ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: ট্রমা কাটেনি, নিঃস্ব অনেক পরিবার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৬ জনের প্রাণহানির ঘটনার এক বছর পূর্ণ হচ্ছে মঙ্গলবার (২১ জুলাই)। বিভীষিকাময় ওই দিনের ভয়ংকর স্মৃতি এখনো তাড়া করে ফেরে বেঁচে যাওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে। আকাশে বিমানের শব্দ বা আগুন দেখলেও আঁতকে উঠছে তারা।

যা ঘটেছিল সেদিন
২০২৫ সালের ২১ জুলাই, দিনটি ছিল সোমবার। দুপুরে সোয়া ১টা নাগাদ স্কুলের হায়দার আলী ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই মডেলের যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তেই এক মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা হয় সেখানে।

দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে পুড়ে যায় ছোট শিশুদের কোমল শরীর। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়। আহত হয় শতাধিক। হতাহতদের অধিকাংশই শিশু। সেদিন প্রাণ হারান পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামও।

শোক কাটেনি, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে সন্তান হারানো পরিবারগুলো এক বছরেও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। শোকের সঙ্গে ক্ষোভও আছে তাদের। বিশেষ করে দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আলোর মুখ না দেখায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদের বাবা রুবেল মিয়া বলেন, সকালবেলা যে সন্তানকে নিজের হাতে স্কুলে দিয়ে এসেছিলাম, দুপুরে তাকে ফিরে পেয়েছি লাশ হিসেবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে। আগে দুই ছেলেকে প্রতিদিন সকালে স্কুলে নিয়ে আসতাম। এখন শুধু ছোট ছেলেকে নিয়ে আসি। স্কুলে যখন আসি, শত শত ছাত্রছাত্রীর মাঝে আমি আমার তানভীরকে খুঁজে বেড়াই, কিন্তু কোথাও পাই না। শুধু ওর শেষদিনের হাসিমুখ আর স্মৃতিগুলো বুকে ধাক্কা দেয়। আজকে একটা বছর পার হয়ে গেছে, বড় ছেলের সেই হাসি আমার চোখে এখনো ভাসে।’

দুর্ঘটনায় নিহত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহতাব রহমানের বাবা মিনহাজ রহমান বলেন, ‘ছেলেটার পড়ার টেবিলটা এক বছর ধরে একইভাবে পড়ে আছে। বই সরেনি, খাতা সরেনি। প্রতিদিন ওর মা বইগুলো মুছে দেয়, গুছিয়ে রাখে। মাহতাবকে ছাড়া আমরা কেউ ভালো নেই। আমাদের বাসাটা আগে প্রাণবন্ত ছিল, হাসি-খুশি ছিল। এখন এ বাসা কবরস্থানের মতো।’

নিহত তাসনিম আফরোজ আয়মানের মা আয়েশা আক্তার বলেন, ‘সরকার ২০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিল। আমরা এক টাকাও ছুঁই নাই। টাকা দিয়ে আমি কী করবো? সারা দুনিয়া এনে দিলেও কি আমার আয়মান ফিরে আসবে? আমি তো বলেছিলাম, আমি উল্টো টাকা দিই, আমার আয়মানকে এক সেকেন্ডের জন্য আমার বুকে এনে জড়িয়ে ধরতে দেন।’

‘সরকারের কাছে আমার আর কোনো চাওয়া নেই, শুধু একটাই চাওয়া- স্কুলটা এখান থেকে সরিয়ে ফেলা হোক। এখনো স্কুলের ওপর দিয়ে বিমান যায়। রানওয়ে আগে হইছে, স্কুল পরে। এটা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। আমার আয়মান তো চলে গেছে, কিন্তু ওর মত শত শত আয়মান এখনো ওই স্কুলে পড়ে। আমি চাই না আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি হোক,’ যোগ করেন তিনি।

উড্ডয়ন বন্ধ হয়নি, বিমান উড়লেই বাড়ে আতঙ্ক
এদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় বিমান উড্ডয়ন চালু রাখা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে অভিভাবক ও স্বজনদের। তাদের অভিযোগ, এতবড় দুর্ঘটনার পরও এ এলাকায় বিমান উড্ডয়ন বন্ধ হয়নি।

