ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় এসএসসি রেজাল্টের গুরুত্ব কতটুকু  

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:১১ এএম
বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী; এসএসসির ফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও গন্তব্য ও শিক্ষার স্তর অনুযায়ী এর গুরুত্ব বদলে যায় । ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি পাস করার পরই বিদেশে পড়তে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু এসএসসির ফল ভালো হলেই সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যায় না। কোন পর্যায়ে এসএসসির ফল কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নির্ভর করে শিক্ষার্থী কোন দেশে এবং কোন স্তরে পড়তে যেতে চাইছেন তার ওপর।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আগে যেখানে মূলত স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিদেশে যেতেন, এখন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেও অনেকেই দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ফলে এসএসসির ফলাফল বিদেশে পড়ার ক্ষেত্রে কতটা কাজে আসে, তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কৌতূহলও বাড়ছে।

এসএসসির পরই কি বিদেশে যাওয়া যায়?

এসএসসি শেষ করে বিদেশে পড়তে যাওয়া সম্ভব। তবে বেশির ভাগ দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার জন্য ১২ বছরের স্কুলশিক্ষা সম্পন্ন করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই স্তরটি সাধারণত এইচএসসি পর্যন্ত।

তাই এসএসসি পাস করার পর বিদেশে গেলে অনেক শিক্ষার্থীকে আগে ভিত্তিমূলক কোর্স বা ডিপ্লোমা পর্যায়ের পড়াশোনা করতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। ও-লেভেল শেষ করার পর বিদেশে গিয়ে এ-লেভেল সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

তাহলে এসএসসির ফলের গুরুত্ব কোথায়?

বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এসএসসির ফল একেবারে গুরুত্বহীন নয়। তবে এটিই সাধারণত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসএসসির ফল দিয়ে শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা, পড়াশোনায় কোনো বিরতি আছে কি না এবং সময়ের সঙ্গে ফলাফল কেমন হয়েছে—এসব বিষয় বোঝার চেষ্টা করা হয়।

ধরা যাক, কোনো শিক্ষার্থীর এসএসসিতে ফল তুলনামূলক কম হলেও এইচএসসিতে ফল অনেক ভালো হয়েছে। পরে স্নাতক পর্যায়েও ভালো ফল করেছে। এ ধরনের ধারাবাহিক উন্নতি শিক্ষার্থীর জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আবার কিছু দেশে ভিত্তিমূলক কোর্স বা ডিপ্লোমায় ভর্তির জন্য এসএসসিতে নির্দিষ্ট ফল বা গ্রেডের শর্ত থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের ফল সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এইচএসসির পর বিদেশে গেলে কী হয়?

বাংলাদেশ থেকে এইচএসসি পাস করে বিদেশে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হতে চাইলে সাধারণত সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ এইচএসসির ফলাফল তখন এসএসসির তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসএসসির ফল মূলত সহায়ক নথি হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল বা আইনের মতো প্রতিযোগিতামূলক বিষয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীর ফলও বিবেচনায় আসতে পারে।

এর পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা, পড়াশোনায় বিরতি আছে কি না এবং বিদেশে পড়াশোনার খরচ বহনের মতো আর্থিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

উচ্চশিক্ষার আরও ওপরে গেলে এসএসসির গুরুত্ব কমে

যে শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তর, এমফিল বা পিএইচডির জন্য বিদেশে আবেদন করেন, তাঁর ক্ষেত্রে এসএসসির ফলাফলের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যায়। তখন সর্বশেষ ডিগ্রির ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, থিসিস, কাজের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ভাষাগত দক্ষতার মতো বিষয় বেশি গুরুত্ব পায়।

অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী যত উচ্চশিক্ষার দিকে এগিয়ে যান, আগের স্তরের ফলাফলের গুরুত্ব ততই কমতে থাকে।

