ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৃতির পাঠশালায় ‘তুলির রঙ’

খুবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
পুকুরপারে বসে ছবি আঁকছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: আরটিভি

লাল শাপলা পুকুরের পাড়ে, সারি সারি বড় গাছের ছায়া। গাছের শীতল ছায়া আর পুকুরের জলে ভেসে আছে শাপলার সৌন্দর্য—এমন এক মনোরম পরিবেশে প্রকৃতির এত কাছাকাছি থেকে তিনপায়ার স্ট্যান্ডে বাঁধানো ড্রয়িং বোর্ডে তুলির আঁচড় আর রঙের ছোঁয়ায় তারা সৃষ্টি করছেন একের পর এক নজরকাড়া শিল্পকর্ম।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অন্যান্য ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা যখন বই-খাতা আর অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত, তখন ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা প্রাকৃতিক পরিবেশে ছবি আঁকার জন্য ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত চত্বর ও লেকপাড়ে জড়ো হন।

ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা স্কুলের অধীনে, যেটি কাজী নজরুল ইসলাম কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের নিচে অবস্থিত। খুলনার ঐতিহ্যবাহী শিল্পচর্চার ধারাবাহিকতায় ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষে চারুকলা ইনস্টিটিউট হিসেবে পথচলা শুরু হয়। খুলনাঞ্চলের খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী শশীভূষণ পালের শিল্পভাবনা এবং এই অঞ্চলের লোকসংস্কৃতির ঐতিহাসিক ধারা খুবি চারুকলার প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

তবে এ ডিসিপ্লিনের পড়াশোনাটাই আসলে এই পরিবেশকে ঘিরে। চার দেয়ালের মাঝে থেকে তাদের চারুকলার পড়াশোনাটা সম্ভব না। অবশ্যই একটা সুন্দর পরিবেশ তাদের কাজ ও চিন্তাভাবনাকে সুন্দর করে তোলে। বিশেষ করে লাল শাপলা পুকুরের এই শান্ত পরিবেশ শিক্ষার্থীদের প্রকৃতিকে আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দিচ্ছে।

গাছের শীতল ছায়া, পানিতে ভেসে থাকা শাপলা এবং চারপাশের নীরবতা শিক্ষার্থীদের মনকে অনেক বেশি স্থির করে। ফলে তারা ছবি আঁকার সময় প্রকৃতির সৌন্দর্যকে নিজের মতো করে অনুভব ও ক্যানভাসে প্রকাশ করতে পারেন।

0ad0d4d

ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা জানান, চার দেয়ালের মধ্যে কৃত্রিম আলো অনেকটা নিয়ন্ত্রিত থাকে। কিন্তু বাইরে প্রকৃতির আলো সবসময় পরিবর্তিত হয়। সূর্যের আলো, গাছের ছায়া, পানির প্রতিফলন—সবকিছু মিলিয়ে প্রকৃতিতে আলো ও ছায়ার বৈচিত্র্য অনেক বেশি দেখা যায়। সরাসরি প্রকৃতির মধ্যে বসে আঁকার ফলে তারা এই পরিবর্তনগুলোকে বাস্তবভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রীতম দত্ত। তার স্বপ্ন এক সময় দেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী হবেন। আর এ স্বপ্ন পূরণের জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হন তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিয়াম নামের এক শিক্ষার্থী এই পুকুরের প্রাকৃতিক পরিবেশটাকেই তার ছবির বিষয় হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে পানির মধ্যে ভেসে থাকা লাল শাপলা, গাছের সবুজ এবং আলো-ছায়ার যে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেটাই তাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, একজন উদীয়মান শিল্পী হিসেবে এই অভিজ্ঞতা আমার ভবিষ্যৎ শিল্পভাবনায় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। প্রকৃতির কাছাকাছি এসে কাজ করার মাধ্যমে আমি শুধু দৃশ্য আঁকছি না, বরং প্রকৃতির আলো, রঙ, পরিবেশ ও অনুভূতিকে বুঝতে শিখছি। ভবিষ্যতে আমার কাজের মধ্যে প্রকৃতির এই সরলতা, শান্তি এবং বাস্তব অনুভূতিগুলো আরও বেশি করে তুলে ধরতে চাই।

