ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ইবিতে নিয়োগ বিতর্ক, তদন্তের ‘সীমাবদ্ধতা’ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সৌজন্য

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইসিটি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তথ্য যাচাই-বাছাই করার লক্ষ্যে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সমাধানের লক্ষে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কার্যপরিধির সীমাবদ্ধতা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়োগ প্রার্থীর শুধু ফলাফলের হেরফের কিনা যাছাই করার নির্দেশনা পেয়েছেন বলে জানান কমিটির আহ্বায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রোকসানা বেগম মিলি।

এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো অধিকাংশই প্রশাসন কৌশলে তদন্তের বাইরে রেখেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। একাধিক প্রার্থী জানান, “আমরা এখনও তদন্ত কমিটির ওপর আস্থা রাখছি। শুধু ফলাফল যাচাই-বাছাই করার নির্দেশনা মূলত হাত পা বেঁধে দেওয়ার মতো।”

এর আগে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফিরোজা নাজনীনের নিয়োগকে ঘিরে গণমাধ্যমে একের পর এক অভিযোগ এসেছে গত কয়েক সপ্তাহে। বিভাগীয় কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়া, নিয়োগ বোর্ডের ঠিক আগের দিন প্রার্থীর স্বামীর বোর্ড-বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী ফারহানের সঙ্গে সাক্ষাৎ, এবং পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে থাকাকালীন একাডেমিক অনিয়মের মাধ্যমে স্ত্রীর ফল বাড়িয়ে দেওয়া–ইত্যাদি অসংগতি ওঠে আসে। তথ্য সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভাগীয় সভাপতির গড়িমসি, এক সাংবাদিককে বিকাশে টাকা পাঠিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং কটাক্ষের অভিযোগও উঠে আসে গণমাধ্যমে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বর্ষে অকৃতকার্য হওয়া ফিরোজা নাজনীন রিটেক পরীক্ষা দিয়ে ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে ৩.৩৮ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক শুরু করেন। কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে তাঁর স্বামী ড. জাহিদুল বসার পরই ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। তৃতীয় বর্ষে একটি মানোন্নয়নসহ সিজিপিএ দাঁড়ায় ৩.৬৪-এ, চতুর্থ বর্ষে তা বেড়ে হয় ৩.৮৪, আর মাস্টার্সেও তিনি পান ৩.৬৪। একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া তুলনামূলক ভালো ফলধারী কয়েকজন প্রার্থী বাদ পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

গত ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় ফিরোজা নাজনীনের নিয়োগের সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছিল। এরপর গণমাধ্যমে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসলে ব্যাপক সমালোচনার স্বীকার হয়ে নিয়োগপত্র স্থগিত করে প্রশাসন। সিন্ডিকেট সভায় সদস্যদের আপত্তির মুখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

অভিযোগের মুখে গত ২১ জুলাই তিন সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলিকে, সদস্যসচিব একাডেমিক শাখার কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, আর সদস্য পদে রাখা হয় থিওলজি অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. সেকান্দার আলীকে।

তবে কমিটি গঠনের অফিস আদেশ ঘেঁটে দেখা যায়, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হকের স্বাক্ষরিত সেই আদেশে শুধু ফিরোজা নাজনীনের বিএসসি ও এমএসসির একাডেমিক ফলাফল যাচাইয়ের নির্দেশনাই দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ বোর্ডের আগে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সাক্ষাৎ কিংবা পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে থেকে ফল বৃদ্ধির মতো স্পর্শকাতর অভিযোগগুলো তদন্তের পরিধিতেই রাখা হয়নি। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে ক্যাম্পাসে।

বিষয়টি নিয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি বলেন, “আমাকে যে চিঠি ইস্যু করেছে ওখানে শুধু প্রার্থীর একাডেমিক ফলাফল পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসন নির্দিষ্ট একটি বিষয়েই সীমাবদ্ধ রাখতে বলেছে। তাই চাইলেও অন্য অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার সুযোগ নেই আমার হাতে। দ্রুত রিপোর্ট জমা দিব।”