ভালো ফলের পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় জরুরি

বিদেশে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে শুধু এসএসসি বা এইচএসসির ফল ভালো করলেই হবে না। গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে ভালো ভিত্তি তৈরি করা জরুরি। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ভাষাগত দক্ষতার পরীক্ষায় ভালো ফল, পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা এবং পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতিও থাকতে হবে।

তাই এসএসসি পাসের পর বিদেশে পড়তে চাইলে প্রথমেই যে দেশের কথা ভাবছেন, সেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও ভর্তি শর্ত সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ একেক দেশের নিয়ম একেক রকম।

এসএসসির ফল বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হলেও একমাত্র নির্ধারক নয়। এসএসসির পর সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হলেও ভিত্তিমূলক কোর্স বা ডিপ্লোমার মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষার পথ তৈরি হতে পারে। আর এইচএসসি বা তার পরের স্তরে পৌঁছালে সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতাই বেশি গুরুত্ব পায়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
২১ ঘন্টা পেরিয়ে চুয়েটে ২য় দিনের মতো অবরুদ্ধ উপাচার্য
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)  উপাচার্য ভবনে এখনও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রানা, চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অনেক শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত এখনো উপাচার্য ভবন থেকে বের হতে পারেননি তারা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১ টা থেকে অবরুদ্ধ থাকার পর রাত আটটায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যকে পদত্যাগপূর্বক উপাচার্য ভবন ত্যাগ করার আল্টিমেটাম প্রদান করলেও উপাচার্য এখন পর্যন্ত এরকম কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।  ভেতরে আটকে পড়া নতুন উপাচার্য জানান,তার কাছে শিক্ষার্থীদের কোনো লিখিত দাবি নেই তার কাছে। কোনো বক্তব্যও নেই। তারা যদি লিখিত আকারে দেয়, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসিকে অবহিত করতেন। এছাড়া জানা যায়, অবরুদ্ধ অবস্থায় গতকাল অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তার সাথে থাকা দুজন।  এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার সাথে চারজন এলামনাই সদস্য আছেন, একজন আমার বন্ধু, দুজন বড়ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রও আছে ৬-৭ জন। তারা আন্দোলন করুক, সমস্যা নাই। কিন্তু আমি দপ্তরে আসলাম নয়টায়, তাঁর দুই-তিন ঘন্টার মধ্যেই এভাবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস লাইন বন্ধ করে দেয়াটা অমানবিক। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, গত সোমবার সকাল নয়টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য। এ খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।  ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। গতকাল সোমবার তাঁরা অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ পরিস্থিতিতে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আরটিভি/এসআর
২১ ঘন্টা পেরিয়ে চুয়েটে ২য় দিনের মতো অবরুদ্ধ উপাচার্য
চুয়েটে দীর্ঘসময় অবরুদ্ধ উপাচার্য
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অবরুদ্ধ উপাচার্য ভবনের ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুইজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
চুয়েটে দীর্ঘসময় অবরুদ্ধ উপাচার্য
নজরুল কলেজে ‘শরৎ উৎসব ও নবীনবরণ’ অনুষ্ঠিত
উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শরৎ উৎসব ও নবীনবরণ-২০২৬’।
নজরুল কলেজে ‘শরৎ উৎসব ও নবীনবরণ’ অনুষ্ঠিত
চুয়েটে নতুন উপাচার্যকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের, না হলে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত নবনিযুক্ত উপাচার্যকে উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
চুয়েটে নতুন উপাচার্যকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের, না হলে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা
বুটেক্সে অনুষ্ঠিত হলো বিদেশে উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সেমিনার
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) বিজনেস ক্লাবের আয়োজনে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
বুটেক্সে অনুষ্ঠিত হলো বিদেশে উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সেমিনার
আরও পড়ুন
ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, মাসে মিলবে ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা
ভুয়া ফেসবুক পেজ বন্ধে মাউশির ৭ দিনের আলটিমেটাম
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মাউশির জরুরি নির্দেশনা
বিদেশে উচ্চশিক্ষার দিকনির্দেশনায় যবিপ্রবিতে দুই মাসব্যাপী সেমিনার