
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মীর হাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানের আরটিভির এক সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছে। সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম মোস্তফা ও ২০২০-২১ বর্ষের ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিন রাফির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের সামনে মারামারির ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস সূত্রে এ তথ্য জানার পর, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে নাঈম মোস্তফাকে ফোন করলে তিনি মুঠোফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায়।
এ সময় নাঈম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আরটিভি নিউজের সংবাদদাতা মো. রিয়াদুল ইসলামকে সালাম হলের সামনে যেতে বলেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে সালাম হলের সামনে গেলে রিয়াদুলকে রাজনৈতিক সিনিয়রদের মাধ্যমে হেনস্তা করে অভিযুক্ত নাঈম মোস্তফা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এ সময় ওই সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয় শাকিল মোস্তফা (অর্থনীতি ২০১৮-১৯), আরমান মিহাম (শিক্ষা ২০১৮-১৯), নাঈম মোস্তফা (শিক্ষা ২০১৯-২০), আকরাম হোসাইন (এমআইএস ২০১৯-২০), জোভান আহমেদ নাঈম (শিক্ষা প্রশাসন, ২০১৮-১৯) প্রলেক্স বড়ুয়া (বাংলা, ২০১৮-১৯), হাসিব শান্ত ও মোহাম্মদ আদনান আলী। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং মারধর করে।
একপর্যায়ে নাঈম মোস্তফা ও শাকিল মোস্তফা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। পরে ঘটনাস্থলে কয়েকজন ক্যাম্পাস সাংবাদিক আসলে মোবাইল ফোন ফেরত দেন।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য ইকবাল হোসেন সুমন, শাহানা রহমান এবং সালাম হলের প্রভোস্ট ড. আনিসুজ্জামান রিমন ও সহকারী প্রভোস্ট রায়হান আহমেদ রিমন সমাধানের চেষ্টা করেন।
জানা যায়, হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত শাকিল মোস্তফা, আরমান মিহাম, নাঈম মোস্তফা, আকরাম হোসাইন, জোভান আহমেদ নাঈম, প্রলেক্স বড়ুয়া, হাসিব শান্ত ও মোহাম্মদ আদনান আলী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী এবং শীর্ষ পদপ্রার্থী জাহিদ হাসান শুভর অনুসারী। এর আগে সালাম হলে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনায়ও নাম আসে শাকিল মোস্তফা, আদনান আলী, প্রলেক্স বড়ুয়াসহ একই রাজনৈতিক গ্রুপের বেশ কয়েকজনের।
বিষয়টি জানতে চাইলে ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী জাহিদ হাসান শুভ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনও কিছু জানি না।
এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি জানান নোবিপ্রবির সাংবাদিকরা। এক যৌথ বিবৃতিতে নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আবদুল কবীর ফারহান ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দীন পাঠান এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ থেকে তাদের বহিষ্কার দিয়ে কলঙ্কমুক্ত করার দাবি জানান।
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, ছাত্রলীগ কর্মীর দ্বারা সাংবাদিক হেনস্তার এটি অত্যন্ত জঘন্য কাজ। আমরা ঘটনা তদন্ত করে শাস্তি প্রদান করব।