সিয়ামের সহপাঠী রিতু রহমান বলেন, পুকুরের লাল শাপলা আমাকে উজ্জ্বল লাল রঙ ব্যবহারে অনুপ্রাণিত করছে, আর চারপাশের গাছপালার সবুজ রঙ ছবিতে একটি স্বাভাবিক ভারসাম্য তৈরি করছে। পানির নীলাভ ও মাটির বিভিন্ন টোনও ছবির রঙের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। অর্থাৎ আমি কৃত্রিমভাবে রঙ বেছে নেওয়ার চেয়ে প্রকৃতির মধ্য থেকেই রঙের অনুপ্রেরণা নিচ্ছি।

4e0a8d

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, এমন নান্দনিক পরিবেশে ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি আঁকছেন, বিষয়টা সত্যিই আসাধারণ। তাদের একসঙ্গে বসে গল্প, আড্ডা, ছবি আঁকা- সব মিলিয়ে বিষয়টি দারুণ।

উল্লেখ্য, দেয়ালচিত্র, গ্রাফিতি, পহেলা বৈশাখসহ অন্যান্য উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা তাদের শৈল্পিক দক্ষতা প্রদর্শন করেন। বিশেষ করে বর্ষবরণ উৎসবের মূল আকর্ষণ—বিশাল মঙ্গল শোভাযাত্রার শিল্পসামগ্রী, আলপনা, মুখোশ ও সুসজ্জিত মোটিফ তৈরিতে এই ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দেন।

