ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ইবিতে ‘ম্যানার শেখানো’ নামে র‍্যাগিং, একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
ছবি: সৌজন্য

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ‘পরিচয় পর্ব’ ও ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। পরিচয়পর্বের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা, বারবার পরিচয় দিতে বাধ্য করা, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, জোর করে নাচানো, ময়লা পানি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বসিয়ে রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে উঠে ছবি ও ভিডিও ধারণের নির্দেশ দেওয়া সহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি ২০২৫-২৬ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইন, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ফার্মেসি ও পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক চাপের কারণে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চাননি। বেশিরভাগই বিভাগের সভাপতির হস্তক্ষেপে সমাধান করে দেয়। এদিকে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রায় ১৬ জন শিক্ষার্থী লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন।

‘ম্যানার শেখানোর’ নামে আটকে রাখা:

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওরিয়েন্টেশনের দুই দিন পর থেকেই ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু হয়। প্রথম ধাপে ক্লাস শেষে ছেলে-মেয়ে সবাইকে কক্ষে বসিয়ে রাখা হতো। পরিচয় দিতে সামান্য ভুল হলেই গালিগালাজ ও অপমান করা হতো। কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে ৭০ থেকে ৮০ বার পর্যন্ত পরিচয় দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

দ্বিতীয় ধাপে প্রতিদিন বিকেল ৫টার মধ্যে সবাইকে ফুটবল মাঠে উপস্থিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্লাস প্রতিনিধিকে (সিআর)। কেউ অনুপস্থিত থাকলে সিআরকে জবাবদিহি করতে হতো। এভাবে প্রায় ১০-১২ দিন চাপ প্রয়োগ করায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে জানান। তৃতীয় ধাপে রাতেও নবীনদের ডাকা হতো। কখনো রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১২টা, আবার কখনো রাত ১টা বা দেড়টা পর্যন্ত তাদের বসিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে রাতের বেলায় জিয়া মোড়ে ডেকে কয়েকজনকে বিভিন্ন ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়। দুজনকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০ মিনিটের মধ্যে লাইব্রেরির সামনে গিয়ে ছবি তুলে আসতে বলা হয়। আরও দুজনকে ডায়না চত্বরে গিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে ল্যাম্পপোস্ট গুনে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভুল হওয়ায় তাদের পুনরায় সেখানে পাঠানো হয়। ক্লাস প্রতিনিধিকে মেয়েদের হলের নাম ভুল বলার কারণে প্রতিটি মেয়েদের হলের সামনে গিয়ে সেলফি তুলে আনতে বলা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে ক্লাস প্রতিনিধি ও আরেক শিক্ষার্থীকে জোর করে নাচানো হয়। রাত দেড়টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। সিনিয়রদের ডাকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ১৭ জন শিক্ষার্থী টানা দুই দিন ক্লাসে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। পরে তাদের মীর মুগ্ধ সরোবরে ডেকে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়া হয়।

আরও পড়ুন

ময়লা পানি, অশ্লীল ভিডিও ও হুমকির অভিযোগ:

কুষ্টিয়া শহরে অবস্থানরত নবীন শিক্ষার্থীদেরও ডেকে ‘ম্যানার শেখানোর’ অভিযোগ রয়েছে। এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তাকে পুকুরের ময়লা পানি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। একই সময় আরেক শিক্ষার্থীকে তার সামনে দাঁড় করিয়ে ১০ ধরনের হাসি দিতে বলা হয়। তারা একাধিকবার অস্বীকৃতি জানালেও শেষ পর্যন্ত বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। এছাড়া অশ্লীল বাক্য বলে ভিডিও ধারণ এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে প্রকাশ করতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী শ্রীরামপুরে নিয়ে ছেলে-মেয়ে উভয় শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ‘ম্যানার শেখানো’ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি, এক নারী শিক্ষার্থীকে এক সিনিয়রের সঙ্গে দেখা করতে বলা হলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে তাকে, ‘সিনিয়ররা ডাকলে দেখা করো না, কথা শোনো না, পরে রেপ হলে কী করবা’—এমন হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এর আগে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে বিরোধের পর কয়েকজন নবীনকে ক্লাসে দাঁড় করিয়ে গালিগালাজ ও অপমানের অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানা গেছে।

আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক নবীন ছাত্রীকে বারবার পরিচয় দিতে বাধ্য করা ও ভুল হলে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি আপসের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়। একই বর্ষের আরও তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক নবীনকে ধূমপানে বাধ্য করা এবং রাত ১টা পর্যন্ত আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের ফোন করে চা খেতে ডাকার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ওরিয়েন্টেশনের পর থেকেই ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে সিনিয়ররা ক্লাসে এসে পরিচয় নিতেন। ভুল হলে গালিগালাজ, রাতে ডেকে নেওয়া এবং মোবাইল ফোন পরীক্ষা করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, আইন ও ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ফরমাল পরিচয়পর্বের নামে হয়রানি ও অপমানের অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ:

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়গুলো নিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আগে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে সহপাঠী জিসানকে দিয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, যাতে সিনিয়রদের নাম উল্লেখ না করা হয়। অভিযোগ না করলে ভবিষ্যতে আর এমন ঘটনা হবে না—এমন আশ্বাসও দেওয়া হয় বলে দাবি তাদের।

অভিযুক্তদের দাবি— তারা একা থাকে না; একই ব্যাচের অনেকেই বিভিন্নভাবে যুক্ত থাকে। নবীনদের বিভিন্ন স্থাপনার নাম জিজ্ঞাসা করা, ভুল হলে সেখানে পাঠানো, ল্যাম্পপোস্ট গণনা করানো, একাধিকবার পরিচয় নেওয়া এবং ভুল হলে কঠোর ভাষায় বকাঝকা করার কথা স্বীকার করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচয় করানোটাই মূল লক্ষ্য তাদের।

প্রশাসনের বক্তব্য:

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। বিভাগের সব শিক্ষক মিলে তদন্ত করে একটি রিপোর্ট প্রস্তুতি করেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, র‍্যাগিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের চেয়ারম্যানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিটি বিভাগে একজন শিক্ষককে র‍্যাগিংয়ের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ট্যুরিজম বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের হাতে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সভা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিল পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নবীনদের ‘পরিচয় শেখানোর’ নামে যেকোনো কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। এত প্রচারণা পরেও সংশ্লিষ্টতা পেলে ছাড় দিবে না প্রশাসন।

