ঢাকা রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

হাবিপ্রবি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

হাবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত হাবিপ্রবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন কয়েকজন অভিভাবক।

জানা গেছে, গত ১২ মে ১৯ জন অভিভাবকের স্বাক্ষরযুক্ত একটি অভিযোগপত্র জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর জমা দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষার্থী ভর্তির সময় ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়, বিদ্যালয় চলাকালীন কোচিং করানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নামে প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে নেওয়া এবং বিদ্যালয়ের নিজস্ব লাইব্রেরি থেকে বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ গ্রহণ, শিশু শ্রেণির জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, সরকার প্রদত্ত ল্যাপটপ ব্যবহার না করা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চালু না করা এবং অন্য শিক্ষকদেরও তা চালু করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান না করিয়ে আগের দিনই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান। চারু ও কারুকলা পরীক্ষার দিন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ঝাড়ু, হারপিক ও সাবান নেওয়া এবং উপবৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও টাকা দাবির অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রধান শিক্ষক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায়ই অশোভন আচরণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কেউ এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তিনি ‘আমার কেউ কিছু করতে পারবে না, আমার ওপরে সবাইকে ম্যানেজ করা আছে’, এমন মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভুয়া। প্রাথমিক শাখায় প্রায় ১৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ অভিযোগপত্রে মাত্র ১৯ জন অভিভাবকের স্বাক্ষর রয়েছে। বাকি ১২১ জন অভিভাবক কেন স্বাক্ষর করেননি, সেটিও দেখা দরকার।

অভিযোগপত্রে থাকা কিছু স্বাক্ষর জাল বলেও দাবি করেন তিনি। প্রধান শিক্ষক বলেন, কিছু অভিভাবক আমাকে জানিয়েছেন, গাছের চারা দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগপত্রে থাকা স্বাক্ষর যাচাইয়ের বিষয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে হাবিপ্রবির একজন অধ্যাপকের স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর রয়েছে। ওই অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটি জাল স্বাক্ষর হতে পারে।

অন্যদিকে, অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করা কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বললে তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা দাবি করেন।

এক অভিভাবক বলেন, আমার দুই সন্তান ওই স্কুলে পড়ে। বেশিরভাগ অভিযোগই সত্য। চাইলে এসে সরেজমিনে যাচাই করতে পারেন। স্কুলের টয়লেট থেকে ছোট ছোট সাপ বের হয়। বাচ্চারা সেখানে কীভাবে টয়লেট করবে? আমরা জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছেও গিয়েছিলাম। আমার মেয়ে বৃত্তি পরীক্ষা দিয়েছে, সেই পরীক্ষার জন্য টাকা চাওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।

আরেক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে ওই স্কুলে পড়ে। তার বড় বোনও পাঁচ বছর প্রাথমিকের ওই স্কুলে পড়েছে। তখন যে পরিস্থিতি ছিল, এখন তার চেয়েও খারাপ হয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগের পর হাবিপ্রবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা তদন্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) সানজিদা শারমিন বলেন, তদন্তের রিপোর্ট আপনারা অচিরেই পাবেন। আমাদের যে তদন্ত কর্মকর্তারা গিয়েছিলেন, তারা টিওকে রিপোর্ট দিয়েছেন। টিও হয়তো সামনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। ওই স্কুলটি আমার তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) চৈতন্য কুমার রায় বলেন, আমরা সেখানে তদন্ত করেছি এবং তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

দিনাজপুরের সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান সিদ্দিক বর্তমানে রংপুরে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বলেন, গত মাসের ২৪ তারিখে দিনাজপুরে আমার শেষ কর্মদিবস ছিল। বর্তমানে রংপুরে কর্মরত আছি। আমি আসার সময় তদন্তটি দিনাজপুরের টিওকে দিয়ে এসেছি। তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তদন্ত প্রতিবেদনটি আমি পাইনি। এখন আমার আসার ২০ দিন হয়ে গেছে। তাই এ বিষয়ে এখন আমি কিছু বলতে পারছি না। তবে তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি শক্তভাবে দেখার জন্য বর্তমান টিও আবুল কালামকে বলেছি।