এছাড়াও ক্যাম্পাস এবং খুলনা শহরের বিভিন্ন স্থানে সামাজিক সচেতনতামূলক ও ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতায় গ্রাফিতি এবং দেয়ালচিত্র আঁকায় রাখেন অনন্য ভূমিকা।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রভাবশালী মহলের প্রভাব খাটিয়ে মানহীন কোনো মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার (৪ নভেম্বর) বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘অ্যাসেসর ট্রেনিং’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নতুন কোনো বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিইনি। এতে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে চাপ আসছে। কিন্তু মান ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কাউকে মেডিকেল কলেজ করতে দেওয়া হবে না। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ হবে আর রোগী না দেখে কেউ চিকিৎসক হয়ে যাবে, এমন পরিস্থিতি চলতে পারে না। দেশে চিকিৎসা শিক্ষার বৈষম্য ও ভৌগোলিক অসম বণ্টন তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজই ঢাকা বিভাগে পুঞ্জীভূত। অথচ বাকি সাতটি বিভাগে ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। সংসদ বা রাজনৈতিক বক্তৃতায় যখন-তখন নিজ জেলা বা উপজেলায় মেডিকেল কলেজ চাওয়ার মতো জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতা পরিহার করে পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের নিয়ম মেনে অ্যাক্রিডিটেশন অর্জন না করলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে পড়বে। চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা ও আস্থা ফেরাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এখন বাধ্যতামূলক। বিদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সম্প্রতি বিদেশ থেকে পাস করে আসা চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষায় মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তীর্ণ হয়েছেন। সন্তানদের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে বিদেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান যাচাই করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আরটিভি/টিআর
মানহীন মেডিকেল কলেজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
যবিপ্রবিতে তারিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। যশোরে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ, তা বাস্তবে রূপ দিতে স্থান নির্বাচন, আইনি জটিলতা নিরসন এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যবিপ্রবির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দোয়া মাহফিলে ছাত্রদলপন্থী শিক্ষার্থীরা এবং বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের (বাআজাকফ) কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জসীম উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিলে মরহুম তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। আরটিভি/টিআর
যবিপ্রবিতে তারিকুল ইসলামের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল
রাবিতে চার দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী চতুর্থ ‘পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন। বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। কেক কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠানে পর্যটন, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় খাবারের সমন্বয়ে নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। মেলায় রয়েছে বাহারি খাবারের স্টল, দেশীয় হস্তশিল্প, উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন উদ্যোগ ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের সামনে মেলা চলবে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলকাপ, গম্ভীরা, সংগীতানুষ্ঠান এবং আরইউ ড্যান্স ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা থাকছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মোনতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ‘পর্যটন বিভাগে কেউ বেকার থাকে না। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা বিকাশের সুযোগ করে দেয়। ট্যুর গাইড, মেন্টর, ট্যুর অপারেটর ও হসপিটালিটি অপারেটর হিসেবে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগে ট্যুরিজম বোর্ড সব সময় পাশে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটনশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি সেসব স্থানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে হবে। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর প্রচারের মাধ্যমে এ খাতের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব।’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ পায়। পাশাপাশি দেশের পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ একটি দেশ। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও শিক্ষা, গবেষণা ও বাস্তবমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে পর্যটনশিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখতে চায়। আমি আশা করি, শিক্ষার্থীরা অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে অবদান রাখবে।’ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষ ট্যুর গাইড, ট্যুর অপারেটর, হসপিটালিটি ব্যবস্থাপক ও পর্যটন উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা দিয়ে এ খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখেই বিভাগটি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।’ এ সময় মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম এবং কোষাধ্যক্ষ (অব.) অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। আরটিভি/টিআর
রাবিতে চার দিনব্যাপী পর্যটন মেলা ও ফুড ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন
কিউএস এশিয়া র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬৪৪তম যবিপ্রবি
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডসের (কিউএস) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংস: এশিয়া ২০২৭’-এ গত বছরের তুলনায় ৪৩ ধাপ এগিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৬৪৪তম অবস্থান অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। গত বছর এ অবস্থান ছিল ৬৮৭তম। এদিকে, ২০২৪ সালের কিউএস এশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে যবিপ্রবি এর আগে সর্বোচ্চ ৫৫১-৬০০-এর মধ্যে অবস্থান অর্জন করেছিল। এবারের তালিকায় বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এশিয়ায় ৬৪৪তম অবস্থানের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যবিপ্রবির অবস্থান ১৮০তম। গত ৩ নভেম্বর কিউএস তাদের ওয়েবসাইটে এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৭ সালের র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার ২৬টি দেশের ১ হাজার ৭২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে হংকং বিশ্ববিদ্যালয় এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে, দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইয়ারুল কবীর বলেন, গতবারের তুলনায় এবার এশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে যবিপ্রবি ৪৩ ধাপ এগিয়েছে, যা আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক খবর। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে অভিনন্দন জানান। তিনি আরও বলেন, আমাদের আরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে। সেসব ক্ষেত্র চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে সবাই মিলে কাজ করতে চাই। যবিপ্রবিকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি। আরটিভি/টিআর
কিউএস এশিয়া র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬৪৪তম যবিপ্রবি
যবিপ্রবিতে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) জমকালো আয়োজন ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ‘আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬’। রোমাঞ্চকর ফাইনাল খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান (পিইএসএস) বিভাগ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “নিয়মিত একাডেমিক চাপের মধ্যে খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের অন্য রকম আনন্দ দেয়। এটি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিকাশ ঘটাতে এবং পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী হতে সাহায্য করে। টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়ের মধ্যেই পড়াশোনায় কিছুটা উদাসীনতা লক্ষ করা গেলেও এখন থেকে সবাইকে পুনরায় মূল একাডেমিক পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।” বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে এ ধরনের সুস্থ ও সুন্দর সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রসার শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের আয়োজন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিভা অন্বেষণ, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেদের প্রস্তুত করা এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সহায়তা করে। আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণের আগে আন্তঃহল (ছাত্রী) প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর চ্যাম্পিয়ন তাপসী রাবেয়া হল ও রানারআপ বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় ব্যাডমিন্টন (নারী) প্রতিযোগিতায় এককে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিকা পদ্দার এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল (নারী) প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর রানারআপ হওয়ায় যবিপ্রবির নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ড. অভিনু কিবরিয়া ইসলামের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হাসান, প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান, পিইএসএস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাফিরুল ইসলাম, শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক উজ্জ্বল চন্দ্র সূত্রধর, ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. রায়হান রাকিবসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল ওয়াহেদ। মাঠে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক দর্শকের করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। আরটিভি/টিআর
যবিপ্রবিতে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত
আরও পড়ুন
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
ডেঙ্গু সচেতনতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনসিসির র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা, দ্রুত সমাধান চান শিক্ষার্থীরা
যৌন হয়রানির প্রতিবাদে খুবিতে মশাল প্রজ্বলন ও গণসংগীত