ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিন আইনি জটিলতায় আটকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক শূন্যপদ। বড় এই শূন্যপদ পূরণে অবশেষে সুখবর মিলেছে। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হতে পারে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। তালিকা প্রণয়নের পর তা যাচাই-বাছাই করা হবে। এ সময় কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সেগুলোও নিষ্পত্তি করা হবে। পরে সংশোধিত তালিকা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে।

পিএসসির অনুমোদন মিললে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। প্রায় তিন মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন

অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, মামলার জটিলতা ছিল। সেই মামলার জটিলতা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বাকি কাজ শিগগির শেষ হবে।

পদোন্নতি আটকা ছিল যে মামলায়

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা দীর্ঘদিনের। শূন্যপদ থাকলেও এসব পদে বড় পরিসরে পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছিল না। এর পেছনে ছিল জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে আইনি জটিলতা।

২০১৩ সালে সারা দেশে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর তাদের চাকরিকাল, জ্যেষ্ঠতা এবং পদোন্নতি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ সংক্রান্ত বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির বিধান চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হয়।

আরও পড়ুন

মামলার কারণে কারা জ্যেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কারা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও আটকে ছিল।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ২ জুলাই আপিল বিভাগ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে আগে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কারণে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার অবসান হয় এবং প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ খুলে যায়।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা 
এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে নতুন অধ্যায় হিসেবে এটি স্থান পাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম স্মৃতিকথা হিসেবে বহুল আলোচিত এই দলিলটিকে পাঠ্যভুক্ত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।
পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা 
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ আজ রাত ৮টায়
২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তি আবেদনের ফল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির গত ১৪ সেপ্টেম্বরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ আজ রাত ৮টায়
গাঁজাসহ দুই শিক্ষার্থী আটক, ইবির প্রক্টরিয়াল বডির ৪ সিদ্ধান্ত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গাঁজাসহ দুই শিক্ষার্থী আটকের ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে চারটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রক্টরিয়াল বডি।
গাঁজাসহ দুই শিক্ষার্থী আটক, ইবির প্রক্টরিয়াল বডির ৪ সিদ্ধান্ত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাতে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ হয়েছে। আজ রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে জগন্নাথ হলের সামনে দুটি এবং টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এতে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ
যবিপ্রবির ছাদে সোলার প্যানেল, মাসে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় 
দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ মেটানোর পাশাপাশি ছাদ ভাড়া থেকে প্রতি মাসে বাড়তি আয় হচ্ছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা।  একই সঙ্গে ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে অব্যবহৃত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোলার সিস্টেম। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আর্থিক সাশ্রয়ই নয়, এই সোলার সিস্টেম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক শিক্ষারও একটি জীবন্ত ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।  সিস্টেম থেকে পাওয়া রিয়েল টাইম তথ্য গবেষণা ও শিক্ষার কাজে ব্যবহার করছেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৩ সালের জুন থেকে যবিপ্রবির অধিকাংশ ভবনের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনের কাজ শুরু হয়।  সুপারস্টার রিনিউঅ্যাবল এনার্জি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান অপেক্স মডেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলোর প্রায় ৬৩ হাজার বর্গফুট ছাদজুড়ে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপন করেছে। যবিপ্রবির গবেষণাগার উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসিক বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ইউনিট। এর বিপরীতে বর্তমানে সোলার প্যানেল থেকে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। তিনি বলেন, সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়ে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ কম মূল্যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই বিদ্যুৎ কিনছে যবিপ্রবি। বাকি বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ থেকে। কম দামে বিদ্যুৎ কেনায় প্রতি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩ লাখ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এছাড়া ভবনগুলোর ছাদ প্রতি বর্গফুট ২ টাকা হিসেবে ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে আয় হচ্ছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ খরচের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাশ্রয় ও আয় দাঁড়াচ্ছে ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ শেষ হলে এই সাশ্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকে। এ দুই দিনসহ অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে ক্যাম্পাসে ব্যবহার না হওয়া বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মাসে ২৪ থেকে ২৬ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোলার সিস্টেম। এই পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। আর্থিক সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি এই প্রকল্প থেকে উপকৃত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী ইমরান খান বলেন, এই সোলার সিস্টেম শিক্ষার্থীদের জন্য হাতে-কলমে শেখার একটি বাস্তব ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।  এখান থেকে রিয়েল টাইম ডেটাও পাওয়া যাচ্ছে, যা গবেষণা ও শিক্ষার কাজে সহায়ক হচ্ছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে লোডশেডিং হলেও সোলার এনার্জি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বা গবেষণার কাজ কোনো কিছুই থেমে থাকছে না। যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এখনো কিছু ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ বাকি রয়েছে। এসব ভবনে কাজ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৪০ শতাংশ সোলার প্যানেল থেকে পাওয়া যাবে। তিনি জানান, যবিপ্রবির ঝিনাইদহ ক্যাম্পাসেও সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করা হবে। ফলে ওই ক্যাম্পাসে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পুরোপুরি বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রিট লাইটগুলোতেও সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উপাচার্য বলেন, বর্তমানে যে জ্বালানি সংকট চলছে, তাতে সোলার প্যানেল স্থাপনে সরকার সবাইকে উদ্বুদ্ধ করছে এবং সহযোগিতাও করতে চাচ্ছে। সরকার প্রণোদনা দিলে যবিপ্রবির চাহিদার ১০০ শতাংশ বিদ্যুৎ সোলার থেকে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। আরটিভি/এসআর  
যবিপ্রবির ছাদে সোলার প্যানেল, মাসে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় 
আরও পড়ুন
সার নিয়ে সুখবর, দেশে চাহিদার চেয়েও মজুত ১৬ লাখ টন বেশি
কিডনি রোগীদের জন্য বড় সুখবর
অবসর ভাতা না পাওয়া এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য সুখবর
কোম্পানি নিবন্ধন নিয়ে সুখবর দিল সরকার