এ বিষয়ে দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালামের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, এটার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিপোর্ট আমাদের কাছে আসছে। আমরা ব্যবস্থা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে শিগগিরই পাঠানোর ব্যবস্থা করব। আমার কাছে রিপোর্ট জমা হয়েছে দুই-তিন দিন হলো। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পরই এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে জানা যাবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চুয়েটে রুটিন উপাচার্য মানছেন না শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। এ নিয়ে টানা ২০ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠনগুলোও পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে দুপুর ১টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সামিউন বাসির বলেন, আন্দোলনের কারণে এ পর্যন্ত বিভিন্ন বর্ষের ১৫টি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ১২ কার্যদিবসে কোনো ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের সেশনজটের আশঙ্কা রয়েছে। তাই আর কালক্ষেপণ না করে বিষয়টি যৌক্তিকভাবে সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের বিকল্প উপাচার্য হিসেবে কাউকে তারা দেখছেন না। তাকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হয়, সে বিষয়েও তারা জোরালো অবস্থান জানাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষকদের একটি মৌন মিছিল উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়। মিছিলটি শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপাচার্য ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এর আগে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে চুয়েট শিক্ষক সমিতি জানায়, সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যকরী পরিষদের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকা এবং অবস্থান ধর্মঘট আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এদিকে, চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে দুই দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সিদ্ধান্তটিকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে দূর থেকে তথাকথিত ‘অনলাইন ভিসি’ উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যাঁকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য হিসেবে মেনে নেননি, তার দেওয়া কোনো রুটিন দায়িত্ব কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চুয়েট ক্যাম্পাসে বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল ইসলাম জানান, অতীতে নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলে এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হতো। কে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং কত দিনের জন্য পেয়েছেন, তা নোটিশের মাধ্যমে জানানো হতো। তবে এবার তারা এ ধরনের কোনো অফিস আদেশ পাননি। ফলে কে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং কত দিনের জন্য পেয়েছেন, সে বিষয়ে তারা অবগত নন। চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অধ্যাপক আরাফাত রহমানের উপাচার্যের দায়িত্ব পাওয়ার খবর দেখেছেন বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শরিফুল ইসলামকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তী সময়ে একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতিতে যোগ দেন। ফলে চুয়েটের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। আরটিভি/টিআর
চুয়েটে রুটিন উপাচার্য মানছেন না শিক্ষার্থীরা
জবি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির সভাপতি লাবিব, সম্পাদক রাকিবুল
হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটির (এইচআরডিএস) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার ২০২৬–২৭ সেশনের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২৬ সদস্যের এই কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুহার আলমাস লাবিব। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম। রোববার (১১ অক্টোবর) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সিফাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে সহসভাপতি হয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাকেরুল ইসলাম এবং প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের নুরে হাসানা ও আসাদুল্লাহ ওয়াকিফ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই বিভাগের নিলাঞ্জলা হালদার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মোস্তাফিজুর রহমান এবং আইন বিভাগের মো. সাখাওয়াত হোসেন। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের মিনহাজুর রহমান। এ ছাড়া কর্মসূচি সম্পাদক হয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের হাসিব সরদার, যুগ্ম কর্মসূচি সম্পাদক হয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মো. ফারহান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের নুসরাত আফিন নাফিয়া এবং ডকুমেন্টেশন সম্পাদক হয়েছেন একই বিভাগের মো. সাবিক। সংখ্যালঘুবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সুজন প্রামাণিক। অন্যান্য পদে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মো. সাইফুল ইসলাম রিয়ন, নারী ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের খাদিজা আক্তার ঈশিতা এবং দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের মো. সিদ্দিকুর রহমান সায়েদ। আইনি সহায়তা ও ভুক্তভোগী সহায়তা সম্পাদক হয়েছেন আইন বিভাগের মো. লিমন মিয়া এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক হয়েছেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শরীফ উদ্দিন সিয়াম। যুগ্ম আইনি সহায়তা ও ভুক্তভোগী সহায়তা সম্পাদক হয়েছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের রাফিয়া রাইহানা রিশা। গবেষণা ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মো. মাহমুদুর রহমান এবং তথ্য অনুসন্ধান ও তদন্ত সম্পাদক হয়েছেন সমাজকর্ম বিভাগের মো. মানিক চৌধুরী। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে কমিটিতে রয়েছেন দর্শন বিভাগের ফাহিমা আক্তার, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শাজিয়া খান, অর্থনীতি বিভাগের অন্তরা আক্তার নদী এবং বাংলা বিভাগের বিন ইয়ামিন। নবনিযুক্ত সভাপতি জুহার আলমাস লাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়, বরং মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চারও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিরাপদ, মানবিক ও বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে তাঁরা কাজ করবেন। পাশাপাশি অন্যায়, অবিচার ও হয়রানির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি, ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের আইনি ও সামাজিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অধিকারবঞ্চিত মানুষের সহায়তায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনকল্যাণমুখী করে তুলতে সবার সহযোগিতায় এইচআরডিএসকে মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী ও অনুকরণীয় সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। আরটিভি/টিআর
জবি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির সভাপতি লাবিব, সম্পাদক রাকিবুল
ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন ইবির ৩৬ শিক্ষার্থী
অনুষদভিত্তিক অবস্থানের ভিত্তিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের ৩৬ শিক্ষার্থী ‘ডিন’স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। আগামী ১৪ অক্টোবর তাদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত তালিকায় আটটি অনুষদের ৩৬ শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের নয় শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মোহাম্মদ আল-ফাইদ ও আলি আহসান মোহাম্মদ জুবায়ের। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নাজমুল ইসলাম। তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আব্দুল্লাহ ইহসান ভুঁইয়া, আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মো. দেলওয়ার হোসেন, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাইমুর রহমান এবং দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নোমান আল হাদি। কলা অনুষদের তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মোসা. তানজিলা খাতুন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন একই বিভাগের মো. হাফিজুল ইসলাম এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন জেবা রহমান। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের চার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের মো. মুনতাকিম রহমান। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন অর্থনীতি বিভাগের মো. টগর আলী ও জেসিয়া খাতুন এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন মোসা. সিরাজুম মুনিরা। আইন অনুষদের তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সাদিয়া। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন একই বিভাগের রাফিয়া খাতুন এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন মোসা. হাফসা খানম সন্ধানী। ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ছয় শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সুমি খাতুন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রত্যয় সানা। তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মো. সিরাজুল ইসলাম ও অনিন্দ সাহা, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ফয়সাল আহমেদ ফাহিম এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মেহেদী হাসান শিকদার। বিজ্ঞান অনুষদের তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন পরিসংখ্যান বিভাগের মো. মেহেদী হাসান লিমন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন একই বিভাগের মো. মাহমুদুল হাসান এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন গণিত বিভাগের আরিফুল ইসলাম। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোসা. মহুয়া রহমান নাইস ও জান্নাতুন নাইম এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আহসান হাবিব। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের মো. মাহফুজুর রহমান এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন নাফিজ রহমান সায়িম। জীববিজ্ঞান অনুষদের তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন ফার্মেসি বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন একই বিভাগের মো. আব্দুল বাশার এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. মেহেদী হাসান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, ডিন’স অ্যাওয়ার্ডে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন এবং তাদের আগামীর জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি। এ পুরস্কার জুনিয়রদের কাছে অনুপ্রেরণা জোগায়। যথাসময়ে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কার প্রদান করা হবে। আরটিভি/টিআর
ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন ইবির ৩৬ শিক্ষার্থী
পোশাকের ট্যাবু ভাঙতে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তা
পোশাকের ভিত্তিতে মানুষকে বিচার করার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো এবং বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানানোর বার্তা নিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’। ‘সংস্কৃতির সমতা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ শোভাযাত্রায় লুঙ্গি, শাড়ি, ফতুয়া ও গামছা পরে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আয়োজকদের মতে, পোশাকের ভিন্নতা নয়, বরং সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও মানুষের সমমর্যাদাই এ আয়োজনের মূল বার্তা। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইকেল মধুসূদন দত্ত কাম একাডেমিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। ইংরেজি বিভাগের ‘লার্নিং ল্যাঙ্গুয়েজ থ্রু লিটারেচার’ কোর্সের উদ্যোগে আয়োজিত প্যারেডটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক হয়ে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সামনে দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবন প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শুরুর স্থানে ফিরে এসে শেষ হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, পোশাক নয়, মানুষের মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলাবোধ দিয়েই তার প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারিত হয়। পোশাক সংস্কৃতির পরিচয় বহন করলেও তা কখনো একজন মানুষের একমাত্র পরিচয় হতে পারে না। এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আয়োজনটির পরিচালক ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, লুঙ্গি শুধু এক টুকরো কাপড় নয়, এটি বাংলার মাঠ-ঘাট ও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যের প্রতীক। সাহিত্য কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; তা মানুষের সংস্কৃতি ও পোশাকেও প্রকাশ পায়। স্কটল্যান্ডের কিল্ট কিংবা জাপানের কিমোনোর মতো লুঙ্গিও বাঙালির পরিচয়ের গর্বিত অংশ। প্যান্ট-শার্টকেই স্মার্টনেসের একমাত্র মাপকাঠি না ভেবে নিজের শিকড় ও ঐতিহ্যকে ধারণ করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আয়োজকদের মতে, সমাজে কিছু পোশাককে অভিজাত এবং সাধারণ মানুষের পরিধেয় পোশাককে তুলনামূলক নিম্নমানের হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে। পোশাককেন্দ্রিক এ ধরনের মানসিকতা ও সামাজিক বিভাজন দূর করতেই ‘সংস্কৃতির সমতা’ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো সংস্কৃতি বা পোশাকই ছোট নয়; সব ঐতিহ্যের প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শনই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মরিয়ম জামিলা, ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফারজানা নাসরিন, প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ড. মুনিবুর রহমান, ড. ফারহানা ইয়াসমিন, ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। আরটিভি/টিআর
পোশাকের ট্যাবু ভাঙতে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তা
বুটেক্সে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ফুটবল ফিয়েস্তা ৩.০’
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) স্পোর্টস ক্লাবের আয়োজনে শুরু হয়েছে আন্তবিভাগীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ‘ফুটবল ফিয়েস্তা ৩.০’। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইটিইটির মহাসচিব এ.এস.এম. হাফিজুর রহমান নিক্সন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ময়দুল ইসলাম মঈদ, বায়োস্ফিয়ার কনসার্নের পরিচালক মঞ্জুস সাত্তার মো. রাসেল, আইটিইটির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এ.এস.এম. আশিক ইস্তিয়াক লিখন এবং আসুটেক্সের ডেপুটি ম্যানেজার মোহাম্মদ মোহেবুল ইসলাম (টিটু)। আইটিইটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ময়দুল ইসলাম মঈদ বলেন, জয়-পরাজয় খেলারই অংশ। খেলাধুলা মানসিক প্রশান্তি ও প্রফুল্লতার অন্যতম মাধ্যম। শিক্ষার্থীদের শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও অংশ নেওয়া উচিত। এর মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও নেতৃত্বের অভাবে অনেকেই কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েন। আইটিইটির মহাসচিব এ.এস.এম. হাফিজুর রহমান নিক্সন বলেন, খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করে না, বরং নেতৃত্বের গুণাবলি ও দলগত কাজের মানসিকতাও গড়ে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দল যেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, সে লক্ষ্যে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন খেলায় ক্রীড়াসুলভ মনোভাব বজায় রাখা এবং প্রতিযোগিতা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি বিভাগেই দল ও ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। কারও কিছু দুর্বলতা থাকতে পারে। তবে ফলাফল যা-ই আসুক, তা মেনে নিতে হবে। এটাই স্পোর্টসম্যানশিপ। হারলাম নাকি জিতলাম, সেটি বড় বিষয় নয়; খেলাটা ভালো হয়েছে কি না, সেটিই মূল বিষয়। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতার ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় গ্রুপ ড্র। এতে ১০টি বিভাগকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন এবং অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘বি’-তে রয়েছে ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট এবং টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি বিভাগের অংশগ্রহণে তৈরি ‘ফুটবল ফিয়েস্তা ৩.০’-এর প্রোমো ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিনিধিরা অতিথিদের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। আরটিভি/টিআর
বুটেক্সে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ফুটবল ফিয়েস্তা ৩.০’
আরও পড়ুন
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ফেরাতে ব্যাকুল শিক্ষার্থীরা
সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভাঙতেই ‘চোখ কপালে’
হাবিপ্রবির রিজেন্ট বোর্ডে যুক্ত হলেন দুই সাংসদ 
মালদ্বীপে যাওয়ার পরদিনই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু