ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

অধ্যাপক সংকটে পাবিপ্রবি, ৮ বিভাগে নেই একজনও

‎পাবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
ছবি: আরটিভি

প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) আটটি বিভাগে এখনো কোনো অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদের অধীন ২১টি বিভাগের মধ্যে মাত্র ১৩টিতে রয়েছেন ৩৫ জন অধ্যাপক। অভিজ্ঞ শিক্ষকের এই সংকটে শিক্ষা, গবেষণা ও থিসিস তদারকিসহ উচ্চশিক্ষাভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ২১৩ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে সর্বোচ্চ সাতজন এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ছয়জন অধ্যাপক আছেন। এ ছাড়া গণিত, ইইসিই ও আইসিই বিভাগে তিনজন করে; ইইই, ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলা, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও পরিসংখ্যান বিভাগে দুজন করে এবং সিএসই, অর্থনীতি ও ইতিহাস বিভাগে মাত্র একজন করে অধ্যাপক রয়েছেন।

image

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, থিসিস ও গবেষণার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় একাডেমিক দিকনির্দেশনা সবসময় পাওয়া যায় না। উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, গবেষণাপত্র প্রকাশ কিংবা গবেষণাসংক্রান্ত পরামর্শের জন্য অনেক সময় অন্য বিভাগের শিক্ষকদের সহযোগিতা নিতে হয়। শুধু অধ্যাপকের সংকটই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে সামগ্রিক শিক্ষকসংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠার এতদিন পরও অধ্যাপক পায়নি ফার্মেসি, স্থাপত্য, রসায়ন, সমাজকর্ম, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, ইংরেজি, লোকপ্রশাসন এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অভিজ্ঞ একাডেমিক নেতৃত্বের অভাবে থিসিস ও গবেষণার ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

অধ্যাপক সংকটের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটও প্রকট। সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ২১৩ জন। এর মধ্যে ৫৫ জনই বর্তমানে শিক্ষাছুটিতে আছেন। মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও পাবিপ্রবিতে ৩৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক।

এ ছাড়া শিক্ষাছুটিতে থাকা শিক্ষকদের মধ্যে ১৭ জনের ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তারা কর্মস্থলে ফেরেননি। চারজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম জানান, ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা কর্মস্থলে যোগ দেননি, তাদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক পাওনা আদায়ের পাশাপাশি পরবর্তী রিজেন্ট বোর্ড সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থীর কবি নজরুল কলেজে নেই একটিও ডাস্টবিন
রাজধানীর প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবি নজরুল সরকারি কলেজে প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। অথচ পুরো ক্যাম্পাসে নেই বর্জ্য ফেলার কোনো নির্ধারিত স্থান বা ডাস্টবিন।
প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থীর কবি নজরুল কলেজে নেই একটিও ডাস্টবিন
চুয়েটে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে খাবার দিলেন আন্দোলনকারীরা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবন-২ এ প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমসহ ১১ জন।  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য সকালের নাস্তা পৌঁছে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দেওয়া আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও উপাচার্য ভবন না ছাড়ায় গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের ভেতরের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।  একই সঙ্গে ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এ সময় তারা ‘তালা, তালা, তালা হবে, ভিসি ভবন তালা হবে’ এবং ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ বিষয়ে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খাঁন বলেন, নবনিযুক্ত উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকবেন। গতকাল তাকে বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরও তিনি স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ থেকেছেন। আমরা অবরুদ্ধ সবাইকে সকালের খাবার পৌঁছে দিয়েছি। এর আগে, গতকাল সোমবার সকালে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। পরে দুপুর ১২টার দিকে তাকে ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়ায় তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা। আরটিভি/এসআর
চুয়েটে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে খাবার দিলেন আন্দোলনকারীরা
প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি, কী করবে সেটা তাদের ব্যাপার: অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য
দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড.শেখ শরীফুল ইসলাম। তবে প্রশাসন কীভাবে তাকে সহায়তা করবে, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যকে পদত্যাগপূর্বক সম্মানের সাথে বের হয়ে যাওয়ার আল্টিমেটামের ঘোষণা প্রদান করলেও এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি চুয়েট উপাচার্য। গণমাধ্যমকর্মীরা এবিষয়ে আজ সকালে উপাচার্যের সাথে সরাসরি কথা বলতে চাইলেও তিনি রাজি হননি। নিজ কক্ষের সামনে থেকে তিনি বলেন, আমরা এখানে খুবই অমানবিক অবস্থায় আছি। এ অবস্থায় আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি।তারা কীভাবে সহযোগিতা করবে এটা তাদের ব্যাপার। প্রসঙ্গত, গত সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে নতুন উপাচার্য। বিকেলে হাটহাজারী এলাকায় স্থানীয় ছাত্রদল কর্তৃক চুয়েটগামী বাসের উপর হামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের এই আল্টিমেটাম আন্দোলন আরও তীব্র হয়। আরটিভি/এসআর
প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি, কী করবে সেটা তাদের ব্যাপার: অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য
২১ ঘন্টা পেরিয়ে চুয়েটে ২য় দিনের মতো অবরুদ্ধ উপাচার্য
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)  উপাচার্য ভবনে এখনও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রানা, চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অনেক শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত এখনো উপাচার্য ভবন থেকে বের হতে পারেননি তারা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১ টা থেকে অবরুদ্ধ থাকার পর রাত আটটায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যকে পদত্যাগপূর্বক উপাচার্য ভবন ত্যাগ করার আল্টিমেটাম প্রদান করলেও উপাচার্য এখন পর্যন্ত এরকম কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।  ভেতরে আটকে পড়া নতুন উপাচার্য জানান,তার কাছে শিক্ষার্থীদের কোনো লিখিত দাবি নেই তার কাছে। কোনো বক্তব্যও নেই। তারা যদি লিখিত আকারে দেয়, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসিকে অবহিত করতেন। এছাড়া জানা যায়, অবরুদ্ধ অবস্থায় গতকাল অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তার সাথে থাকা দুজন।  এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার সাথে চারজন এলামনাই সদস্য আছেন, একজন আমার বন্ধু, দুজন বড়ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রও আছে ৬-৭ জন। তারা আন্দোলন করুক, সমস্যা নাই। কিন্তু আমি দপ্তরে আসলাম নয়টায়, তাঁর দুই-তিন ঘন্টার মধ্যেই এভাবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস লাইন বন্ধ করে দেয়াটা অমানবিক। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, গত সোমবার সকাল নয়টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য। এ খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।  ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। গতকাল সোমবার তাঁরা অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ পরিস্থিতিতে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আরটিভি/এসআর
২১ ঘন্টা পেরিয়ে চুয়েটে ২য় দিনের মতো অবরুদ্ধ উপাচার্য
চুয়েটে দীর্ঘসময় অবরুদ্ধ উপাচার্য
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অবরুদ্ধ উপাচার্য ভবনের ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুইজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
চুয়েটে দীর্ঘসময় অবরুদ্ধ উপাচার্য
আরও পড়ুন
মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: রাষ্ট্রপতি
হল কার্ড ছাড়াই শিক্ষাজীবন শেষ, পাবিপ্রবির দুই হলে এখনও মেলেনি পরিচয়পত্র
কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পাবিপ্রবিতে ‘ক্যারিয়ার হাব’, ব্র্যাকের সঙ্গে সমঝোতা
কেমব্রিজ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের পর বরখাস্ত গবেষক