
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডরমেটরি থেকে পিতল ও লোহার পাত চুরি করতে এসে আটক হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভ্যানচালক। অভিযুক্ত ভ্যানচালক হলেন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আব্দালপুরের বাসিন্দা।
গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে আটক করে নিরাপত্তা কর্মীরা। পরে স্বীকারোক্তি সাপেক্ষে ওই চোরকে থানায় হস্তান্তর করেন প্রক্টরিয়াল বডি। তবে থানা হাজত থেকে ‘৪ লাখ টাকার ভিন্ন একটি চুরি’র মামলায় অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে কোর্টে প্রেরণ করেছে ইবি থানা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমেটরি-২ থেকে ধরা খাওয়ার দুই দিন আগে ৪-৫ কেজি পরিমাণের পিতল ও লোহার পাত চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখে যে এক ভ্যানচালক নিয়ে যাচ্ছিল। তার গতিবিধি নজরে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে চোরকে ধরে ফেলে নিরাপত্তা কর্মীরা। পরে প্রক্টরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই সময় চোর (জসিম) স্বীকারোক্তি দিয়ে প্রক্টর ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলছিলেন, ‘আমি খুব অভাবে আছি। ২৭০০ মতো পেয়েছি। বাড়িতে বউপুলার জন্য চালের বস্তা কিনেছি। সমিতির কিস্তিও আছে। দুইটা মেয়ে সন্তানও আছে। পুলিশকে দিয়েন না, সংশোধনের সুযোগ দিন। আমাকে মেরে ফেলতে পারেন। পেটের জ্বালায় বাধ্য হয়েছি।’
ভিন্ন মামলায় চোরকে জেলে পাঠাল:
গত বছরের ১৫ নভেম্বর বেলা অনুমান ৪ টা ২০ মিনিটে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান ভবনের পূর্ব পাশের আম বাগার মার্কেটের 'কামাল বুকস বই-খানা ও বিকাশের দোকানের বারান্দায় থাকা বাই সাইকেলের হ্যান্ডেলে ঝুলিয়ে রাখা বাদীর ব্যাগ-সহ ব্যাগের মধ্যে থাকা নগদ ৪.০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকা, ০২ টি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দোকানদার কামাল উদ্দিন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণপূর্বক তিনজনের নাম উল্লেখ করে ২/৩ জন অজ্ঞাতনামা রেখে ৩৭৯ ধারায় মামলা রুজু করেন। ওই মামলা তদন্তভারে আছেন ইবি থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মাহফুজ আলী। ওই মামলা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে ৪ লাখ টাকা চুরি মামলায় সম্প্রতি লোহার পাত চুরি করতে এসে ধৃত জসিম হোসেনকে অজ্ঞাতনামায় আসামির অন্তর্ভুক্ত করে কুষ্টিয়ার কোর্টে পাঠাল পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের প্রতিবেদনে বলছে, কুষ্টিয়া (ইবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় সময় চুরি করে থাকে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত আছে। আসামী জামিনে মুক্তি পাইলে স্থায়ীভাবে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে ব্যঘাত ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু ভিন্ন কথা বলছে ওই মামলার বাদী কামাল উদ্দিন। টাকা চুরি হওয়ার ঘটনার সঙ্গে এই চোরের (জসিম) সঙ্গে সম্পৃক্ততা নাই। মামলাটির বাদী কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার মামলায় এই ছেলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নাই। তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছি, একজন জেল হাজতে আছে। আরও দুইজন পলাতক। আমার মামলায় এই ছেলেকে জেলে পাঠাল তা তো জানি না। আমি কথা বলে নিব।’
আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামসুল আলম বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখলাম আসামীর ব্যাপারে বাদী জানে না। এই মামলার শুনানি আগামী বুধবার। তখন বিষয়গুলো সামনে রেখে জামিনের বিষয়টি দেখা হবে।’
জানতে চাইলে ইবি থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মাহফুজ আলী বলেন, ‘মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। তদন্ত করে যদি তার সম্পৃক্ততা পাওয়া না যায় তাহলে অভিযুক্তের (জসিম) নাম বাদ যাবে।’
আরটিভি/ এসকেডি



