
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা আটকে রাখার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে মেডিকেল সেন্টারের সামনের সড়কে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী গোলাম মোর্শেদ রাতুন, জুলকারনাইন মিহাদ ও মো. মাসুম বিল্লাহ।
নবনিযুক্ত উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের আগেই ক্ষমতা প্রদর্শন করে ১ হাজার ৮৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন আটকে রাখার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক বলে উল্লেখ করেন।
মিছিল-পরবর্তী বিক্ষোভ সমাবেশে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জুলকারনাইন মিহাদ বলেন, গতকাল একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। আমাদের নবনিযুক্ত ভিসি ১ হাজার ৮৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন আটকে দিয়েছিলেন। সামনে ধর্মীয় উৎসব রেখে তাদের বেতন-ভাতা আটকে রেখেছিলেন। পরে আজকে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী আন্দোলন করার পর সেই বেতন তারা পান। এ থেকে প্রমাণ হয়, নিযুক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত যে ভিসি চুয়েট ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি, ক্যাম্পাসে না ঢুকেই তিনি এ রকম একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আজকে এই চুয়েট ক্যাম্পাস থেকে আমরা একটি ঘোষণা দিতে চাই। মাননীয় নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম, আপনি আমাদের কথা মন দিয়ে শুনুন—আমরা আপনাকে পরিপূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। আপনি কীভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন, সেটা আমরা দেখে নেব।
এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপককে ই-মেইল করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। ই-মেইলে উপাচার্যের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতনের বিল পাঠানোকে ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ সময় চুয়েট আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৩(৭) উল্লেখ করে উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন আইনত বৈধ নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
উপাচার্যের ওই ই-মেইলের পরই বেতন-ভাতা পরিশোধের কার্যক্রম আটকে যায় বলে জানিয়েছিলেন সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক। তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং সেখান থেকেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।
বেতন-ভাতা আটকে যাওয়ার প্রতিবাদে আজ সকালে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা ঘেরাও করে অবস্থান নেন কর্মচারীরা। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের বেতন পরিশোধ করা হয়। পরে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বেতনও পরিশোধের কথা জানায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
আরটিভি/টিআর




