
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের বাদ দিয়ে দলীয়করণের চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বৈষম্য বন্ধ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন চাকসু নেতারা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ‘প্ল্যান প্ল্যান কিসের প্ল্যান, ভেরিফিকেশনের মাস্টার প্ল্যান’, ‘আবু সাঈদের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ এবং ‘চাকরি নিয়ে প্রহসন, চলবে না চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ বন কর্পোরেশন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, জুট কর্পোরেশন ও ওভারসিজ এমপ্লয়িজসহ ১১টি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়েছে। এসব পদ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সচিব পদমর্যাদার ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও সেখানে দলীয় ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
একটির পর একটি এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সাঈদ বিন হাবিব। তিনি বলেন, বিএনপি অতীতেও ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সফল হয়নি। বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যতেও এমন কোনো প্রচেষ্টা মেনে নেবে না।
সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে বলে প্রত্যাশা জানিয়ে সাঈদ বিন হাবিব বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যেভাবে চায়, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার আলোকে দেশ পরিচালনা করুন। তাহলে জনগণ ও সব রাজনৈতিক দল সহযোগিতা করবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার একটি কমিটির মাধ্যমে স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিতে চেয়েছিল। ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এখন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সুপারিশ বা গেজেট প্রকাশ না করে ভেরিফিকেশনের অজুহাতে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বারবার মানুষকে ক্ষুব্ধ করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর পর পাওয়া ম্যান্ডেট সরকার সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগাবে বলে প্রত্যাশা জানান চাকসুর এই নেতা।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। এরপর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার গণআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচন দেয়। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সরকারও একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জনগণকে হতাশ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেশের তেল-গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, এসব সংকটে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে চাকরিপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা ও ভাইভায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নতুন নতুন বাধার মুখে পড়ছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত পরীক্ষা ও ভাইভায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের যোগদানের সময় ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে এই পরিকল্পনাও ব্যর্থ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের উদ্দেশে ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে চাইলে ছাত্রসমাজ ও জনগণের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে না। অন্যথায় সরকারকে জনরোষের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
বিক্ষোভ মিছিলে চাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
আরটিভি/এমএম