তানভীরের বাবা রুবেল মিয়ার ভাষ্য, ‘প্রশিক্ষণ বিমান এখনো ওদের শিডিউল অনুযায়ী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এখন আগের থেকে বেশি বিমান প্রশিক্ষণের মহড়া হচ্ছে। আমরা তো সবসময় আতঙ্কে থাকি, সবসময় ভয়ে থাকি, না জানি আবার একটা ঘটনা ঘটে যায়।’

যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, দুর্ঘটনার পর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কার ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কাজও এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রস্তুত রাখতে নিয়মিত মহড়া আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এদিকে ট্রাজেডির এক বছর উপলক্ষে দুইদিনের কর্মসূচি দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে রয়েছে স্মরণ অনুষ্ঠান, দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি ও নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত।

এদিকে, কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলটি মঙ্গলবার সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম খান। তিনি জানান, দুর্ঘটনাস্থলে স্কাউট ও রোভার সদস্যরা গার্ড অব অনার দেবেন। নিহত ব্যক্তিদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে এবং পরে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া স্মৃতিচারণার আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি নিহত ব্যক্তিদের ছবি, বন্ধুদের লেখা স্মৃতিকথা ও বিভিন্ন বার্তা প্রদর্শন করা হবে। এ আয়োজনে অভিভাবকরাও উপস্থিত থাকবেন।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হলে ওঠার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় ঢাকা কলেজের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থীর
দুচোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে রাজধানীতে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের এক আবেগ এবং আশার প্রদীপ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ।
হলে ওঠার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় ঢাকা কলেজের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থীর
চুয়েটে টানা ৩ দিন শাটডাউন, স্থগিত ৬ বিভাগের পরীক্ষা 
সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শাটডাউন কর্মসূচি চলছে।
চুয়েটে টানা ৩ দিন শাটডাউন, স্থগিত ৬ বিভাগের পরীক্ষা 
গুরুতর আহত রুয়েটের রাফিদ, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হলো ঢাকায়
রাজশাহীর বিনোদপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থী রাফিদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠিয়েছে রুয়েট প্রশাসন। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
গুরুতর আহত রুয়েটের রাফিদ, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হলো ঢাকায়
রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর সমাবর্তন ঘোষণার হিড়িক, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে
বিভাগের সাইনবোর্ড, ক্লাসরুম, শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীদের মধ্যে মান অভিমান, নানা রাগ, দ্বন্দ্ব, আনন্দ, হাসি তামাশা এমনকি ৪/৫ বছরের জমানো ক্লান্তির ইতি টেনে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নেয়। শেষ সময়ের স্মৃতিকে সম্মিলিতভাবে স্বযত্নে ধরে রাখতে চাইলেও কর্তৃপক্ষ হাতে ধরিয়ে দেয় পরবর্তী চালিকাশক্তি হিসেবে সাময়িক সার্টিফিকেট (প্রোভিশনাল সার্টিফিকেট)। স্বাভাবিকভাবে একাডেমিক মূল সনদপত্র বিতরণ সমাবর্তনে করা হয়। সেই সমাবর্তনের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় প্রাক্তনদের। ৩ বছর থেকে শুরু করে ২০ বছরও অপেক্ষায় থাকার নজির রয়েছে। এতক্ষণে কেউ চাকরিজীবী, কেউ বুদ্ধিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ বা প্রবাসী বনে যায়। স্বাভাবিক রেওয়াজে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির হাত থেকে মূল সনদ গ্রহণ করেন বিদায়ী শিক্ষার্থীরা। শুধু সার্টিফিকেট নয়; বরং কালো ‘গাউন আর টুপি’ পরিধানের বাসনা শিক্ষার্থীদের মনে আরও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের পর সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়টি নতুন করে আবারও আলোচনায় এসেছে। ২১ আগস্ট তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও সময়সূচির সঙ্গে সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়টি সরাসরি যুক্ত থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাবর্তন নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান প্রত্যাশা। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সৌজন্যে সাক্ষাতে সমাবর্তনের প্রসঙ্গও ওঠে এসেছে। আগামী বছরের শুরুতে একযোগে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন। একদিকে আর্থিক চ্যালেঞ্জ অন্যদিকে ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। কোন বিশ্ববিদ্যালয় কবে সমাবর্তন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। ১৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে এক সাক্ষাতকারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম সমাবর্তন আয়োজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি আগামী ১৮ জানুয়ারি সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।  এ সময় সুন্দরবন, উপকূল, লবণাক্ততা, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উৎকর্ষতার বিষয়টি তুলে ধরেন উপাচার্য। একই সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, শ্রেণিকক্ষের অপ্রতুলতা এবং মাঠ গবেষণাগারের সীমাবদ্ধতার কথাও উপস্থাপন করেন তিনি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ ৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তন। রাষ্ট্রপতির সম্মতি নিয়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির ১, ২ ও ৩ তারিখে মধ্যে সুবিধাজনক কোনো একদিন সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে এক সাক্ষাতকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর (আচার্য) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।  এদিকে ৫ম সমাবর্তন আয়োজন উপলক্ষে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিতে সভাপতি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান এবং সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান রয়েছেন। জনসংযোগ দপ্তর বলছে, সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সর্বশেষ অর্থাৎ চতুর্থ সমাবর্তন ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি প্রদান ও একাডেমিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে একটি সফল ও স্মরণীয় সমাবর্তন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করবে কমিটি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সৌজন্যে সাক্ষাৎ হয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতি সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য। সম্ভাব্য আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে সাক্ষাতকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান বাড়াতে শিক্ষক নিয়োগসহ সব ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে আগামী বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় জাবির ৭ম সমাবর্তনে যোগ দেওয়ার সম্মতি দিয়েছেন তিনি। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে সম্মত হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর আমন্ত্রণে তিনি এ সম্মতি জানান। ৩১ আগস্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সাক্ষাৎকালে উপাচার্য নোবিপ্রবির শিক্ষা, গবেষণা ও সামগ্রিক অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এসময় দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিকাশে নোবিপ্রবির অবদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিতব্য নোবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জানান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। ২৩ আগস্ট গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে জবির ২য় সমাবর্তন উপলক্ষ্যে একটি খসড়া তারিখ করা হয়েছে। ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হয় এবং ভেন্যু হিসেবে জবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ (ধূপখোলা মাঠ) প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী  বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।সাক্ষাৎকালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম, সার্বিক উন্নয়ন, গবেষণার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছে। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সমাবর্তন আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম আবদুর রাজ্জাক। সম্প্রতি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে রুয়েটের উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গেছে। সাক্ষাৎকালে রুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সামগ্রিক একাডেমিক অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে আগামী বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে সমাবর্তন আয়োজনের সম্মতি পাওয়া গেলেও চূড়ান্ত তারিখ পাওয়া যায়নি। পরে রাষ্ট্রপতির সময়সূচি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আগামী বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। সমাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ, নতুন বিভাগ চালু, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পাবিপ্রবি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ২২ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীমের সাক্ষাতে পাবিপ্রবির প্রথম সমাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনার ভিত্তিতে আগামী বছরের ১৫ অথবা ১৬ মার্চ  সমাবর্তন আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে। গণমাধ্যমে দেওয়া তথ্য মতে, সমাবর্তন উপলক্ষে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে। দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে এবং রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদান করেছেন। এর আগে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৫ বছর পর ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারিতে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। আরটিভি/এসএস
রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর সমাবর্তন ঘোষণার হিড়িক, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে
মাভাবিপ্রবিতে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ওয়েবসাইটে ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি বিভাগের এমএ কোর্সে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ শিক্ষাবর্ষে MA in English Literature এবং MA in English Language Teaching (ELT)—দুইটি কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
মাভাবিপ্রবিতে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
আরও পড়ুন
ডেঙ্গুতে মারা গেছেন মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষিকা ঐশী 
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর, নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল
১২ কোটি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিয়েছি বলে ভাইরাল সেই ছাত্রী মাইলস্টোনের কেউ নন
মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ড. ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন