ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে নির্মাণশ্রমিকদের প্রাণহানি, উদাসীন কর্তৃপক্ষ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে নির্মাণশ্রমিকদের প্রাণহানি। ছবি: আরটিভি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে কাজ করতে গিয়ে কয়েক বছরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত তিন নির্মাণশ্রমিক। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। প্রতিটি ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সেই তদন্তের ফলাফল কিংবা সুপারিশ বাস্তবায়নের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে নির্মাণকাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ১০ তলা ইউটিলিটি ভবন-৪ এ কাজ করার সময় নিচে পড়ে মারা যান চাঁদপুরের বাসিন্দা রাসেল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে গত বছরের ২২ মার্চ নির্মাণাধীন আরেকটি ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে প্রাণ হারান রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম। সহকর্মীদের অভিযোগ ছিল, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া তাদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছিল।

আরও পড়ুন

এছাড়াও ২০১৯ সালের ১৫ মে বিদ্রোহী হলের নির্মাণকাজ চলাকালে অষ্টম তলা থেকে পড়ে মারা যান ২০ বছর বয়সী শ্রমিক হাসান। ওই ঘটনাতেও তদন্ত কমিটি হয়েছিল, কিন্তু তার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

প্রাণহানির পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই নির্মাণাধীন একটি ছাত্র হলের বারান্দার ছাদ ধসে অন্তত ১০ শ্রমিক আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, দুর্বল সাপোর্ট ব্যবহারের কারণেই ছাদ ধসে পড়ে। সেই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনও আর প্রকাশ্যে আসেনি।

সম্প্রতি নির্মাণাধীন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক শ্রমিককে কয়েকশ ফুট উঁচুতে সেফটি বেল্ট ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে। কারও মাথায় হেলমেট নেই, অনেকের পায়ে নেই সেফটি বুট। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান তদারকিও দেখা যায়নি।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও শ্রম আইন অনুযায়ী, নির্মাণশ্রমিকদের হেলমেট, সেফটি বুট, গ্লাভস, গগলস ও সেফটি বেল্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে দুই মিটারের বেশি উচ্চতায় কাজের সময় নিরাপত্তা বেল্ট ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ মাচা, সুরক্ষা জাল ও নিরাপত্তা রেলিং রাখারও বিধান আছে।

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি ভিন্ন। এনএস এন্টারপ্রাইজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার ওয়াশিম বলেন, শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। ভবনের ভেতরের শেষ পর্যায়ের কাজে অনেকে নিজেরাই সেফটি বেল্ট ব্যবহার করেন না।

ইউটিলিটি ভবন-৪–এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান খান অ্যান্ড সন্স বিডি লিমিটেডের প্রকৌশলী জসিম বলেন, নিহত শ্রমিককে সেফটি বেল্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেটি ব্যবহার করেননি। এ তথ্য তারা তার সহকারী শ্রমিকের কাছ থেকে জেনেছেন। তবে সেই সহকারী শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম বলেন, প্রকৌশলীরা নিয়মিত কাজ তদারকি করেন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা বিধি মানতে বলা হয়েছে। তার দাবি, অনেক সময় শ্রমিকরাই নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে আগ্রহী হন না।

পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, তদন্তে অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রচলিত বীমা ব্যবস্থায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, তা যথেষ্ট নয়। নিহত শ্রমিকের পরিবারের দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে।

একের পর এক দুর্ঘটনা, তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃশ্যমান ঘাটতি—সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান নির্মাণকাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পশু জবাই নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার আহ্বানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের অধিকার সবার রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের এক বক্তব্যে প্রশাসনের এ অবস্থান জানানো হয়। বক্তব্যে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর রাতে ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই বিষয়টির সমাধান করা হয়। পরদিন পারস্পরিক আলোচনা ও বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি আরও সন্তোষজনকভাবে সমাধান করা হয়। এদিকে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। প্রশাসনের বক্তব্যে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি বা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে সবাইকে এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান প্রক্টর। তবে তাঁর এ আহ্বানকে কেন্দ্র করে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে একটি উদ্‌যাপন যেন অন্য কোনো উদ্‌যাপনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ক্যাম্পাসে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আরটিভি/টিআর
পশু জবাই নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের
গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ, চলছে গরুভোজের প্রস্তুতি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে প্রথমে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে গরুভোজের কর্মসূচি দিলেও পরে তা এগিয়ে আগামীকাল করার ঘোষণা করেছেন তারা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।  বিক্ষোভকারীদের ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন রুখে দাও’, ‘তোমার আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ এবং ‘বিজেপির দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এদিকে, প্রশাসনের নির্দেশনার প্রতিবাদে প্রথমে শুক্রবার হলেও পরে একদিন এগিয়ে বৃহস্পতিবার গরুভোজ কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এ জন্য ইতিমধ্যে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনপ্রতি ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে রান্নার সময় মন্দিরের ইট ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।  তবে আয়োজকদের দাবি, ইটগুলো মন্দিরের বলে জানার পর তাঁরা সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ করেন এবং রান্নার স্থান পরিবর্তন করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।  বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। আরটিভি/এসআর    
গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ, চলছে গরুভোজের প্রস্তুতি
খুবিতে রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ বিজ্ঞান শিক্ষক
গবেষণা ক্ষেত্রে অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ পেলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত ৭টি ডিসিপ্লিনের ৭ জন শিক্ষক। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণাকর্মের মূল্যায়নের ভিত্তিতে জীব বিজ্ঞান স্কুলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলো।
খুবিতে রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ বিজ্ঞান শিক্ষক
চীন সফরে চবির ভিসি ও দুই প্রোভিসি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান ও দুই উপ-উপাচার্যসহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চীন সফরে গেছেন।
চীন সফরে চবির ভিসি ও দুই প্রোভিসি
খুবিতে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও এআইয়ের নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ফেলোশিপের সমাপনী
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের ১৫ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও সংবাদকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ছয় মাসের ফেলোশিপ সম্পন্ন হয়েছে।  দৃক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট জার্নালিজম অ্যান্ড এথিক্যাল এআই ইন নিউজরুম ফেলোশিপ-২০২৬’-এর সমাপনী ও প্রকল্প প্রদর্শনী বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, পদ্মার এপারে বিশাল জনবসতি থাকলেও এ অঞ্চল বরাবরই অবহেলিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে এবং মিঠাপানির প্রবাহও কমে গেছে। খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান উপাচার্য। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে সাংবাদিকতা শেখার সুযোগ তৈরি করায় দৃক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনুর রশীদ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং পেশা। এ পেশার মাধ্যমে মানুষের জীবনের নানা গল্প উঠে আসে। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে সাংবাদিকতা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই এআইয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেশাগত নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। দৃকের প্রতিষ্ঠাতা, আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আজকের খুলনা আগের তুলনায় ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। ফেলোরা সাংবাদিকতার প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে মানুষের গল্প তুলে ধরেছেন। তাঁদের কাজে মানুষের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা একটি ভিন্ন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। সেই বাংলাদেশ গড়তে সৎ ও সাহসী সাংবাদিক প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের মনের বিকল্প হতে পারে না এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের প্রধান মো. মাজিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসেন। ফেলোদের পক্ষে বক্তব্য দেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নওরিন হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক সারা মনামী হোসেন। অনুষ্ঠানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের পক্ষ থেকে দৃকের প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলমকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলা চত্বরে পরিবেশ ও জলবায়ু সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ফেলো এবং দৃক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
খুবিতে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও এআইয়ের নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ফেলোশিপের সমাপনী
আরও পড়ুন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হুদা
স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ ও আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব পেল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
২১ শিক্ষককে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সম্মাননা প্রদান
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সিন্ডিকেট সদস্য ড. আখতার হোসেন খান