ডিজিটাল যুগেও সনাতন পদ্ধতিতে চলছে কুবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি

কুবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ 

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ০৫:১১ পিএম


ডিজিটাল যুগেও সনাতন পদ্ধতিতে চলছে কুবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইব্রেরি সেবা যখন আরও আধুনিক ও স্মার্ট হয়ে উঠছে, তখনো সনাতন পদ্ধতিতেই আটকে আছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। কাগজের কার্ড ব্যবহার করে সেবা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, তেমনি তারা বঞ্চিত হচ্ছেন দ্রুত ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে। লাইব্রেরিটি আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইআরপি জটিলতায় তা আলোর মুখ দেখেনি।

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনা ও গবেষণার মূল কেন্দ্র হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। কিন্তু এই লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনায় এখনো ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, আধুনিক যুগের সাথে এই সনাতন লাইব্রেরি ব্যবস্থা মানানসই নয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়(খুবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়(জাবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সহ দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে স্মার্ট লাইব্রেরি কার্ড ও পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি এখনো সনাতনী পদ্ধতিতে কাগজের কার্ডেই চলছে। 

বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী অর্পিতা রায় চৌধুরী বলেন , 'স্মার্ট লাইব্রেরি কার্ড চালু হলে ব্যবহারকারীর তথ্য সংরক্ষণ, বই অনুসন্ধান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে।'

রসায়ন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা বলেন, 'লাইব্রেরি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র। এখানে আধুনিক ব্যবস্থাপনা না থাকাটা দুঃখজনক। কার্ড হারিয়ে গেলে নতুন কার্ড সংগ্রহ করাও ঝামেলার বিষয়। ডিজিটাল কার্ড ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীরা আরও দ্রুত ও কার্যকর সেবা পাবে।'

বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী রব্বানী হোসেন বলেন, 'দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মার্ট লাইব্রেরি কার্ড চালু রয়েছে। সেখানে কয়েক সেকেন্ডেই বই ইস্যু ও ফেরত দেওয়া যায়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও এমন ব্যবস্থা চালু এখন সময়ের দাবি।'

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান মহিউদ্দিন আলম বলেন, 'লাইব্রেরি কার্ড ডিজিটাল করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এ বিষয়ে আমি আগের উপাচার্য হায়দার আলী স্যারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছিলাম। তবে তিনি শুধু লাইব্রেরির জন্য আলাদা কার্ড না করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ইউনিক আইডি কার্ড চালুর কথা বলেন। পরে ইআরপি প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় সেই পরিকল্পনাও এগোয়নি।'

তিনি বলেন, 'বর্তমান উপাচার্য অনুমতি দিলে আগামী তিন মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্মার্ট লাইব্রেরি কার্ড দেওয়া এবং পুরো লাইব্রেরিকে অটোমেশনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।'

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, 'আমরা আগে ইআরপি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি। ২০ জুলাই যে প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছিল তারা তাদের প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করবে। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে অটোমেশন সিস্টেম চালু হলে শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে বই ইস্যু ও রিটার্ন করতে পারবেন। পাশাপাশি কোন বই লাইব্রেরিতে রয়েছে, সেটির অবস্থান কোথায়, বর্তমানে ইস্যুকৃত কি না এবং ইস্যু থাকলে কবে পুনরায় পাওয়া যাবে, এসব তথ্য সহজেই জানা সম্ভব হবে। এতে লাইব্রেরি সেবার গতি, স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission