ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

দিনমজুর থেকে সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়: রাবি শিক্ষার্থী নাজমুলের স্বপ্ন জয়

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৫ এএম
রাবি শিক্ষার্থী নাজমুল ও তার বাবা। ছবি: আরটিভি

কখনো রাজমিস্ত্রীর সহযোগী কখনো হোটেল বা দোকানের কর্মচারী যখন যে কাজ পেয়েছেন তাই করেছেন। দিনে করেছেন দিন মজুরের কাজ আর রাতে হাতে তুলে নিয়েছেন বই। রাত কেটেছে পড়ার টেবিলে। ভোরের আলো ফুটতেই আবার কাজের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন নাজমুল। অভাব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।

পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে বাবাকেও দিনের পর দিন শ্রম দিতে হয়েছে। সীমিত আয়ের সেই পরিবারে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখাটাও ছিল একসময় বিলাসিতার মতো। তবে প্রতিকূলতা থামাতে পারেনি নাজমুলকে। নিজের মেধা, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে এবার তিনি পাড়ি জমাচ্ছেন সুইডেনে। দেশটির স্কোভদে ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের রিকশাচালক জনাব আয়নাল হকের বড় ছেলে মো. নাজমুল হাসানের কথা। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাজীবন শেষ করে একসময় জায়গা করে নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভর্তি হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান (Biochemistry and Molecular Biology) বিভাগে। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী বর্তমানে মাস্টার্সের থিসিস করছেন। এখন পাড়ি দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন সুদূর সুইডেনে। দেশটির ইউনিভার্সিটি অব স্কোভদেতে ‘মাস্টার্স ইন বায়োসায়েন্স’ পড়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। পেয়েছেন শতভাগ টিউশন ফি মওকুফসহ পূর্ণ বৃত্তি।

পড়াশোনার পাশাপাশি নাজমুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত আছেন। বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

আরও পড়ুন

দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প জানতে চাইলে নাজমুল হাসান আরটিভিকে বলেন, "আমি আমার বাবার পরিশ্রম দেখে বড় হয়েছি। দারিদ্র্য সবসময়ই আমার নিত্যসঙ্গী ছিল। ছোটবেলা থেকেই শিখেছি, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে কীভাবে এগিয়ে যেতে হয়, কীভাবে প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। আমার বাবা পায়ে রিকশা চালাতেন। বাবার সেই কষ্ট আমাকে ভীষণ নাড়া দিত। একই সঙ্গে তার পরিশ্রমই আমাকে অনুপ্রেরণা জোগাত। মনে হতো, বাবার কষ্ট আমাকে ঘোচাতে হবে। সেই সময় থেকেই নিজের জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করি।"

তিনি বলেন, "শেরপুরের জলযোগ হোটেলে কাজ করেছি। এরপর আমাদের এখানকার ডক্টরস কমপ্লেক্সে একটি গার্মেন্টসের দোকানেও কাজ করেছি। পরে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ির কাজও করেছি। সবসময় চেষ্টা করেছি, কীভাবে নিজেকে স্বাবলম্বী করা যায় এবং পরিবারের কাছ থেকে যতটা সম্ভব কম অর্থ নেওয়া যায়। নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে আমি সবকিছুর ওপরই পরিশ্রমকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। এমনও সময় গেছে, যখন কষ্টের কারণে ঠিকমতো কাপড়চোপড়ও কিনতে পারিনি।"

শতভাগ বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা থাকলেও বিমানভাড়া, আবাসন এবং শুরুতে জীবনযাপনের খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। রিকশা চালিয়ে যে আয় করেন আয়নাল হক, তা দিয়ে সংসার চালানো এবং দুই সন্তানের পড়াশোনার খরচ বহন করাই কঠিন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পরও নাজমুলের সুইডেনযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একদিকে বহু বছরের পরিশ্রমে অর্জিত বৃত্তি, অন্যদিকে বিদেশযাত্রার প্রয়োজনীয় অর্থের সংকট, এই দুইয়ের টানাপোড়েনে থমকে যাওয়ার উপক্রম হয় তার স্বপ্ন। সেই সংকটের সময় পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) বাবা আয়নাল হককে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নাজমুল। তার সংগ্রাম, পড়াশোনা ও সুইডেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি শুনেন প্রধানমন্ত্রী। তার আর্থিক সংকটের বিষয়টি জেনে তাকে আর্থিক অনুদান দেন। একইসঙ্গে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেকে দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার পরামর্শ দেন।

নাজমুল বলেন, আমার বাবা একজন রিকশাচালক। বাবার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই আমার পড়াশোনা এগিয়েছে। সুইডেনে শতভাগ বৃত্তি পাওয়ার পরও বিমানভাড়া এবং সেখানে থাকা-খাওয়ার প্রাথমিক খরচ পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় এখন অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের অনুভূতি জানতে চাইলে নাজমুল বলেন, ছোটবেলা থেকেই তারেক রহমান আমার অনুপ্রেরণার একজন মানুষ। সরাসরি সাক্ষাৎ করে নিজের সংগ্রামের কথা বলা এবং তার কাছ থেকে পরামর্শ পাওয়া আমার জীবনের স্মরণীয় একটি ঘটনা। প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রণালয়ে আমরা যাই। আমি আমার বাবা সহ যাই। সেখানে গেলে তিনি আমার বিষয়টা দেখেন। আর্থিক বিষয়ে যে সমস্যা সেই বিষয়টা সলভ করেন।

তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে আবার ফিরে এসে দেশের সেবা করতে বলেছেন। আমি বলেছি, ‘জি, ইনশাআল্লাহ, আপনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে আমি আবার ফিরে আসব।"

খামারকান্দির মেঠোপথ থেকে সুদূর সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়, নাজমুলের এই যাত্রা শুধু বিদেশে উচ্চশিক্ষার গল্প নয়; এটি একজন রিকশাচালক বাবার ঘাম, মায়ের ত্যাগ আর সন্তানের অদম্য স্বপ্নের গল্প। যে রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে আয়নাল হক বছরের পর বছর সংসারের চাকা সচল রেখেছেন, সেই আয়ের একটি অংশেই গড়ে উঠেছে ছেলের ভবিষ্যৎ। সীমিত সামর্থ্য আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নাজমুল থেমে থাকেননি। মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ে এগিয়ে গেছেন নিজের স্বপ্নের পথে।

নাজমুলের সামনে এখন উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও নিজেকে দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার নতুন লড়াই। নাজমুলের গল্প মনে করিয়ে দেয়, অভাবের পথ কঠিন করতে পারে, কিন্তু স্বপ্ন থামাতে পারে না।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থীর কবি নজরুল কলেজে নেই একটিও ডাস্টবিন
রাজধানীর প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবি নজরুল সরকারি কলেজে প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। অথচ পুরো ক্যাম্পাসে নেই বর্জ্য ফেলার কোনো নির্ধারিত স্থান বা ডাস্টবিন।
প্রায় ২১ হাজার শিক্ষার্থীর কবি নজরুল কলেজে নেই একটিও ডাস্টবিন
চুয়েটে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে খাবার দিলেন আন্দোলনকারীরা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবন-২ এ প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমসহ ১১ জন।  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য সকালের নাস্তা পৌঁছে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দেওয়া আলটিমেটামের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও উপাচার্য ভবন না ছাড়ায় গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবনের ভেতরের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।  একই সঙ্গে ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এ সময় তারা ‘তালা, তালা, তালা হবে, ভিসি ভবন তালা হবে’ এবং ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ বিষয়ে পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খাঁন বলেন, নবনিযুক্ত উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকবেন। গতকাল তাকে বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরও তিনি স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ থেকেছেন। আমরা অবরুদ্ধ সবাইকে সকালের খাবার পৌঁছে দিয়েছি। এর আগে, গতকাল সোমবার সকালে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। পরে দুপুর ১২টার দিকে তাকে ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়ায় তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা। আরটিভি/এসআর
চুয়েটে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে খাবার দিলেন আন্দোলনকারীরা
প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি, কী করবে সেটা তাদের ব্যাপার: অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য
দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড.শেখ শরীফুল ইসলাম। তবে প্রশাসন কীভাবে তাকে সহায়তা করবে, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যকে পদত্যাগপূর্বক সম্মানের সাথে বের হয়ে যাওয়ার আল্টিমেটামের ঘোষণা প্রদান করলেও এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি চুয়েট উপাচার্য। গণমাধ্যমকর্মীরা এবিষয়ে আজ সকালে উপাচার্যের সাথে সরাসরি কথা বলতে চাইলেও তিনি রাজি হননি। নিজ কক্ষের সামনে থেকে তিনি বলেন, আমরা এখানে খুবই অমানবিক অবস্থায় আছি। এ অবস্থায় আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি।তারা কীভাবে সহযোগিতা করবে এটা তাদের ব্যাপার। প্রসঙ্গত, গত সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে নতুন উপাচার্য। বিকেলে হাটহাজারী এলাকায় স্থানীয় ছাত্রদল কর্তৃক চুয়েটগামী বাসের উপর হামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের এই আল্টিমেটাম আন্দোলন আরও তীব্র হয়। আরটিভি/এসআর
প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি, কী করবে সেটা তাদের ব্যাপার: অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্য
২১ ঘন্টা পেরিয়ে চুয়েটে ২য় দিনের মতো অবরুদ্ধ উপাচার্য
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)  উপাচার্য ভবনে এখনও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রানা, চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অনেক শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত এখনো উপাচার্য ভবন থেকে বের হতে পারেননি তারা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১ টা থেকে অবরুদ্ধ থাকার পর রাত আটটায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যকে পদত্যাগপূর্বক উপাচার্য ভবন ত্যাগ করার আল্টিমেটাম প্রদান করলেও উপাচার্য এখন পর্যন্ত এরকম কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।  ভেতরে আটকে পড়া নতুন উপাচার্য জানান,তার কাছে শিক্ষার্থীদের কোনো লিখিত দাবি নেই তার কাছে। কোনো বক্তব্যও নেই। তারা যদি লিখিত আকারে দেয়, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসিকে অবহিত করতেন। এছাড়া জানা যায়, অবরুদ্ধ অবস্থায় গতকাল অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তার সাথে থাকা দুজন।  এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার সাথে চারজন এলামনাই সদস্য আছেন, একজন আমার বন্ধু, দুজন বড়ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রও আছে ৬-৭ জন। তারা আন্দোলন করুক, সমস্যা নাই। কিন্তু আমি দপ্তরে আসলাম নয়টায়, তাঁর দুই-তিন ঘন্টার মধ্যেই এভাবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস লাইন বন্ধ করে দেয়াটা অমানবিক। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, গত সোমবার সকাল নয়টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য। এ খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।  ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। গতকাল সোমবার তাঁরা অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ পরিস্থিতিতে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আরটিভি/এসআর
২১ ঘন্টা পেরিয়ে চুয়েটে ২য় দিনের মতো অবরুদ্ধ উপাচার্য
চুয়েটে দীর্ঘসময় অবরুদ্ধ উপাচার্য
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অবরুদ্ধ উপাচার্য ভবনের ভেতরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুইজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
চুয়েটে দীর্ঘসময় অবরুদ্ধ উপাচার্য
আরও পড়ুন
মাদরাসায় মামাকে দিয়ে প্রক্সি ক্লাস করান জীবন, নেন অর্ধেক বেতন
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: চিহ্নিত হলেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ
সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় রাবিতে বিশেষ সিন্ডিকেট ১৫ অক্টোবর
বিরল আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেলেন রাবির প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুন কুমার