
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীরা পেশার স্বকীয়তা ও অধিকার রক্ষায় তিন দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভেটেরিনারি অনুষদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অধিশাখা থেকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে ‘সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার’ পদে ৪৯২টি পদ সৃষ্টিতে সম্মতি দেওয়া হয়। সরকারি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে এসব পদ রাজস্ব খাতে নিয়োগের জন্য অর্থ বিভাগের সম্মতি প্রদান করা হয়েছে। এ পদে শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) হাবিপ্রবির ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
১. সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার (৯ম গ্রেড) পদে শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ দিতে হবে।
২. ক্যাডার কাঠামোর বাইরে নন-ভেটেরিনারিয়ানদের পদোন্নতি দিয়ে রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানদের সমকক্ষ বা উচ্চতর পদে পদায়নের কোনো সুযোগ ভবিষ্যতে রাখা যাবে না।
৩. প্রতিটি উপজেলায় চারজন করে সার্জনের পদ দ্রুত সৃষ্টি ও নিয়োগ কার্যকর করতে হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও বাংলাদেশ ভেটেরিনারি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন হাবিপ্রবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. রাকিবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি নাজমুল হাসানসহ বিভিএসএর নেতৃবৃন্দ এবং ভেটেরিনারি অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এ সময় অধ্যাপক ড. রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমাদের এই প্রফেশনে পাঁচটি পদ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার (৯ম গ্রেড) এবং সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার (১০ম গ্রেড) পদ ছিল। পরবর্তীতে বাকি পদগুলো বাদ দিয়ে সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার পদকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখন সরকারের কাছে আমাদের দাবি, ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার (৯ম গ্রেড) পদটি আমাদের দিতে হবে। তা না হলে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সহকারী ইঞ্জিনিয়ার পদগুলোকে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার যে নীতিমালা রয়েছে, সেই নীতিমালা অনুসারে সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার পদের যোগ্যতা পরিবর্তন করে ৯ম গ্রেড নির্ধারণ করে সেখানে ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ দিতে হবে।
বিভিএসএর সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তিন দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, আজ আমরা একা নই। আমাদের সঙ্গে ১৭টি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী এবং আমাদের সিনিয়র ভেটেরিনারিয়ানরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা পিছু হটব না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উপজেলায় মাত্র একজন ভেটেরিনারিয়ান দায়িত্ব পালন করেন। একটি উপজেলায় এতগুলো ইউনিয়নের প্রাণিস্বাস্থ্য রক্ষায় একজন ভেটেরিনারিয়ান যথেষ্ট নন। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন টুকু প্রতি উপজেলায় চারজন করে ভেটেরিনারিয়ান নিয়োগের যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমরা তার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।
আরটিভি/এমএম




