
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শ্রেণিকক্ষ সংকট এবং লিফট সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস অডিটোরিয়াম ভবন অবরুদ্ধ করে আন্দোলন করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তোপের মুখে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য সহকারী অধ্যাপক বাদশা মিয়া এবং সহকারী প্রক্টর শাহীন কাদির ভূঁইয়া।
পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে আন্দোলন শুরু করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, আইন বিভাগের তিনটি ব্যাচের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র একটি। ফলে অন্য বিভাগের শ্রেণিকক্ষে গিয়ে ক্লাস করতে হয় তাদের। এতে বিভাগটির শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইলমা সালসাবিল নাফিসা লিফট বন্ধ থাকার কারণে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় পড়েন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। তার ওপর যে একটি শ্রেণিকক্ষ আছে, সেটিও অডিটোরিয়াম ভবনের চারতলায়। ভবনটির লিফট প্রায়ই বন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকে। এতে বার বার উঠা-নামা করতে সমস্যা হয়। ক্লাস করার জন্য সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এর আগেও আমাদের দুইজন সহপাঠী অসুস্থ হয়।

সাদিয়া আক্তার রিয়া নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আইন বিভাগের তিনটি ব্যাচ চলমান আছে। আগামী জানুয়ারিতে আরেকটি ব্যাচের ক্লাস শুরু হবে। কিন্তু আমাদের ক্লাসরুম মাত্র একটি। ফলে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন ভবনে বিভিন্ন বিভাগের ক্লাসরুম ঘুরে ঘুরে ক্লাস করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্লাসরুম খালি না থাকায়, আমাদের আবার ফেরত এসে অন্য একটা ভবনে যেতে হয়। আবার বিভিন্ন ভবনের লিফটও বন্ধ থাকে। আজকে আমাদের ব্যাচের দুইজন বন্ধু দুটি ভবনে বারবার আসা-যাওয়া করায় মাথা ঘুরে পড়ে যায়। তাই আমরা লিফট চালু করা এবং আইন বিভাগের শ্রেণিকক্ষ বরাদ্দের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে। জটিলতার কারণে নতুন একটি একাডেমিক ভবন হতে একটু দেরি হচ্ছে। এটি হয়ে গেলে সব সমস্যার সমাধান হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সমাধান করার।
তিনি আরও বলেন, মক ট্রায়ালের জন্য আইন বিভাগকে একটি শ্রেণিকক্ষ এই মাসের মধ্যে দেওয়া হবে। আর ডিসেম্বরের শেষে নতুন শ্রেণিকক্ষ দেওয়া হবে।