ছাত্র উপদেষ্টা ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ না এলেও কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ম্যানার’ বা ফরমাল পরিচয় শেখানোর কোনো নিয়ম নেই।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, যেকোনো র‍্যাগিং ইস্যুতে জিরো টলারেন্স। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ডিনদের কাছে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রক্টরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বুড়িগঙ্গার তীরে লালকুঠি: শহরের কোলাহল পেরিয়ে এক টুকরো প্রশান্তি
মনটা আজ একটু ভার হয়ে ছিল। প্রতিদিনের একঘেয়েমি আর অহেতুক ক্লান্তি কাটানোর তাগিদে বিকেলের দিকে একাই পা বাড়ালাম ঘরের বাইরে। বাসাটা নদীর কাছাকাছি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে হাঁটতে শুরু করি। কিছুটা পথ পেরোতেই চোখে পড়ে এক অবিশ্বাস্য নীরব স্থাপত্য। লাল ইটে সাদা রঙের কারুকাজ করা বিশাল এক প্রাচীন দেয়াল স্থানীয়দের কাছে যা 'লালকুঠি' নামে পরিচিত।
বুড়িগঙ্গার তীরে লালকুঠি: শহরের কোলাহল পেরিয়ে এক টুকরো প্রশান্তি
শিক্ষার্থীদের অদৃশ্য লড়াই ও মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট: প্রয়োজন এক সহমর্মী ক্যাম্পাস
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনে জমে থাকা দীর্ঘদিনের না-বলা কথা, ক্ষোভ, হতাশা এবং প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটে তাদের নানা অভিব্যক্তিতে। পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপ, পারিপার্শ্বিক পরিবেশের টানাপোড়েন এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ছাপিয়ে আজ বড় হয়ে উঠেছে মনের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি। শারীরিক অসুস্থতা প্রকাশ পেলেও মানসিক কষ্টগুলো কীভাবে নীরবে একজন শিক্ষার্থীকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয় তার এক বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে সবার কথায়।  ​ক্যাম্পাসের ভৌত পরিবেশ ও মানসিক শান্তির সংকট লেখা: হামিম শেখ, শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই মানসিক স্বাস্থ্যও সমান অপরিহার্য, কারণ মন ভালো না থাকলে পড়াশোনা, সম্পর্ক, এমনকি শরীরও ভেঙে পড়ে। শরীর অসুস্থ হলে আমরা ডাক্তারের কাছে যাই, কিন্তু মনের কষ্ট অনেক সময় চেপে রাখি, অথচ সেটাই ধীরে ধীরে আমাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান পুরান ঢাকায়, যেখানে সমস্যার শেষ নেই। চারপাশে বদ্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ক্যাম্পাসের আশপাশে নিম্নমানের খাবার,  সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের শরীর ও মনের ওপর প্রতিনিয়ত চাপ পড়ছে। সারাদিন ক্লাস শেষে একটু নির্মল পরিবেশে নিশ্বাস নেওয়ার জায়গাটুকুও আমরা পাই না। আমাদের ক্যাম্পাসটাও আকারে বেশ ছোট, তবু পরিচ্ছন্নতার দিকে যথেষ্ট নজর দেওয়া হয় না। অনেক সময় ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় তৈরি হয়ে যায়, যা মানসিক প্রশান্তিও নষ্ট করে। প্রশাসনের কাছে আমার বার্তা, ক্যাম্পাসটি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং যেখানে-সেখানে আবর্জনা জমতে না দিতে বিশেষ নজর দিতে হবে। আমাদের মতো ছোট ক্যাম্পাসে ফুলের গাছ লাগাতে হবে, কারণ সুন্দর ও সবুজ পরিবেশই শিক্ষার্থীদের মানসিক পরিতৃপ্তি এনে দিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তাই ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নত করতে এবং নিয়মিত তদারকি করতে হবে। ক্যাম্পাসে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ খাবার পানির সুব্যবস্থা থাকা শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার, তাই এ বিষয়ে প্রশাসনকে অবশ্যই আন্তরিক হতে হবে। একই সাথে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে ফগার মেশিনের মাধ্যমে নিয়মিত স্প্রে করতে হবে, যাতে আমরা নিশ্চিন্তে ক্যাম্পাসে সময় কাটাতে পারি। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে নিয়মিত সেমিনার, কর্মশালা বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে কেউ মনের কথা বলতে সংকোচ না করে। কারণ সুস্থ পরিবেশ আর সচেতন মনই পারে একটি সুন্দর ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে। অব্যক্ত অবসাদ ও অকাল বিদায়ের বেদনা লেখা: তামান্না ফেরদৌসী, শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি ভাঙা মন নিয়ে আর যাই হোক, অন্তত বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা যায় না.. আর এই কঠিন সত্যটিই আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রাণের উপলব্ধি। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের চারুকলা অনুষদের মেধাবী শিক্ষার্থী অনিক চন্দ্র পালের অকাল ও বেদনাদায়ক বিদায় জবিয়ানদের মনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। যে হাত ক্যানভাসে রঙের জাদুতে জীবন ফুটিয়ে তুলত, সেই হাতই এক বুক নীরব অভিমান আর তীব্র মানসিক অবসাদের কাছে হেরে গিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। এই নির্মম ট্র্যাজেডি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, শরীর ভালো থাকলেও যদি মন বিষণ্ণতার অতল গহ্বরে তলিয়ে যায়, তবে জীবনই থমকে যায়। বেঁচে থাকার জন্য এবং স্বপ্নের আঙিনায় ডানা মেলার জন্য একটি সুস্থ মন সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে জবি প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের আকুল আবেদন ক্যাম্পাসে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিবিড় কাউন্সিলিং সেবা আরও জোরদার করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য পেশাদার মানসিক সহায়তা পাওয়ার পথকে সম্পূর্ণ সংকোচহীন, সহজলভ্য ও আন্তরিক করে তোলা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসন যদি প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনের নীরব হাহাকার শোনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং অবসাদ দূর করতে নিয়মিত মনস্তাত্ত্বিক সেমিনারের আয়োজন করে, তবে আর কোনো প্রাণ এভাবে অকালে ঝরে পড়বে না। "মানসিক স্বাস্থ্য কোনো বিলাসিতা নয়, এটি বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার" এই চিরন্তন সত্যকে ধারণ করে জবি প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মানসিক সুরক্ষায় দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রতিটি জবিয়ানের বুকভরা প্রত্যাশা। ​হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নীরব হাহাকার লেখা: নুসাইবা আনজুমান, শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, সুস্থ থাকার অর্থ শুধু শারীরিকভাবে ভালো থাকা নয়, বরং মানসিকভাবেও ভালো থাকা। আমরা শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং ব্যক্তিগত নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাই। অনেক সময় বাইরে থেকে আমাদের স্বাভাবিক ও হাসিখুশি মনে হলেও ভেতরে ভেতরে আমরা কতটা মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা কেউ বুঝতে পারে না। কখনো ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা, কখনো পরিবারের স্বপ্ন পূরণের চাপ, আবার কখনো নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আমাদের নীরবে ক্লান্ত করে তোলে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও অনেকে নিজের অনুভূতির কথা কাউকে বলতে পারে না; যদি কেউ দুর্বল ভাবে, সেই ভয়ও কাজ করে। অথচ আমাদেরও মন খারাপ হয়, হতাশা আসে, কখনো একটু সহমর্মিতা আর নির্ভরতার প্রয়োজন হয়। যদি আমি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথা বলি , তাহলে কিছুদিন আগেও আমি মানসিক চাপে ছিলাম যে কারণে খুব বাজে চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল । আল্লাহর ইবাদত করে, ব্যক্তিগত কাউন্সিলিং, বন্ধুদের সাহায্যে আলহামদুলিল্লাহ অনেকটাই সুস্থ আছি এখন। আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আমার অনুরোধ, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে যেন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সহজলভ্য ও গোপনীয় কাউন্সেলিং সেবা চালু করা, নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমি চাই, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা হয়ে উঠুক, যেখানে একজন শিক্ষার্থী শুধু ভালো ফলাফল করার জন্য নয়, মানুষ হিসেবেও ভালো থাকার সুযোগ পাবে। কারণ, প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাসির পেছনে যেমন স্বপ্ন থাকে, তেমনি কিছু না-বলা কষ্টও থাকতে পারে। সেই কষ্টগুলো বোঝার