
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনার মাস না পেরোতেই ফের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭ ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থী নবীন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে দরজা বন্ধ করে রাখেন। এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা, উচ্চস্বরে কথা বলা, গালিগালাজ ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগেও কয়েক দফায় ‘ম্যানার শেখানোর’ কথা বলে তাদের ডাকা হয়েছিল। পরবর্তীতে রোববার (৯ আগস্ট) আবারও ক্লাসে তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত হলে তাদের ইমিডিয়েট সিনিয়ররা শ্রেণিকক্ষে এসে দরজা বন্ধ করে দেন।
পরে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দাঁড় করিয়ে নাম ও পরিচয় বলতে বলা হয়। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটও নির্ধারণ করে দেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। কেউ ওই ফরম্যাট অনুযায়ী সামান্য কমবেশি বললে তাকে বারবার পরিচয় দিতে বাধ্য করা হয়। একজন শিক্ষার্থীকে প্রায় ১৭ বার পরিচয় দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও জানান কয়েকজন শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, যখন আমাদের রুমের দরজা লাগিয়ে দেওয়া হয়, তখন আমরা আতঙ্কিত হয়ে যাই। একপর্যায়ে তারা হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করেন এবং মানসিকভাবে হেনস্তা করেন।
তারা বলেন, তোরা বাসায় কিছু শিখে আসিস নাই।
আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, একজনকে দাঁড় করিয়ে বলা হয়, আমি তোমাকে এই জায়গায় দেখেছি, কিন্তু তুমি আমাকে দেখোনি। এরপর কেন সালাম দেওয়া হয়নি, তা জানতে চাওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নিয়মও চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে ফুলহাতা শার্ট ছাড়া আসা যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নিয়ম না মানলে ‘খবর করে দেওয়া হবে’ বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও জানান, সিনিয়র শিক্ষার্থীরা ডাকলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত হতে হবে, এমন নির্দেশ দেওয়া হয়। কেউ উপস্থিত না হলে তার ফল ভালো হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এমনকি পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয়েছিল বলে জানান কয়েকজন শিক্ষার্থী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, সামনে আমাদের একটা প্রোগ্রাম আছে। এটা নিয়ে তাদের কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। আমরা শুধু পরিচয় নিয়েছিলাম এবং জেলা নামসহ এসব জানতে চেয়েছিলাম। প্রোগ্রাম থাকার কারণেই মূলত তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কোনো বিদ্রুপ আচরণ করা হয়নি।
সিনিয়ররা ডাকলে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রোগ্রামের জন্যই যেখানে ডাকা হয়েছে, সেখানে আসতে হবে—এটাই বলা হয়েছে। হয়তোবা তারা কথাগুলো ভুল বুঝেছে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, র্যাগিংয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। ১৮ বছর পার হয়ে গেছে, একজন শিক্ষার্থীকে শেখানোর কিছু নাই। শিক্ষকরা তাদের শেখাবেন। আমরা এটা নিয়ে কাজ করতেছি। আমরা সবসময় এ বিষয়ে শক্ত অবস্থানে আছি।
আরটিভি/টিআর




