
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ৪ হাজারেরও অধিক নবীন শিক্ষার্থীকে ফুল ও শিক্ষাসামগ্রী দিয়ে বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
সকাল ১০টা ৫ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় পথচলা নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে ফুল দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় নবীন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। পর্যায়ক্রমে আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য শেষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার দীর্ঘ ঐতিহ্য ধারণ ও সৃষ্টি করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে তোমরা এখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছ। শুধু মেধা নয়, তোমাদের অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও চর্চার কারণেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে। মেধার সঙ্গে পরিশ্রম ও অধ্যবসায় যুক্ত করতে পারলে পৃথিবীর যেকোনো কিছু জয় করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার এই সাফল্য শুধু শিক্ষার্থীর একার কৃতিত্ব নয়। এর সঙ্গে বাবা-মা, শিক্ষক, বন্ধু, প্রতিবেশীসহ অনেক মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতা জড়িত। তাই সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। একই সঙ্গে সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ১৮ শতাংশ ছাত্রছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সংখ্যা আরও কম। সেখানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়াটা কতটা গৌরবের, তা তোমরাই চিন্তা করতে পারো। আমি আজ এই স্টেজে উঠে আবেগাপ্লুত হয়েছি। কারণ, আমার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসের মধ্যে আজ পর্যন্ত যত অনুষ্ঠান করেছি, তার মধ্যে আজকের অনুষ্ঠানটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে আমি মনে করছি।
তিনি বলেন, আমি এমন এক সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীর সামনে দাঁড়িয়ে আছি, যারা আগামীর বাংলাদেশের কাণ্ডারি, যারা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের হাল ধরার জন্য প্রস্তুত হতে আমাদের এই ক্যাম্পাসে এসেছে। তোমাদের আগামী দিনের পথচলা সুষ্ঠু ও সুন্দর হোক।
আরটিভি/টিআর