মতো একটি সহমর্মী পরিবেশই আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ​রাষ্ট্রীয় অবহেলা, কুসংস্কার এবং জবিয়ান জীবনের জটিল বাস্তবতা ​লেখা: ফারিহা মল্লিক, শিক্ষার্থী, দর্শন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস, যা পালন করা হয় প্রতিবছর ১০ ই অক্টোবর। কিন্তু বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মাঝে আসলেই কি মূল বিষয়ে নজর দেওয়া হচ্ছে? পরিসংখ্যান বলে দেশের ৯২ শতাংশ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বাইরে। এটা কি শুধু আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থার সমস্যা না আমাদের নিজেদের সচেতনতার অভাব? বিষয় টা এমন না যে আমাদের চিকিৎসা খাতে মানসিক রোগের চিকিৎসা দেওয়ার মতো স্বয়ংসম্পূর্ণতা আছে আবার আমাদের দেশের বিভিন্ন কুসংস্কার, ওঝা, ঝাড়ফুঁক, কবিরাজ, অসচেতনতা'র আড়ালে মানসিক স্বাস্থ্য বা মানসিক সমস্যা বলতে যে বিষয়গুলো বোঝায় তা হারিয়ে যায়।  এবার আসি মানসিক সমস্যা বা মানসিক রোগ কিভাবে সৃষ্টি হয়। জন্ম থেকেই কেও এই ধরনের সমস্যা নিয়ে জন্মায় না। পৃথিবীর বিভিন্ন বিষয় অবলোকন করতে গিয়ে এবং বিভিন্ন অভিজ্ঞতার স্বীকার হতে হতে মানুষ এর নিজের ইচ্ছা বা নিজের নীতি বিরোধী অনেক কিছু যখন তার সামনে ঘটতে থাকে এবং যখন সে এই বিষয়গুলোকে আর ঠিক ভাবে মানিয়ে নিতে পারে না তখনই তার মানসিক সমস্যা শুরু হয় এবং এভাবে একটা পর্যায়ে যাওয়ার পর তার সমস্যা বিভিন্ন রোগ এ পরিণত হয় এবং তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। একজন বাংলাদেশি এবং দেশপ্রেমী হলে দেশের বিভিন্ন অবস্থা অবলোকন করতে গিয়ে মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আবার যেহেতু আমি একজন জবিয়ান হিসেবে লিখছি তাই আমার এবং আমাদের ক্ষেত্রে বিষয় টা আরও জটিল। প্রশাসন কি করতে পারে বা পারবে এ বিষয়ে তা জানিনা তবে, আবেদন থাকবে যে, একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী হিসেবে যে সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো পাওয়ার কথা তার সব না হলেও যেন অধিকাংশ নিশ্চিত করে আমাদের পড়াশোনার যোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলা হয়। সর্বোপরি, এবারের মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে প্রত্যাশা থাকবে যেন একদম মূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যন্ত সবাই যেন এ বিষয়ে সচেতন হতে পারি এবং করতে পারি আর নিজেরা ভালো থাকি এবং অপরকে ভালো রাখি। ​মার্কশিটের ভিড়ে মানুষের অস্তিত্বের মূল্যায়ন ​লেখা: অহিদুজ্জামান রোহান, শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর হাতে বই থাকে, কাঁধে থাকে ভবিষ্যতের বোঝা, আর মনের ভেতর জমতে থাকে অসংখ্য অপ্রকাশিত গল্প। পরীক্ষার খাতায় নম্বরের হিসাব হয়, কিন্তু সেই নম্বরের পেছনে হারিয়ে যাওয়া ঘুমের হিসাব কে রাখে? একটি খারাপ ফলাফল কখনো কখনো একজন শিক্ষার্থীর কাছে নিজের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ একটি ফলাফল কখনোই একটি মানুষের সম্পূর্ণ সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি হতে পারে না। আমরা শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করি, “ভবিষ্যতে কী হবে?” কিন্তু খুব কমই জিজ্ঞেস করি, “বর্তমানে কেমন আছো ?” প্রতিযোগিতার এই পৃথিবীতে সবাইকে এগিয়ে যেতে বলা হয়, অথচ পিছিয়ে পড়লে পাশে থাকার মানুষ ক্রমেই কমে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাফল্য দেখতে দেখতে অনেকেই নিজের জীবনের স্বাভাবিক গতিকেও ব্যর্থতা ভাবতে শুরু করে। কেউ নীরব হয়ে যায়, কেউ অতিরিক্ত হাসে, কেউবা স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করতে করতেই ভেতরে ভেতরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। মনে রাখতে হবে, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়া দুর্বলতার পরিচয় নয়; সাহায্য চাওয়া বরং নিজের প্রতি দায়িত্বশীলতার প্রকাশ। একজন শিক্ষার্থীর প্রয়োজন শুধু ভালো শিক্ষক কিংবা উন্নত পাঠ্যক্রম নয়, প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে তার অনুভূতিও গুরুত্ব পায়। যেখানে কান্না লুকাতে হয় না, ব্যর্থতা নিয়ে লজ্জিত হতে হয় না, আর নিজের কষ্ট প্রকাশ করার জন্য কাউকে বিচার সহ্য করতে হয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল মেধা তৈরির কারখানা নয়, বরং সুস্থ মানুষ গড়ে ওঠারও আশ্রয় হওয়া উচিত। এই বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক, শুধু সাফল্যের গল্প শুনব না, সংগ্রামের গল্পগুলোকেও জায়গা দেব। কারণ প্রতিটি শিক্ষার্থী প্রথমে একজন মানুষ, তারপর একজন পরীক্ষার্থী; তার অস্তিত্বের মূল্য কোনো মার্কশিটের চেয়ে বড়। চলুন, এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলি, যারা শুধু ভালো ফলাফল করতে নয়, ভালো থাকতেও শিখবে। ​প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব এবং সহমর্মিতাপূর্ণ পরিবেশের তাগিদ লেখা: নাহিসা আক্তার ফাতেমা, শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, শারীরিক সুস্থতার মতো মানসিক সুস্থতাও আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। কারণ একজন শিক্ষার্থী শুধু বই, পরীক্ষা কিংবা ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তারও নানা অনুভূতি, দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা ও ব্যক্তিগত লড়াই রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন একদিকে যেমন স্বপ্ন পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে, অন্যদিকে পড়াশোনার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা, পারিবারিক প্রত্যাশা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন অনেক সময় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক শিক্ষার্থী নিজের ভেতরের কষ্টগুলো আড়াল করে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে, কারণ আমাদের সমাজে মানসিক সমস্যাকে এখনো অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমার প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতাকে প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান কাউন্সেলিং সেবাকে আরও সহজলভ্য, পরিচিত ও কার্যকর করা হোক। একই সঙ্গে এমন একটি সহমর্মিতাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে একজন শিক্ষার্থী বিচারিত হওয়ার ভয় ছাড়াই নিজের সমস্যার কথা বলতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু শিক্ষার্থীদের অর্জন কিংবা ফলাফলে নয়, বরং তারা কতটা সুস্থ, নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারছে, তার মধ্যেও প্রতিফলিত হয়। শিক্ষার্থীদের মনের যত্ন নেওয়া কোনো অতিরিক্ত দায়িত্ব নয়; বরং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আরটিভি/ এসকেডি
শিক্ষার্থীদের অদৃশ্য লড়াই ও মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট: প্রয়োজন এক সহমর্মী ক্যাম্পাস
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আম্মারের কটূক্তি, প্রতিবাদে রাকসুতে পোস্টার সাঁটাল ছাত্রদল
রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যঙ্গ করে ‘রঠা সংগীত’ নামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। ভিডিওতে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে রবীন্দ্রসংগীত উপস্থাপন করেছেন।
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আম্মারের কটূক্তি, প্রতিবাদে রাকসুতে পোস্টার সাঁটাল ছাত্রদল
নজরুল কলেজে ইংরেজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কবি নজরুল সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস ইংরেজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা (ফেয়ারওয়েল) অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
নজরুল কলেজে ইংরেজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
ম্যাডামের মেসেজে হাহা রিঅ্যাক্ট দিয়েছিলেন শিক্ষার্থী, অতঃপর...
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে সনদ উত্তোলনে জটিলতায় পড়েছিলেন শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান। তবে সৌভাগের বিষয় জটিলতা কাটিয়ে তিনি সনদটি হাতে পেয়েছেন।
ম্যাডামের মেসেজে হাহা রিঅ্যাক্ট দিয়েছিলেন শিক্ষার্থী, অতঃপর...
আরও পড়ুন
ইবিতে আন্তর্জাতিক সেমিনারের প্রজেক্ট পোস্টার প্রেজেন্টেশন
ইবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত
ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন ইবির ৩৬ শিক্ষার্থী
প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটনব্যবস্থার বিকল্প নেই: ইবি উপাচার্য