ন : কোনো দুর্বলতা আছে এই দলের?

মানিক : আর্জেন্টিনার অনেক জায়গায় দুর্বলতা আছে। অনেক জায়গায় কোয়ালিটি সম্পন্ন প্লেয়ার নেই। কিন্তু খেলোয়াড়দের ভিতরে বন্ডিংয়ে সেটা কাভার হয়ে যায়।

প্রশ্ন : গত আসরের তুলনায় আর্জেন্টিনা কি তাহলে মেসি নির্ভর নয়?

মানিক : না, মেসি নির্ভর না ওইটা বলা যাবে না। মেসি নির্ভর, অন্য ফুটবলাররা মেসিকে কেন্দ্র করেই ভালো ফুটবল খেলে।

প্রশ্ন : নেদারল্যান্ডসের ডিফেন্স কীভাবে দেখছেন? আর্জেন্টিনা কীভাবে পরিকল্পনা সাজাবে বলে মনে করেন?

মানিক : বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস নতুন কেউ না। বিশ্বকাপে তারা পরিচিত মুখ। তাদের তো সেরা ডিফেন্স রয়েছে। ভালো করছে। কিন্তু স্ট্রাইকাররা তরুণ, তারাও ভালো করছে। আর আর্জেন্টিনা ফরমেশন খুব বেশি কাজে দেয় বলে আমার মনে হয় না। নেদারল্যান্ডসের ডিফেন্স লাইন শক্ত হলেও মেসি, ডি মারিয়াদের পক্ষে ডিফেন্স লাইন ব্রেক করা সম্ভব। অসম্ভব বলতে কিছুই নেই। তাদের পক্ষে ব্রেক থ্রু এনে দেওয়া সম্ভব।

প্রশ্ন : শেষ ম্যাচের মতো পর্তুগাল আবারও এমন পরীক্ষা চালাতে পারে কি না?

মানিক : একটা হয়তো কাজে দিয়েছে। কোচের সঙ্গে একটা সমস্যা ছিল। এটা মীমাংসাও হয়ে গেছে। মনের দূরত্ব হয়তো থাকতে পারে। রোনালদো সমর্থক ও দলের অন্য ফুটবলারদের কাছে একটা অনুপ্রেরণা। তাই সে মাঠে থাকা, মাঠে থেকে সাপোর্ট করা, এটা একটা বিরাট উৎসাহের ব্যাপার। সেই উৎসাহও কিন্তু কাজে লাগছে। তাই একদিন হয়তো ক্লিক করছে, সেকেন্ড দিন যদি না করে তখন কি রোনালদো অভাব ফিল করবে না?

প্রশ্ন : তাহলে কোচের নেওয়া সিদ্ধান্ত কীভাবে দেখছেন?

মানিক : কোচ তার সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে চাইবে। কোচের যদি মনে হয় তার নিয়ম অনুযায়ী রোনালদো কাজে আসছে না, সেক্ষেত্রে পরিবর্তন করেই খেলাবে। দলের স্বার্থে যেকোনো কিছুই কোচ করতে পারেন এবং কোচরা তাই করেন।

প্রশ্ন : ইংল্যান্ড-ফ্রান্সের লড়াইটা কেমন হতে পারে?

মানিক : এটা হাড্ডাহাডি লড়াই। অবশ্যই দুই পরাশক্তির খেলা। আমার মনে হয় খুব টাইট ম্যাচ হবে। ফ্রান্স গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর ইংল্যান্ড তো ক্ষুধার্ত। অনেক বছর হয় ইংল্যান্ডের শিরোপা নাই। তাই এই দলটা থেকে ভালো কিছুই থাকবে এবং ইউরোপের খেলা যখন হয় তখন খুব টাইট ম্যাচ হয়। তাদের ম্যাচে বলেকয়ে এতো গোল হয় না। তাই ইংল্যান্ড ফ্রান্সের মধ্যে এতো পার্থক্য হওয়ার কোনো চান্স নেই। শেষ পর্যন্ত যারা সুযোগ কাজে লাগাবে, কোচের কৌশল কাজে লাগাবে তারাই এগিয়ে থাকবে। এমনকি এটা টাইব্রেকারে গেলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। নির্দ্বিধায় কাউকেই ফেভারিট বলা যাচ্ছে না।

প্রশ্ন : কোনো দুই দলকে ফাইনালে এগিয়ে রাখবেন?

মানিক : অবশ্যই ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার ফাইনাল।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিসিএসে সাফল্য : টিউশন আমার কাজে এসেছে
সদ্য পুলিশ ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আবদুল আজিজ ভূঁইয়া। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ছেড়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। নানান জটিলতায় ক্যাম্পাসজীবন শুরু হয় তার। তবু আজ স্বপ্ন ছুঁয়েছেন তিনি। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট আবদুল আজিজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে কথা হয় আরটিভি অনলাইনের কুমিল্লা সংবাদদাতা সাফায়িত সিফাতের আরটিভি অনলাইন : বিসিএসের প্রতি আপনার আকর্ষণ কি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শুরু থেকেই ছিল? আবদুল আজিজ : প্রথমেই আমার বিসিএসের দিকে এতটা আগ্রহ ছিল না। শুরুতে শুধু একাডেমিক পড়ায় আগ্রহ ছিল। সিজিপিএ বাড়াতে হবে এমন একটা চিন্তা মাথায় ছিল। আর আমার আব্বা মারা যাওয়ার পর আমার পরিবর্তন আসে। চাকরির বিষয়ে বেশি চিন্তা করা শুরু করি। আরটিভি অনলাইন : বিসিএসের প্রস্তুতি কবে থেকে শুরু করেছিলেন? আবদুল আজিজ : বিবিএ-এর শেষের দিক থেকে বিসিএস-র প্রস্তুতি শুরু করি। এত পরে ৪০তম বিসিএসের টার্গেট করা প্রচণ্ড রিস্কি ছিল ব্যাপারটা। কিন্তু আমি কনফিডেন্টও ছিলাম যে আমি পারব। আরটিভি অনলাইন : কোন কোন বিষয়ের প্রতি আপনার বেশি আগ্রহ ছিল? আবদুল আজিজ : মূলত গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের আগ্রহ আমাকে আজকের এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। আরটিভি অনলাইন : অন্য কাউকে অনুসরণ করেছেন নাকি নিজের মতো গুছিয়ে নিয়ে পড়াশোনা করেছেন? আবদুল আজিজ : আমি নিজের স্টাইল ফলো করেছি, অন্য কারো সিস্টেম ফলো করিনি।  আরটিভি অনলাইন : স্নাতক-স্নাতকোত্তরের পাশাপাশি টিউশন করতেন?  আবদুল আজিজ :  হ্যাঁ, আমি টিউশন করতাম। আর এই টিউশন করাটাই আমার কাজে এসেছে। টিউশনের মাধ্যমে কিছু পড়া প্র‍্যাক্টিসের মধ্যে ছিল। আরটিভি অনলাইন :  বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কোনো সংগঠনে ছিলেন? আবদুল আজিজ : বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। চমৎকার কিছু মানুষ পেয়েছিলাম এখানে। লেনিন ভাই, লিপা আপু, আদনান, আবদুর রহমান, সানি ভাই-এর মতো তুখোর কিছু বিতার্কিকদের সঙ্গে সেখানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাই। সেই থেকে আসলে লাইফের শুরুটা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ভালোভাবে সংযুক্ত হই। আর একাডেমিক পড়ায় আগ্রহ আরও বাড়ে আমার। আরটিভি অনলাইন : বিসিএসের প্রতি আপনার ইচ্ছাশক্তি কেমন ছিল? আবদুল আজিজ : আসলে প্রচণ্ড রকম একটা আবেগ না থাকলে বিসিএস জয় করাটা কষ্ট। এর প্রতি আমার অনেক বেশি আবেগ ও ইচ্ছাশক্তি ছিল। আরটিভি অনলাইন : বাবা মারা যাওয়ার পর আপনার আর্থিক সমস্যা হয়নি? আবদুল আজিজ : আমার সেজো বোন আমাকে আর্থিক অভাবটা কখনো বুঝতে দেননি। তিনি আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছেন। আরটিভি অনলাইন : আপনার সফলতার পেছনে সহায়ক ছিল কী কী বিষয়?  আবদুল আজিজ : আমাকে কয়েকটা জিনিস হেল্প করেছে, তা হলো ডিবেট, টিউশন এবং আমার কঠিন সময়। আর সবচেয়ে বড় বিষয় আমার পরিচিত যারা ছিল তারা কেন জানি আমার ব্যাপারে অনেক পজিটিভ ছিল। বেশির ভাগ মানুষই বলত, আমার বিসিএস হয়ে যাবে। তাদের প্রত্যাশা আমার ভেতরে সাহস জুগিয়েছে।
বিসিএসে সাফল্য : টিউশন আমার কাজে এসেছে
একটা ছকের মধ্যে পড়ে গেছি : শ্রাবণী ফেরদৌস
আজ মঙ্গলবার (৮ মার্চ) বিশ্ব নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। আর এই উপলক্ষে দেশীয় চ্যানেলগুলোতে প্রচার হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। তার পরিপ্রেক্ষিতে আরটিভিতে রাত ৮টায় প্রচার হবে বিশেষ নাটক ‘অনাহুত’। শ্রাবণী ফেরদৌসের রচনা ও পরিচালনায় এতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। রঙিলা ভুবনে আমাদের আজকের অতিথি তিনি। এই নাটকটির গল্পের প্রেক্ষাপট, সমসাময়িক ব্যস্ততা, নির্মাণ জীবন ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেছেন আরটিভি নিউজের সঙ্গে। তার সঙ্গে একান্ত আলাপ করেছেন কুদরত উল্লাহ। আরটিভি : ‘অনাহুত’ নাটকটির গল্প-ভাবনা কেমন? শ্রাবণী ফেরদৌস : এই নাটকের গল্পের ভাবনাটা হচ্ছে, যিনি দেখবেন তার কাছে মনে হবে এটা তারই গল্প। যেটা আমার কাছে মনে হয়েছে বোনের গল্প বা আমার আশপাশের কোনো ফ্ল্যাটের গল্প। আমরা মেয়েরা অনেক কিছুই আমাদের সংসারে মুখ বুজে সহ্য করি বা মেনে নিই। এই গল্পের মেয়েটি মুখ বুজে সহ্য করার ব্যাপারটি মানেনি। সে অনেক বেশি স্বাধীনচেতা। সে তার সংসার থেকে বেরিয়ে এসে অন্যরকম একটা জীবন বেছে নেয়। গল্পের ভাবনাটা এমনই। তবে, গল্পের শেষে একটা টুইস্ট আছে যা না দেখলে বোঝা যাবে না। আরটিভি : সাম্প্রতিক সময়ের অন্যান্য ব্যস্ততা নিয়ে কিছু বলুন... শ্রাবণী ফেরদৌস : সাম্প্রতিক সময়ে রিয়েলিটি শো নিয়ে ব্যস্ত আছি। ‘বিগ বো’ নামে আমাদের একটা রিয়েলিটি শোয়ের শুটিং শেষ হয়েছে। এতে আমি লাইন প্রডিউসার হিসেবে কাজ করেছি। তারপর ‘গলি কাপ’ বলে একটা শো হয়েছে আমাদের। ওটাতে এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার হিসেবে কাজ করেছি। এর ভেতরে বেশ কয়েকটি টিভিসি ও ওভিসি করা হয়েছে। এখন একটু অন্যরকম কাজ করার চেষ্টা করছি। কারণ, অন্যরকম একটা ভালো লাগছে, অভিজ্ঞতা হচ্ছে। অন্যদিকে নাটকে ভালো কিছু করতে চাচ্ছি। কারণ, নাটকে ছোটখাটো একটা বিরতি আছে। এ ছাড়া বর্তমানে ব্যস্ত আছি প্রজেক্ট পেপার তৈরি করা নিয়ে, দেখা যাক সামনে কি হয়। আরটিভি : দীর্ঘ বছর ধরে নির্মাণের সঙ্গে জড়িত, পাওয়া না পাওয়া নিয়ে কী বলবেন? শ্রাবণী ফেরদৌস : পুরোটা জুড়েই তো না পাওয়া। এমন কিছুই করিনি এখন পর্যন্ত যা প্রাপ্তির খাতায় লেখা হবে। যা করেছি তা শুধুই চেষ্টা করেছি মাত্র। এখনও শেখার পর্যায়ে আছি যেটা অনূভব করি। শেখার প্রাথমিক পর্যায়ে এখনও ক,খ,অ,আ পর্যন্ত আছি। জানি না কতটুকু শিখতে পারব এই জীবনে। জীবনটা অনেক ছোট, অনেক বড় দরকার ছিল। শেখার জায়গাগুলো আরও ব্যাপক হওয়ার দরকার ছিল। আমাদের দেশে যেটা একদমই অপ্রতুল। এখন তো আবার অনলাইনের সময়। তাই পুরো পৃথিবীটাই হাতের মুঠোয়। অনেক কিছুই দেখছি আর ভাবছি নতুন করে। আরটিভি : সব সময়ই, বাজেট ও অভিনয়শিল্পীদের সেটে আসা নিয়ে একে অন্যকে দোষারোপ করে থাকেন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী? শ্রাবণী ফেরদৌস : বাজেটের কথা যদি বলি (টিভি ইন্ডাস্ট্রির কথা) তাহলে আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এই বাজেট কমার জন্য কাকে দায়ী করব এটা বলা মুশকিল। চ্যানেল কতৃপক্ষকে আরও একটু সহনশীল হওয়া উচিত বলে মনে হয়। কারণ, প্রতিটি নির্মাতাই চায় ভালো কাজ করতে। সেক্ষেত্রে বাজেট কমে যাওয়ার কারণে প্রোডাকশনের মান নিম্নমুখী হয়ে যাচ্ছে। সেহেতু ভালো নির্মাতারা সরে যাচ্ছে একমাত্র বাজেটের কারণে। তাই যারা অভিনয় করতে ইচ্ছুক ছিল বা মিডিয়ার অন্যান্য সেক্টরে কাজ করতে ইচ্ছুক ছিল তারা সবাই এখন নির্মাতা হয়ে যাচ্ছে। যা তারা কোনোদিন শিখতেই পারেনি। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সেটে দেরি করে আসছে সেটা আমি বলতে চাই না। আসলে তাড়না ফিল করছে না। অভিনয়শিল্পীকে তো ফিল করতে হবে যে... আমি একটা ভালো কনটেন্ট করতে যাচ্ছি। এই তাড়না যখন তার ফিল হবে তখনই সে ইন টাইমে সেটে আসবে। আরটিভি : একটি ভালো মানের নাটক নির্মাণের জন্য কী পরিমাণ বাজেট থাকা লাগে? শ্রাবণী ফেরদৌস : আসলে ভালোর তো শেষ নেই। বাজেট ভালো পেলে অনেক ভালো কাজ করার সম্ভব সেটাও না।