এ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত মূল অভিযোগগুলোই যদি তদন্তের বাইরে থেকে যায়, তাহলে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে কি না–সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পশু জবাই নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার আহ্বানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের অধিকার সবার রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের এক বক্তব্যে প্রশাসনের এ অবস্থান জানানো হয়। বক্তব্যে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর রাতে ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই বিষয়টির সমাধান করা হয়। পরদিন পারস্পরিক আলোচনা ও বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি আরও সন্তোষজনকভাবে সমাধান করা হয়। এদিকে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। প্রশাসনের বক্তব্যে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি বা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে সবাইকে এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান প্রক্টর। তবে তাঁর এ আহ্বানকে কেন্দ্র করে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের অধিকার সবার রয়েছে। তবে একটি উদ্‌যাপন যেন অন্য কোনো উদ্‌যাপনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ক্যাম্পাসে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আরটিভি/টিআর
পশু জবাই নিয়ে নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের
গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ, চলছে গরুভোজের প্রস্তুতি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে প্রথমে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে গরুভোজের কর্মসূচি দিলেও পরে তা এগিয়ে আগামীকাল করার ঘোষণা করেছেন তারা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।  বিক্ষোভকারীদের ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন রুখে দাও’, ‘তোমার আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ এবং ‘বিজেপির দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এদিকে, প্রশাসনের নির্দেশনার প্রতিবাদে প্রথমে শুক্রবার হলেও পরে একদিন এগিয়ে বৃহস্পতিবার গরুভোজ কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এ জন্য ইতিমধ্যে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নিতে জনপ্রতি ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে রান্নার সময় মন্দিরের ইট ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।  তবে আয়োজকদের দাবি, ইটগুলো মন্দিরের বলে জানার পর তাঁরা সেগুলোর ব্যবহার বন্ধ করেন এবং রান্নার স্থান পরিবর্তন করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।  বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। আরটিভি/এসআর    
গরু জবাই নিষিদ্ধের প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ, চলছে গরুভোজের প্রস্তুতি
খুবিতে রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ বিজ্ঞান শিক্ষক
গবেষণা ক্ষেত্রে অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ পেলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত ৭টি ডিসিপ্লিনের ৭ জন শিক্ষক। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গবেষণাকর্মের মূল্যায়নের ভিত্তিতে জীব বিজ্ঞান স্কুলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলো।
খুবিতে রিসার্চ অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৭ বিজ্ঞান শিক্ষক
চীন সফরে চবির ভিসি ও দুই প্রোভিসি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান ও দুই উপ-উপাচার্যসহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চীন সফরে গেছেন।
চীন সফরে চবির ভিসি ও দুই প্রোভিসি
খুবিতে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও এআইয়ের নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ফেলোশিপের সমাপনী
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের ১৫ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও সংবাদকক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ছয় মাসের ফেলোশিপ সম্পন্ন হয়েছে।  দৃক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট জার্নালিজম অ্যান্ড এথিক্যাল এআই ইন নিউজরুম ফেলোশিপ-২০২৬’-এর সমাপনী ও প্রকল্প প্রদর্শনী বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, পদ্মার এপারে বিশাল জনবসতি থাকলেও এ অঞ্চল বরাবরই অবহেলিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে এবং মিঠাপানির প্রবাহও কমে গেছে। খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে সাংবাদিকদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান উপাচার্য। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে সাংবাদিকতা শেখার সুযোগ তৈরি করায় দৃক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানান তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনুর রশীদ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং পেশা। এ পেশার মাধ্যমে মানুষের জীবনের নানা গল্প উঠে আসে। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে সংবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে সাংবাদিকতা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই এআইয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেশাগত নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। দৃকের প্রতিষ্ঠাতা, আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আজকের খুলনা আগের তুলনায় ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। ফেলোরা সাংবাদিকতার প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে মানুষের গল্প তুলে ধরেছেন। তাঁদের কাজে মানুষের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা একটি ভিন্ন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। সেই বাংলাদেশ গড়তে সৎ ও সাহসী সাংবাদিক প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের মনের বিকল্প হতে পারে না এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের প্রধান মো. মাজিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসেন। ফেলোদের পক্ষে বক্তব্য দেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নওরিন হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক সারা মনামী হোসেন। অনুষ্ঠানে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের পক্ষ থেকে দৃকের প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলমকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলা চত্বরে পরিবেশ ও জলবায়ু সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ফেলো এবং দৃক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/এসআর  
খুবিতে জলবায়ু সাংবাদিকতা ও এআইয়ের নৈতিক ব্যবহারবিষয়ক ফেলোশিপের সমাপনী
আরও পড়ুন
ইবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত
ইবিতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
ইবির আজিজুর হলের প্রভোস্ট ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি নিয়োগ 
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিবাদ