
সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় হাতিশুঁড় ও কলাই ঘাস দিয়ে মাটির লবণাক্ততা দূরীকরণ এবং বাঁশের তৈরি উলম্ব কাঠামোয় ফসল চাষের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে 'জেনারেশন আনলিমিটেড' (Generation Unlimited)-এর ‘ইমেজেন ভেঞ্চারস ২০২৪-২৫ গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ’-এ বাজিমাত করেছে খুবির তরুণদের দল ‘উর্বর’। বিশ্বের ৪০ হাজারেরও বেশি তরুণ উদ্ভাবকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বিশ্বসেরা ১০টি বিজয়ী দলের তালিকায় বাংলাদেশ থেকে একমাত্র দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে 'উর্বর'।
বাংলাদেশে ‘জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’ (JAAGO Foundation Trust) দ্বারা বাস্তবায়িত এবং ইউনিসেফ (UNICEF) ও জেনারেটর আনলিমিটেড-এর সহযোগিতায় এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মাটির লবণাক্ততা কাটিয়ে কৃষক ও উপকূলীয় মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় একটি দ্বিমুখী কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ভিন্ন ডিসিপ্লিনের মোট চারজন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত 'টিম উর্বর'।
তারা হলেন- মাইনুল ইসলাম লাবিব (ইসিই–১৯), সাদিয়া আফরিন (এমসিজে–১৯), শাহরিয়ার মাহমুদ (প্রিন্টমেকিং–১৯) ও ঋতু দে (এমসিজে–১৯)
জানা গেছে, প্রথম ধাপে উপকূলীয় এলাকার অত্যন্ত লবণাক্ত মাটিতে হাতিশুঁড় ও কলাই ঘাসের মতো লবণ-শোষক দেশীয় 'হ্যালোফাইট' (Halophyte) উদ্ভিদ রূপণ করা হয়। হ্যালোফাইট উদ্ভিদের মূল বৈশিষ্ট্যই হলো— এরা মাটি থেকে ক্ষতিকারক অতিরিক্ত লবণ নিজের ভেতর শোষণ করে নিতে পারে। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই আক্রান্ত মাটির উপরিভাগ লবণমুক্ত ও চাষোপযোগী হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয় ধাপে মাটি শোধিত হওয়ার পর, বাঁশ দিয়ে তৈরি বিশেষ একটি উলম্ব কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে সেই লবণমুক্ত মাটি স্থাপন করা হয়। এরপর উক্ত শোধিত মাটিতে সফলভাবে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ শুরু করা হয়। বাঁশের তৈরি এ কাঠামো সহজলভ্য ও স্থানান্তরযোগ্য হওয়ায় ভূমিহীন কৃষক ও মহিলারা কম জায়গায় ও সীমিত খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করে।
উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষিকাজ শুরু করার আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত মোবাইল অ্যাপ 'উর্বর অ্যানালিটিক্স'-এর সাহায্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার মাটির লবণাক্ততার সুনির্দিষ্ট মাত্রাও বিশ্লেষণ ও শনাক্ত করা হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির উপাদান ও পরিবেশগত ডেটা বিশ্লেষণ করে চাষাবাদের জন্য মাটি কতটা প্রস্তুত এবং কী পরিমাণ শোধন প্রয়োজন, তা সহজেই নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
সাতক্ষীরা অঞ্চলে পরীক্ষামূলক প্রয়োগে এই প্রযুক্তির দারুণ সাফল্য দেখা গেছে। যেখানে কৃষকদের চাষাবাদ খরচ প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে এবং একই সাথে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক এই জয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ উর্বর টিমের হাতে ৯০০০ মার্কিন ডলারের প্রতীকী সিড গ্রান্ট তুলে দেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ।
অনুষ্ঠানে জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভী রাখসান্দসহ (Korvi Rakshand) সংস্থার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতায় ইউনিসেফ, জেনইউ (GenU) ও অ্যাকসেঞ্চারের (Accenture) পক্ষ থেকে উর্বর টিমকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও কারিগরি পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
আরটিভি/এমএইচজে