সেখানে প্রপার বাজেটটা দরকার। আমার স্ক্রিপ্টটা কি লেভেলের বাজেট ডিমান্ড করছে সেটাই জরুরি। আমার স্ক্রিপ্ট যদি ২ লাখ টাকা ডিমান্ড করে, কিন্তু আমাকে যদি ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয় তাহলে আমি অনেক ভালো একটা প্রোডাকশন বানিয়ে দেখাব বিষিয়টা এমন না। আমি সেটা বলতেও চাই না। আমার মনে হয় প্রপার বাজেট হওয়া জরুরি। হ্যাঁ... এত টাকা চাই তাহলে আমরা একটা ভালো কাজ করতে পারব। এটা ডিপেন্ড করবে স্ক্রিপ্টের ওপর, চরিত্রের ওপর। ক্যারেক্টারে কাকে নিতে চাচ্ছি তার ওপরে, প্রোডাকশন ডিজাইনের ওপরে। আরটিভি : আপনার নির্মাণের শুরুটা কীভাবে হয়েছিল? শ্রাবণী ফেরদৌস : নির্মাণের শুরুটা হচ্ছে আমি আসলে সহকারী নির্মাতা হিসেবে কাজ করেছি অনেক দিন। সে সময় ইচ্ছে ছিল প্রচণ্ডভাবে অভিনয় করব। আমি মাস্টার্স করেছি অভিনয়ে। তাই অভিনয়ের ওপর ভীষণরকম একটা নেশা ছিল। মঞ্চ করতাম, মঞ্চ এখনও করি। তো সেই জায়গা থেকে অভিনয়ই করব এমন একটা ইচ্ছে ছিল। কিন্তু ব্যাটে-বলে আর হয়নি। তাই সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করি। একটি বেসরকারি চ্যানেলে প্রথম এককভাবে নাটক নির্মাণ শুরু হয়। এই তো এরপর থেকে শুরু হয় নির্মাতার জীবন। পাশপাশি নিয়মিত চিত্রনাট্যও লিখছি। আরটিভি : নির্মাণের বাইরে আর কীভাবে সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত থাকেন? শ্রাবণী ফেরদৌস : আসলে একজন মঞ্চের কর্মীকে সবই পারতে হয়। নাচ, গান, কবিতা, আবৃত্তি মানে নবরস, নবরসের সবই থাকে অভিনয়ে। মঞ্চ যারা করে তাদের সব শিখতে হয়। যেহেতু পড়াশোনাটাই আমার ড্রামা নিয়ে, তাই শেখাটা ভার্সিটি থেকেই শুরু। ৫ বছর ধরে অল্প অল্প করে এসব করা হয়েছে, ভালোই লাগে। কালচারাল সব কিছুই আমাকে সব সময় টানে। আরটিভি : নির্মাণের জন্য নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করেন? শ্রাবণী ফেরদৌস : আমার প্রথম প্রোডাকশনটা যে এফোর্ট দিয়ে করেছি, পরের প্রোডাকশনগুলতে অনেক... অনেক ফাঁকির ব্যাপার ছিল। সত্যি বলতে অনেক... অনেক ছিল। তো এই ফাঁকিগুলো না দিলেই ভালো। নিজের কাছে নিজের সৎ থাকাটা খুব জরুরি। এ জন্যই আমি ইদানিং গ্যাপ দিয়েছি কাজে। এই ব্রেক নেওয়াটা জরুরি মনে করেছি। কারণ, একটানা শুটিং করছি কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই। এটা খুবই অন্যায় মনে হচ্ছিল নিজের কাছেই নিজের। তাই নিজেকে প্রস্তুত করছি আগামী দিনগুলোর জন্য। আরটিভি : নির্মাণে আসার জন্য পরিবার থেকে সাপোর্ট কতটুকু পেয়েছেন? শ্রাবণী ফেরদৌস : পরিবারের সাপোর্ট বলতে আমার ফ্যামিলি ধার্মিক। তো বাবা মায়ের কেউই পছন্দ করত না এই লাইনের পড়াশোনা। বড় ভাই চারুকলায় পড়াশোনা করেছে পুরো নিয়ম ভেঙে। তো বড় ভাই যেহেতু নিয়ম ভাঙতে পেরেছে ওই জায়গা থেকে আমি সাহসটা পেয়েছি নাটকে পড়ার। ওইভাবে বড়জন করতে পেরেছে বলেই আমি ছোটজন করতে পেরেছি। এই আর কি! সাপোর্ট ওই অর্থে কিছুই ছিল না। এখন পরিবারের সবাই আনন্দ পায়। আমাকে জানায় তোকে তো ইন্টারভিউতে দেখতে পাচ্ছি, তোর নাটকটা দেখা যাচ্ছে। আরটিভি : নির্মাণে নারী হিসেবে কোনো ধরনের বাধা পেয়েছেন? শ্রাবণী ফেরদৌস : আসলে মেয়েদের তো জন্মগত দিক থেকে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। পরিবার থেকে যদি বলেন, বিয়ের পর যদি বলেন, একটা সন্তানকে কিন্তু মেয়েদেরকেই পালতে হয়। তো যখন আমার সন্তানকে সময় দিতে হয়, আমার ফ্যামিলিকে সময় দিতে হয়, আমার সংসারের কাজকর্ম আমাকে টেক-কেয়ার করতে হয়, দিনশেষে মেয়েদের দায়ভার সবকিছু। এত সব কাজে আমাকে যেতে হয়। কিন্তু একটা ছেলেকে এগুলো খুব বেশি করতে হয় না। একটা ছকের মধ্যে পড়ে গেছি। এই ছক থেকে বের হওয়া যায়, কিন্তু হচ্ছে না। হবে কি না আদৌ জানি না। বাধাগুলো পেরিয়ে ছেলেরা যেভাবে এগিয়ে যায় মেয়েদেরও এগিয়ে যেতে হয়। ছেলেদেরও বাধা আসে মেয়েদেরও বাধা আসে বিভিন্ন রকম। তো এভাবেই সব পেরিয়ে যেতে হয়। জীবনটাই অনেক সংগ্রামের, বা একটু টেকনিক্যাল, একটু গুছিয়ে নেওয়ায় বিষয়। এগুলোর ভেতর দিয়েই যেতে হয় সব সেক্টরেই। আমাদের মিডিয়ার সেক্টর ব্যতিক্রম না। এভাবেই আসলে কাজ করতে হয়। ঠিক সে ভাবেই কাজ করছি।
একটা ছকের মধ্যে পড়ে গেছি : শ্রাবণী ফেরদৌস
সাত সাগর ১৩ নদী পাড়ি হাবিব-নাতালিয়ার 
সত্যি সত্যি স্বপ্নের রাজকন্যার দেখা পেতে সাত সাগর আর ১৩ নদী পাড়ি দিয়ে জার্মান গিয়েছিলেন বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলী হাবিব। শুধু স্বপ্ন নয়, বাস্তবেই রূপনগরের রাজকন্যার দেখাও পেয়ে যান সেখানে। আর সেই রূপনগরের রাজকন্যা যেন বসে ছিলেন সাগরের তীরে বনলতা সেনের মতো।  হাবিবের উদ্দেশে বেলারুশের তরুণী নাতালিয়া বললেন, এত দিন কোথায় ছিলেন? হাবিবের সঙ্গে পরিচয়ে যেন অনেক শান্তি পেয়েছিলেন নাতালিয়া। ভালোবাসার এমন গল্প বাংলাদেশি ছেলে হাবিব ও বেলারুশের মেয়ে নাতালিয়ার। প্রেম মানে না কোনো বাধা, মানে না কোনো জাত কিংবা দেশের সীমান্ত। এর জ্বলন্ত উদাহরণ হাবিব-নাতালিয়া দম্পতি।  বাংলাদেশের ছেলে হাবিব রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মান যান। জার্মানির বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ স্টেডিয়ামে স্টুডেন্ট জব করতে গিয়ে হাবিবের সঙ্গে পরিচয় হয় বেলারুশের মেয়ে নাতালিয়ার। ধীরে ধীরে তা বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে রূপ নেয়। দুজন দু’দেশের হলেও একে অপরের প্রতি প্রেমের টান, আস্থা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে বন্ধন গড়ে তোলেন। ৪ বছরের প্রেম শেষে ২০১৭ সালের ৯ জুলাই বিয়ে করেন। তাদের দুই বছরের মেয়ে নাদিয়া। বর্তমানে তারা জার্মানির পূর্বাঞ্চলের সাক্সনি অঙ্গরাজ্যের কেমনিজ শহরে বসবাস করছেন। জানুয়ারিতে দেশে এসে বাংলাদেশি রীতিতে গায়েহলুদ ও বিয়ের আয়োজন করেন।  বাংলাদেশ সফরে এসে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন এই দম্পতি। জার্মানিতে দীর্ঘ লকডাউনের একঘেঁয়েমি কাটাতে সখের বশেই, ২০২০ সালের অক্টোবরে ‘নাতালিয়া অ্যান্ড হাবিব-দ্যা মিক্স ম্যাচ ফ্যামিলি’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ খোলেন। নাতালিয়ার ভাঙা ভাঙা বাংলা ও তার বাংলা সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের মেয়ে ছোট নাদিয়ার সরব উপস্থিতি, অল্পদিনেই তাদের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় হাবিব-নাতালিয়া। কথা বলেছেন আরটিভির সঙ্গে।  ভিন্ন দেশের হওয়ার পরও নাতালিয়াকে পছন্দ করার কারণ কী?  হাবিব : আমি মনে করি সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশ কোনো বাধা হতে পারে না। নাতালিয়ার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর আমি বুঝতে পারি। নাতালিয়া কোন দেশের এটা আমার কাছে মুখ্য না। নাতালিয়া ভীষণ ভালো একটা মেয়ে, অনেকটা আবেগপ্রবণ। ওর ভালোবাসাটা নিঃস্বার্থ। আমাকে অনেক ভালো বোঝে। আমাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়াটা অনেক ভালো। আমাদের সম্পর্কের গভীরতা এতটা ছিল যে, নাতালিয়া অন্য দেশের কখনো মনে হয়নি। সেই অনুভূতি থেকেই আমি বুঝতে পারি জীবনসঙ্গী হিসেবে নাতালিয়া আমার জন্য ঠিক আছে।  হাবিবের কোন বিষয়গুলো আপনাকে আকৃষ্ট করে?  নাতালিয়া : হাবিব খুবই রোমান্টিক একটা ছেলে। মানুষের সঙ্গে খুব সহজে মিশতে পারে। হাবিবের সঙ্গে মিশে আমি বুঝতে পারি, সে অত্যন্ত সৎ এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তি। আমার ভালো থাকার জন্য হাবিব সবকিছু করতে পারে। বাংলাদেশি ছেলেরা ভীষণ আন্তরিক ও দয়ালু। যা আমাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। প্রথমবার বাংলাদেশ সফর করে কেমন লাগল?  নাতালিয়া : বাংলাদেশে এসে ভীষণ একসাইটেড আমি। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে প্রথমবার দেখে এবং তাদের সঙ্গে মিশে এত ভালো লেগেছে যে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমাকে খুবই আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে হাবিবের পরিবার। তবে খারাপ লেগেছে, আমার শ্বশুর মারা গেছেন গত বছর। তার সঙ্গে দেখা হলো না। এটা আমার জন্য অনেক কষ্টের। বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসায় আমি কৃতজ্ঞ। এখানে এসে নতুনভাবে গায়েহলুদের অনুষ্ঠান, বাংলাদেশের মতো বিয়ের প্রোগ্রাম। এটা একেবারেই ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের গায়েহলুদ ও বিয়ের অনুষ্ঠান সত্যি ভিন্ন রকম। পোশাক সাজগোজ এসব কিছু মিলিয়ে অপূর্ব এক অনুভূতি হয়েছে। যা আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।  নাতালিয়াকে নিয়ে বাংলাদেশে এসে কেমন লাগল?  হাবিব : আমি কখনো কল্পনা করিনি বাংলাদেশে আমাদের এত ভক্ত আছে। এত মানুষের ভালোবাসায় আমি অভিভূত ও কৃতজ্ঞ। নাতালিয়া তো প্রথমে আমার মা-ভাই-ভাবিসহ পরিবারের লোকজনকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে আমার পরিবারের মানুষকে ভীষণ আপন করে নিয়েছে। আমাদের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান, বিয়ের প্রোগ্রামে বউ সাজাসহ সবকিছু ভীষণ উপভোগ করেছে। গ্রামের পরিবেশ মানুষের আন্তরিকতায় সে মুগ্ধ হয়েছে। যেখানেই নাতালিয়া গিয়েছে তাকে দেখার জন্য মানুষ ছুটে এসেছে। এটা আমার জীবনের অন্যতম একটা পাওয়া।  আপনাদের সুখী দাম্পত্য জীবনের রহস্য কী?  হাবিব : আসলে প্রেম বা ভালোবাসার ক্ষেত্রে ভিন্ন দেশ বা ভিন্ন সংস্কৃতি কোনো বাধা হতে পারে না। ভালোবাসার জন্য শুধুই ভালো মন প্রয়োজন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অপরের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস এবং একে অন্যকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি যেমন নাতালিয়ার ভালো লাগা বা মন্দ লাগাকে বুঝি, তেমনি নাতালিয়াও আমার সবকিছুকে গুরুত্ব দেয়। জার্মানিতে থাকলেও প্রতিনিয়ত নাতালিয়া আমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। তাই আমাদের আত্মার বন্ধনটা অনেক দৃঢ়। আমি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করি যে নাতালিয়ার মতো মেয়েকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি। আমাদের পেশাগত জীবনের বাহিরে সন্তান লালন-পালন করি। নিজেদের সংসারের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করি।
সাত সাগর ১৩ নদী পাড়ি হাবিব-নাতালিয়ার 
করোনা মহামারিতে ঢাকা ওয়াসা গ্রাহকবান্ধব
পানির অপর নাম জীবন। নিত্যদিনের খাবার না খেয়ে মানুষ কিছুদিন বাঁচলেও পানি পান না ছাড়া বাঁচা সম্ভব নয়। শরীর সচল রাখা ও শারীরিক ফিটনেস অর্জনে খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণ পানি থাকতেই হবে। আর ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি মানুষের পানির যোগান দিচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। করোনা মহামারির এ সময়ে দৈনিক পানি সরবরাহের সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের কর্ম পরিকল্পনা সাজানোর নিয়ে আরটিভি নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। পাঁচ পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে শেষ পর্ব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফারুক আলম। আরটিভি নিউজ করোনা মহামারিতে গ্রাহকদের পানি সরবরাহে ঢাকা ওয়াসা কোন পরিকল্পনায় এগিয়েছে?  প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : বিশ্বজুড়ে আজ করোনা মহামারি চলছে। আমাদের দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ যখন করোনা রোগী শনাক্ত ও মারা গেলেন তখন সব মানুষ ছিলেন আতঙ্কে। ঢাকা ওয়াসার পানি নিরবিচ্ছিন্নভাবে সরবরাহের জন্য ৯ মার্চ থেকে আমরা একটা সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম হাতে নিলাম। কারণ আমরা জানি, ঢাকা ওয়াসা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে প্রায় দুই কোটি মানুষের সেবার বিষয় জড়িত। তাই সব কিছু বন্ধ থাকলেও ঢাকা ওয়াসা সেবা বন্ধ করতে পারবে না। তখন আমাদের স্টাফদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করলাম যে লকডাউন হলেও আমাদের অফিসে আসতে হবে, কাজ করতে হবে। ২০২০ সালের ২৬ মার্চ সরকার যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করল তখনও ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। খুব ভালোভাবে আমরা আমাদের সার্ভিস দিয়ে যেতে পেরেছি। কোনো সমস্যা হয়নি। এক দিনের জন্যও কাজ বন্ধ হয়নি। আরটিভি নিউজ : করোনা মহামারি থেকে সুরক্ষা পেতে ঘন ঘন হাত ধোয়ার প্রয়োজন। এতে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। ঢাকা ওয়াসা সেই পানির চাহিদা পূরণে কী করেছে? প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘন ঘন হাত ধুলে পানি ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা হবে না। কারণ ঢাকা ওয়াসার ৪টা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট সম্পূণরূপে চালু রাখা হয়েছে। পাম্প স্টেশন যেগুলো ভূগর্ভস্থ পানি নির্গমণ করে সেগুলোও চালু রাখা হয়। সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও ঢাকা ওয়াসা অত্যাবশ্যকীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বিধায় আমরা আমাদের কাজ চলমান রেখেছি। নগরবাসীর নিরবচ্ছিন্ন পানি ও পয়ঃসেবাকে সমুন্নত রাখার জন্য ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন বিভাগ তাদের কাজ চালিয়ে যায়। আরটিভি নিউজ : করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিতে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন কিনা?  প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : আমাদের প্রায় চার হাজার কর্মীর মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন শতাধিক। যারা পজিটিভ হয়েছেন তাদের সব সময় খোঁজখবর নেওয়াসহ সব ধরনের সহায়তার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা শহর ঘনবসতিপূর্ণ শহর হওয়ায় করোনার ভয় ছিল এখানেই বেশি। করোনার মধ্যে কোনো মানুষ বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হয়নি। করোনার সংক্রমণ যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য সরকার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করে। করোনার ভয়াবহ আতঙ্ক ও লকডাউনের মধ্যেও ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহকদের নিরলসভাবে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রেখেছে। করোনার মধ্যে কোনো এলাকায় পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন কিংবা গ্রাহকের নতুন সংযোগের প্রয়োজন হলে মানুষ ঘরে বসে থেকে ঢাকা ওয়াসার জরুরি ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা মাত্রই সেখানে ওয়াসার কর্মচারীরা পৌঁছে যেতেন। করোনা মহামারির মধ্যেও ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আল্লাহ অনেক ভালো রেখেছেন। এই করোনার সময় ভালো থাকাটাই তো বড় কথা। আরটিভি নিউজ : ঢাকা ওয়াসার ফের পানির দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কী?  প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : ঢাকা ওয়াসায় পানি সংকটের সমস্যা সমাধান হয়েছে। এখন সংস্থাটির বিভিন্ন উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে। ওয়াসা এমন একটি সংস্থা যা কিনা নিজেদের সক্ষমতার পাশপাশি গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়েও চিন্তা করে। সেখান থেকে আগামীতে এলাকাভিত্তিক পানির দাম নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে ঢাকা ওয়াসার। নিম্ন আয়ের মানুষের পানির দাম আর বাড়বে না, কমানো হয়তো সম্ভব হবে না, কিন্তু অন্যান্য জায়গায় পানির দাম বাড়বে। নিম্ন আয়ের মানুষ সময় মতো বিল পরিশোধ করায় তাদের আমরা সন্মানিত করেছি। তবে দুঃখজনক হচ্ছে- আমরা যারা অপেক্ষাকৃত অর্থনৈতিকভাবে ভালো এবং ব্যয়বহুল এলাকায় বসবাস করছি তারাও যে টাকায় পানি পাচ্ছেন, ঠিক একই টাকায় নিম্ন আয়ের মানুষও পানি পাচ্ছে। এটা উচিত না। এই শহরের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি যাদের টাকার কোনো অভাব নেই, তাদের ৭০ লাখ টাকা বিল বাকি থাকে কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের কারও ১০০ টাকাও বাকি নেই। ঢাকা ওয়াসা পানির উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম দামে পানি দিচ্ছে। বাকিটা সরকার আমাদের ভর্তুকি দিচ্ছে। সরকারের এই ভর্তুকির অর্থ ধনীক শ্রেণির মানুষ পাচ্ছেন, সেটা পাওয়া উচিত না। ঢাকা ওয়াসা এখন চিন্তা ভাবনা করছে সরকারের ভর্তুকির অর্থ নিম্ন শ্রেণির মানুষ পেলেও যাতে ধনীক শ্রেণির মানুষ কম পায় সেজন্য এলাকাভিত্তিক পানির দাম নির্ধারণ করবে। এব্যাপারে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছি যাতে করে নিম্ন আয়ের মানুষ পানি ব্যবহারে অর্থ সাশ্রয় পান। আরটিভি নিউজ : এলাকাভিত্তিক পানির দাম বাড়ালে ওয়াসার কী লাভ? প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : অভিজাত এলাকা গুলশানের বাসা ভাড়া আর খিলগাঁওয়ের বাসা ভাড়া এক নয়। দুই এলাকায় পানির দাম একই। এটা যৌক্তিক নয়। যারা পানি বেশি খরচ করেন, তারা বিলাসি জীবনযাপন করেন। অপচয়ও করেন বেশি। ওই পর্যায়ে পানির দামও রাখা হবে বেশি। এ সিস্টেম চালু হলে পানিতে ভর্তুকিও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ঢাকা ওয়াসা দিনে দিনে সফলতার দিকে যাচ্ছে, সেদিক থেকে সংস্থাটি মনে করছে, ভর্তুকি দিয়ে কোনো সংস্থা দীর্ঘমেয়াদে টিকতে পারে না। এখন হাজার লিটার পানির উৎপাদন খরচ ২৫ থেকে ২৭ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। এলাকাভিত্তিক পানির দাম বাড়ালে আশা করা হচ্ছে এই ভর্তুকি কমে আসবে। আরটিভি নিউজ : ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা’ কর্মসূচি কতটুকু সফলতা পেয়েছেন? প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : ঢাকা ওয়াসার মূল লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও গণমুখী পানি ব্যবস্থাপনা। এ লক্ষ্য ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা’ কর্মসূচির আওতায় নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে। এখন ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা’ কর্মসূচির মধ্যদিয়ে প্রায় শতভাগ সফলতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। তবে ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা’ কর্মসূচি গ্রহণের পরে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিল। এই কর্মসূচি নিয়ে মানুষ ঠাট্টা করেছেন। ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা’ কর্মসূচি প্রথমে ঢাকা ওয়াসায় ইউনিয়ন সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সব কর্মসূচি তাদের পছন্দ হয়নি। তখন কিছু কিছু কর্মকর্তা ঠাট্টা করা শুরু করলেন, স্যার এমন ঘুরে দাঁড়াইয়েন না, আমরা আওয়ামী লীগ সব বিএনপি হয়ে যাবু? আবার অনেকে বলেছেন যে, স্যার এমন বেশি ঘুরিয়েন না, যেন চিত হয়ে মাটিতে পড়ে যাই। চিত হয়ে পড়ে যাওয়া অর্থ তারা বুঝিয়েছেন- ঢাকা ওয়াসায় যা ছিল এই কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে তাও নষ্ট হয়ে যাবে। অর্থাৎ ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা’ কর্মসূচি নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। যেকোনো পজিটিভ কর্মসূচি হাতে নিয়ে অনেকে তা নেগেটিভ মনে করেন। যেমন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিলেন তখনও অনেক মানুষ ঠাট্টা করেছেন। আজকে বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির প্রকোপ চলছে। বাংলাদেশের অনেক মানুষ আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের কারণে বাড়িতে বসে অফিস করতে পারছেন। অনলাইনে যোগাযোগ করছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে ঢাকা ওয়াসাকে ডিজিটাল ওয়াসা বানানো হবে। আরটিভি নিউজ : ঢাকা ওয়াসার মিটার রিডার ব্যবস্থা কেমন? প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : ঢাকা ওয়াসার কিছু রাজস্ব পরিদর্শক (মিটার রিডার) মিটার রিডার ঘুরে মাসিক বিল কমিয়ে দিয়ে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করতেন। কিভাবে তারা মিটার রিডার ঘুরিয়ে পানির বিল কমাতেন সেই কৌশল জানার পর ওয়াসার পুরোন মিটার পরিবর্তন করা হয়। আগের মিটারের তুলনায় বর্তমানে ওয়াসার মিটার গুণগতমান ভাল। এখন যেসব মিটার রয়েছে, সেগুলো আর ঘুরিয়ে মিটার রিডার কমাতে পারেন না রাজস্ব পরিদর্শকরা। গ্রাহক যতটুকু পানি ব্যবহার করবেন ততটুকু বিল পরিশোধ করেন। তবে পুরনো মিটার নিয়ে অনেক সময় অভিযোগ আসতো যে মিটার রিডাররা যে মাসোহারা আদায় করেন, তার একটি বড় অংশ চলে যায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পকেটে। একারণেই অনিয়ম ও দুর্নীতি সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতো। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসায় যেসব মিটার রয়েছে সেগুলো আর ঘুরিয়ে বিল করার কোনো সুযোগ নেই। এতে একদিকে গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধ হয়েছে, অন্যদিকে ঢাকা ওয়াসার সুনাম বাড়ছে। একই সঙ্গে ওয়াসার রাজস্ব কয়েকগুণ বেড়েছে। আরটিভি নিউজ : ঢাকা ওয়াসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : ঢাকা ওয়াসা পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান করেছে। ইতোমধ্যে পানির ক্ষেত্রে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হয়েছে। শতভাগ মানুষকে পানি দিতে পারছি। মাস্টারপ্ল্যান ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছি। আর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ২০৫০ সাল পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যানে রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার রোড ম্যাপ পরিষ্কার। সরকারের একটি করপোরেট ম্যানেজমেন্ট ও বাণিজ্যিক সংস্থা। এ সংস্থার রয়েছে অত্যন্ত প্রগতিশীল একটি আইন। এ আইনের মাধ্যমে কাজ করলে আমাদের কেউ কোনোভাবে প্রভাবিত করতে পারে না। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনার পরিচালকের দায়িত্ব পান। এরপর থেকে একটানা ষষ্ঠবারের মতো তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকা ওয়াসার এমডি পদে আরও তিন বছরের জন্য নিয়োগ পান প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। এফএ
করোনা মহামারিতে ঢাকা ওয়াসা গ্রাহকবান্ধব
স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্টের পথে ঢাকা ওয়াসা
সরকারি-বেসরকারি যে কোনো সংস্থার সফলতা এককভাবে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। সংস্থার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছায় অল্প সময়ে সফলতা আনা সম্ভব। যার প্রকৃত উদারহণ ঢাকা ওয়াসা। মাত্র ১২ বছরের ব্যবধানে পুরো ওয়াসার দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়েছে। এই দৃশ্যপট পরিবর্তন ও সাফল্য শুধু ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মাধ্যমে আসেনি, ২০০৯ সাল থেকে যারাই ঢাকা ওয়াসায় কর্মরত রয়েছেন তাদের দ্বারায় এই অর্জন এসেছে বলে মনে করছেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। পুরো বিশ্ব আজ প্রযুক্তি নির্ভরের দিকে চলে যাচ্ছে। সেখানে ঢাকা ওয়াসা পিছিয়ে থাকতে পারে না। কালের পরিক্রমায় ওয়াসার পানি সাপ্লাইয়ে যে ধরনের উন্নয়ন হয়েছে ঠিক একইগতিতে প্রযুক্তি নির্ভর ওয়াসা উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা ওয়াসা এখন যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান তেমনি প্রযুক্তি নির্ভর ওয়াসা করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে সংস্থাটির কর্মকর্তারা। প্রযুক্তি নির্ভর ওয়াসা করতে পারলে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে গতিশীলতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংস্থাটির এমডি। ঢাকা ওয়াসার অগ্রগতি ও আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে পাঁচ পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে চতুর্থ পর্ব। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফারুক আলম। আরটিভি নিউজ : ডিজিটাল ঢাকা ওয়াসা প্রতিষ্ঠা করতে কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে? প্রকৌশলী তাকসিম এ খান  : ঢাকা ওয়াসা একটি জরাজীর্ণ প্রতিষ্ঠান ছিল। অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ-বাণিজ্য ও নানা রকম জটিলতায় আক্রান্ত ছিল। গ্রাহকসেবার জায়গাটা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। প্রতিষ্ঠানটির একেকটি বিভাগ ছিল এক ধরনের কাজ না জানা মানুষে ভর্তি। এক কথায় বলতে গেলে একটি অকেজো প্রতিষ্ঠানের মতো ঢাকা ওয়াসা সরকারের বোঝা ছিল। ২০০৯ সালে আমি ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসে ধীরে ধীরে ওয়াসাকে আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেছি। সব অনিয়ম দূর করেছি। আধুনিক বিশ্বের পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে মিল রেখে এগিয়ে নিয়েছি। ঢাকা ওয়াসা এখন ডিজিটালি অপারেট করছে। ই-সেবা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঢাকাবাসী উপকৃত হচ্ছেন। ই-বিলিং, ই-জিপি, পয়ঃসংযোগ, ই-নথি এবং ই-রিক্রুটমেন্ট করে ডিজিটাল ঢাকা ওয়াসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। মানুষের বাসায় বাসায় গিয়ে পানির মিটার রিডিং দেখে আসতে হয়। আগামীতে এমন প্রযুক্তি নিয়ে আসতে চায় ওয়াসা, যেখানে মিটার রিডিং দেখতে বাসায় বাসায় লোক পাঠাতে হবে না। ডিজিটাল মিটার রিডিং পদ্ধতি থাকবে। যেখানে পানির মিটার রিডিংটা ওয়েবের মাধ্যমেই সহজেই জানা যাবে। তাহলে এটাই হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম ডিজিটাল মিটার রিডিং পদ্ধতি। ওয়েবের মাধ্যমে মিটার রিডিং আমাদের আশেপাশে কোনো শহরেই নেই। এটা যদি আমরা করতে পারি, তাহলে এটা হবে আমাদের বড় একটি অর্জন। আরটিভি নিউজ : ঢাকা ওয়াসা স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট বলতে কী বোঝানো হয়েছে? প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট বলতে মানুষ ঘরে বসেই ঢাকা ওয়াসার সব ধরনের সেবা পাবেন। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তি দূর করে সেবা নিশ্চিতে ডিজিটালাইজেশন বা স্মার্ট ওয়াটার সিস্টের দিকে এগোচ্ছে ওয়াসা। পানির পাম্পে এসসিএডিএ স্থাপন করে ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ দ্বারা গভীর নলকূপের অপারেশন, কন্ট্রোল ও মনিটরিংয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে ঢাকা ওয়াসা পরিচালন ব্যয় কমিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অন্যদিকে এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং বাস্তবায়নের পদেক্ষপ গ্রহণ করা হয়েছে। আইওটি ও জিআইএস ব্যবহার করে স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রক্রিয়া চলছে। এর মাধ্যমে সব মিটার, বাল্বসহ অন্যান্য সেবাসহ সব কিছুর ডিজিটালাইজেশন সম্পন্ন করবে ঢাকা ওয়াসা। কারণ প্রযুক্তি এখন এতোটাই এগিয়েছে যে সব ধরনের সেবা ডিজিটালি দেওয়া সম্ভব।   আরটিভি নিউজ : ঢাকা ওয়াসা কী গ্রাহক বান্ধব প্রতিষ্ঠান হতে পেরেছে? প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের গৃহীত পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এরমধ্যে প্রতিটি মডস্/রাজস্ব জোনে গ্রাহক সাধারণের সুবিধার্থে হেলপ ডেস্ক খোলা হয়েছে। যার মাধ্যমে গ্রাহকগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত হচ্ছে। প্রতিটি মডস্/রাজস্ব জোনে অভিযোগ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। অভিযোগ প্রাপ্তির ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে তা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নতুন পানি সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে আবেদনের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে (পূর্বে ৩০ দিন ছিল) সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে। মিটার স্থাপনেও পূর্বের দীর্ঘসূত্রিতা রোধ করে মিটার টেস্টিং রিপোর্ট প্রাপ্তির ৩ (তিন) দিনের মধ্যে সংযোগে মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। পানির গুণগত মানের বিষয়ে যে কোন অভিযোগ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা করে তা সমাধানের বিষয়ে গ্রাহককে জানানো হচ্ছে। আরটিভি নিউজ : প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগায় অনিয়ম-দুর্নীতি কমিয়ে ঢাকা ওয়াসায় রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব হয়েছে কিনা? প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : ঢাকা ওয়াসা প্রযুক্তিবান্ধব হওয়ায় অনিয়ম-দুর্নীতি হ্রাস পেয়েছে। ঢাকা ওয়াসা ২০০৭-০৮ অর্থবছরে যেখানে ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল, সেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। আর সম্প্রতি সময়ে ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব আয় গত এক যুগে বেড়েছে তিন গুণ। অন্যদিকে স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠী বস্তি এলাকায় পানি সুবিধা ১০০ ভাগে উন্নীতকরণে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ঢাকা ওয়াসা। এর আলোকে ইতোমধ্যে দেশের বৃহত্তম বস্তি হিসেবে পরিচিত ‘কড়াইল বস্তিতে’ শতভাগ বৈধ পানির সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য বস্তিতে বৈধ পানির সংযোগ প্রদানের কাজ চলমান রেখেছে ওয়াসা। আরটিভি নিউজ : ওয়াসা ডিজিটালাইজেশনের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে কিনা?  প্রকৌশলী তাকসিম এ খান : ঢাকা ওয়াসাকে ডিজিটালাইজেশন করার জন্য নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোপ- আলোচনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হচ্ছে। কারণ প্রশিক্ষণ একদিনের কোনো বিষয় নয়, নিয়মিত যখন যে প্রযুক্তির ছোঁয়া ওয়াসায় লাগছে, সেই প্রযুক্তি সম্পর্কে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধারণা দেওয়া হচ্ছে। এখন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সহজেই ডিজিটালাইজেশনের বিষয়গুলো বুঝতে পারেন। ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে নিয়মিত তিনটি বিষয় তিনবার করে বলা হচ্ছে। প্রথমটি হচ্ছে- অটোমেশন, অটোমেশন, অটোমেশন, দ্বিতীয়টি- কম্পিউটারাইজেশন, কম্পিউটারাইজেশন, কম্পিউটারাইজেশন, তৃতীয়ত- ডিজিটালাইজেশন, ডিজিটালাইজেশন, ডিজিটালাইজেশন। এই তিনটি বিষয়ের মধ্যেই ঢাকা ওয়াসার ডিজিটাল ওয়াসায় রূপান্তর করার সব কিছুই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি, ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনা কমাতে চাইলে বক্তৃতা দিয়ে সম্ভব নয়। এজন্য অনিয়মের সিস্টেম বন্ধ করার কৌশল তৈরি করতে হবে। এফএ
স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্টের পথে ঢাকা ওয়াসা
আরও পড়ুন
বিপিএলে শুধু এলিমিনেটর ও ফাইনালে থাকবে ‘পূর্ণ’ ডিআরএস
ইউরোপ ছেড়ে এশিয়ান ফুটবলে যোগ দিতে চায় রাশিয়া
ভলিবলে অপরাজিত থেকে ফাইনালে বাংলাদেশ
যুব হকির ফাইনালে বিকেএসপির প্রতিপক্ষ রাজশাহী